আজকের খবর ২০২৬

১ জানুয়ারি থেকে ৫টির বেশি সিম বন্ধ হচ্ছে: বিটিআরসি’র নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশে একজন গ্রাহকের নামে নিবন্ধিত অতিরিক্ত সিম কার্ডের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি সিম সচল রাখা যাবে। এর অতিরিক্ত সব সিম পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নতুন নিয়মের মূল বিষয়সমূহ:

বিটিআরসি’র সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, গ্রাহকদের শৃঙ্খলায় আনতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে এই নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সর্বোচ্চ সীমা: ১টি এনআইডি কার্ড দিয়ে সর্বোচ্চ ৫টি সিম রাখা যাবে (আগে এই সীমা ছিল ১৫টি)।

  • কার্যকরী তারিখ: ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

  • বন্ধের প্রক্রিয়া: অতিরিক্ত সিমগুলো একবারে বন্ধ না করে ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে।

  • সতর্কতা: আপনার গুরুত্বপূর্ণ কোনো নম্বর যেন বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য আগেভাগেই অতিরিক্ত সিমগুলো ডি-রেজিস্ট্রেশন বা বাতিল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার নামে কয়টি সিম আছে?

আপনার এনআইডি দিয়ে বর্তমানে কয়টি সিম নিবন্ধিত আছে, তা জানতে নিচের পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন:

  1. আপনার মোবাইলের ডায়াল প্যাডে গিয়ে টাইপ করুন *16001#

  2. আপনার এনআইডি কার্ডের শেষের ৪টি ডিজিট লিখে সেন্ড করুন।

  3. ফিরতি এসএমএসে আপনার এনআইডিতে নিবন্ধিত সব সিমের তালিকা চলে আসবে।

গ্রাহকদের করণীয়:

যদি আপনার নামে ৫টির বেশি সিম নিবন্ধিত থাকে, তবে আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন নম্বরগুলো এখনই সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে ডি-রেজিস্ট্রেশন করুন। এতে আপনার প্রয়োজনীয় নম্বরটি নিরাপদ থাকবে এবং কোনো আকস্মিক বিভ্রাট এড়ানো সম্ভব হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সিম কার্ডের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যক্তিক সিম সংখ্যা কমালে সরকারের লাভ কি?

ব্যক্তিপর্যায়ে সিমের সংখ্যা কমিয়ে আনার পেছনে সরকারের বেশ কিছু কৌশলগত ও নিরাপত্তামূলক উদ্দেশ্য রয়েছে। মূলত ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং টেলিকম খাতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাই এর মূল লক্ষ্য।

নিচে সরকারের সম্ভাব্য লাভের দিকগুলো আলোচনা করা হলো:

১. অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা (Security)

অতিরিক্ত সিম কার্ড অনেক সময় অপরাধীরা ভুয়া বা অন্যের নামে সংগ্রহ করে থাকে। যখন একজন ব্যক্তির নামে সিমের সংখ্যা নির্দিষ্ট (৫টি) করে দেওয়া হয়, তখন:

  • ট্র্যাকিং সহজ হয়: কোনো অপরাধমূলক কাজ হলে অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হয়।

  • বেনামী সিমের ব্যবহার হ্রাস: অতিরিক্ত সিম থাকলে মানুষ অনেক সময় সেগুলো অন্যকে ব্যবহার করতে দেয় বা অযত্নে ফেলে রাখে, যা পরে অপরাধীরা অবৈধ কাজে ব্যবহার করে।

২. সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতি রোধ

বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে যে আর্থিক জালিয়াতি হয়, তার বড় অংশই করা হয় অতিরিক্ত বা ভুয়া নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে। সিম সংখ্যা সীমিত করলে ডিজিটাল জালিয়াতি এবং স্প্যাম কল (Spam calls) অনেকাংশে কমে আসবে।

৩. সিম রিসাইক্লিং ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার

টেলিকম খাতে মোবাইল নম্বর বা ‘নম্বর সিরিজ’ একটি সীমিত সম্পদ।

  • নম্বর সংকট দূর করা: কোটি কোটি সিম যদি অব্যবহৃত অবস্থায় গ্রাহকের হাতে পড়ে থাকে, তবে নতুন গ্রাহকদের জন্য নম্বর বরাদ্দ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

  • অপারেটরের খরচ সাশ্রয়: অব্যবহৃত সিম সচল রাখার জন্য অপারেটরদের কারিগরি খরচ দিতে হয়। সিম সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলে নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সহজ হয়।

৪. রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনা

সিম সংখ্যা সীমিত হলে এবং সিমের সঠিক মালিকানা নিশ্চিত হলে সরকারের কর (Tax) আদায় প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়। সিম পুনঃনিবন্ধন বা নতুন সিম ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা বাড়ে।

৫. ডেটাবেজ আপডেট ও নির্ভুলতা

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ডেটাবেজের সাথে সিম নিবন্ধনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সরকারের জন্য সহজ হয়। এতে সরকারের কাছে দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল কার্যক্রমের একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল চিত্র থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও জননিরাপত্তায় সাহায্য করে।


সহজ কথায়, এটি সরকারের জন্য কোনো সরাসরি অর্থ উপার্জনের পথ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং টেলিকম খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করার একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *