অনলাইনে ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২২

বাংলাদেশে ২০২০ সালের ২২ শে জানুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্টের ব্যবহার শুরু করে। ই পাসপোর্ট ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর ১১৯ তম দেশ।

ই পাসপোর্টের বিভিন্ন সুবিধা নিম্নরূপ:

১. বর্তমান যুগের অন্যতম নিরাপদ পাসপোর্ট।
২. ই পাসপোর্টে একটি ছোট মাইক্রোপ্রসেসর বা চিপ থাকে যেখানে পাসপোর্টের সকল তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে।
৩. ই পাসপোর্ট তুলনামূলক নিরাপদ কারন এতে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকে।
৪. অন্য কোন দেশ ভ্রমণ করতে গেলে দীর্ঘ সময় ধরে পাসপোর্ট পরীক্ষার জন্য সেদেশের ইমিগ্রেশনে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হবে না।

ই পাসপোর্টের এতসব সুবিধার কারণে অনেকেই পুরাতন এমআরপি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট রিনিউ করে ই-পাসপোর্ট নিতে চান। আজ জানবো, অনলাইনে ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম সম্পর্কে।

পাসপোর্ট রিনিউ করার সাধারণ নিয়ম

১. বর্তমানে বাংলাদেশের সকল জেলা পাসপোর্ট অফিসগুলোতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হয়েছে। আপনি নিজেই অনলাইনে আবেদন করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ করার ফরম পুরণ করতে পারবেন।

২. আপনি যদি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করে থাকেন তবে আপনি ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে, আপনার অবস্থানরত দেশের হাই কমিশনের সহায়তায় আপনি শুধুমাত্র MRP পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে তা রিনিউ করতে পারবেন।

অনলাইনে ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়মাবলী

আপনার বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য, আপনি স্বাভাবিকভাবে একটি নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন। এক্ষেত্রে, আবেদনের সময় আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো শুধুমাত্র “ID Documents” অপশন থেকে আপনার আগের “MRP Passport” Option সিলেক্ট করবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিবেন।

এজন্য নিম্নোক্ত ধাপ অনুসরণ করুনঃ

ধাপ ১ঃ “ID Documents” অপশনে আসার পর প্রথমেই, Yes, I have a Machine Readable Passport (MRP) এই অপশনটি সিলেক্ট করুন।

ধাপ ২ঃ What is the reason for your passport request? এখানে থেকে আপনার পাসপোর্ট রিনিউ করার কারণ সিলেক্ট করুন।অর্থাৎ যে কারনে আপনি আপনার পাসপোর্ট রিনিউ করছেন তা থেকে সঠিক কারণটি বাছাই করুন।

  • যদি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তবে EXPIRED সিলেক্ট করুন।
  • যদি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায় তবে LOST/ STOLEN সিলেক্ট করুন।
  • তথ্য পরিবর্তনের জন্য DATA CHANGE সিলেক্ট করুন।
  • পাসপোর্ট নষ্ট বা ছিড়ে গেলে UNUSABLE সিলেক্ট করুন।
  • অন্যান্য কারণে OTHER সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৩ঃ পাসপোর্ট নম্বরটি লিখুন যেমন (EGEG12345678)

ধাপ ৪ঃ আপনার পাসপোর্ট প্রদানের তারিখ ও পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লিখুন। (তারিখগুলো আপনার পাসপোর্টের ছবির পেইজে পাবেন, ওখানে খেয়াল করুন)। বাকি ধাপগুলো স্বাভাবিক ই পাসপোর্ট আবেদনের মতই সহজ। বাকি ধাপগুলো সম্পন্ন করে আপনার আবেদনটি সাবমিট করুন।

এরপর, আপনার পিতা-মাতার তথ্য, স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য, পাসপোর্টের ধরণ ও ডেলিভারীর ধরণ সিলেক্ট করে আবেদনটি সম্পন্ন করুন।

পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১. আবেদনপত্রের সারাংশের প্রিন্ট কপি (অ্যাপয়েন্টমেন্ট সহ)

২. সনাক্তকরণ ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি (জাতীয় পরিচয় পত্র/ অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ)

৩. এ চালান/ মানি অর্ডার/ ব্যাংক সার্টিফাইড চেক

৪. পূর্ববর্তী পাসপোর্ট এবং ডাটা পেজের প্রিন্ট কপি

৫. সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে GO/NOC (যদি থাকে)

৬. তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

৭. Registration Form বা আপনার আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি (ঐচ্ছিক )

পাসপোর্ট রিনিউ ফরম জমা দেয়ার নিদের্শনা

অনলাইনে রিনিউ আবেদন করার পর, আবেদনের কপি A4 সাইজ কাগজে প্রিন্ট করুন। প্রিন্ট অবশ্যই উভয় পৃষ্ঠায় করবেন।

পাসপোর্ট রিনিউ ফি পরিশোধ করুন।

আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।

  • Passport Re-issue এর ক্ষেত্রে মূল Passport প্রদর্শন করতে হবে।
  • হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।
  • পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে হবে। পুরাতন পাসপোর্টের 
  • ফটোকপি, জিডি কপিসহ আবেদন দাখিল করতে হবে।

পাসপোর্ট রিনিউ ফি জমাদানের ক্ষেত্রেঃ

ই-পাসপোর্টের ফি সব ব্যাংকে জমা দান করা যায় না। শুধুমাত্র পাসপোর্ট অফিসের নির্ধারিত করা নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের সব শাখায় পরিশোধ করা যায়। ব্যাংকগুলোর নাম হলো- সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া। ফি জমা দেওয়ার সময় ই-পাসপোর্টের জন্য করা আবেদনপত্রের Color Print Copy অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে।

পাসপোর্ট রিনিউ ফি অনলাইনে পরিশোধের ক্ষেত্রেঃ

আপনার যদি মাস্টারকার্ড (Master Card), ভিসা কার্ড (visa), কিউ-ক্যাশ (Q-Cash), বিকাশ, ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট থাকে তবে সহজেই অনলাইনে ই পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন, এতে আপনার সময় ও শ্রমেরও সাশ্রয় হয়। অনলাইনে ই-পাসপোর্টের ফি পরিশোধ করার আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এতে পাসপোর্ট ফি-এর পরিমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করা হয়। এছাড়া, সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের সাহায্যেও অনলাইনে ই-পাসপোর্টের ফি জমা করা যাবে।

ই-পাসপোর্ট নবায়ন করার খরচ

  • নতুন ই-পাসপোর্ট তৈরী ও এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে রিনিউ করার খরচ অভিন্ন বা একই।
  • পাসপোর্ট রিনিউ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ প্রশ্ন
  • পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত টাকা লাগে?
  • ই-পাসপোর্টের কোন রিনিউ ফি নেই, আপনাকে নতুন ই-পাসপোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। সর্বনিম্ন ই পাসপোর্ট ফি ভ্যাট সহ ৪০২৫ টাকা (৫ বছর-৪৮ পাতা)। এছাড়া কোন খরচ নেই।
  • পাসপোর্ট সাধারণ ডেলিভারিতে রিনিউ করতে কত দিন লাগে?
  • সাধারণ ১৫-২০ দিন লাগতে পারে।

কিভাবে পাসপোর্ট রিনিউ করব?

পূর্ববর্তী পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে অনলাইনে একটি নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন করার সময় পাসপোর্ট রিনিউ করতে পারবেন। সরকারি চাকরীজীবিরা অবশ্যই NOC সংগ্রহ করে রিনিউ আবেদনের করবেন।

কত দিন আগে বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ করা যাবে?

এমন কোন বিধি-নিষেধ নেই। MRP পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা অবস্থায়ও পাসপোর্টের রিনিউ আবেদন করা যায়। যেহেতু পাসপোর্ট প্রিন্ট হতে সময় লাগে, এবং বিদেশে অবস্থানরত অ্যাম্বাসীতে পৌঁছাতেও সাধারণত সময় লাগে তাই আপনার ভিসা বাতিল হওয়ার মত সমস্যায় যাতে না পড়তে হয় এজন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে কমপক্ষে ৬ মাস পূর্বে রিনিউ আবেদন করবেন।

জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট নবায়ন করা যাবে কিনা?

আবেদনকারীর বয়স ১ দিন থেকে ২০ বছরের মধ্যে হলে তবেই কেবল জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ই পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারবেন। ২০ বছরের অধিক হলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে এমআরপি পাসপোর্টে নবায়ন করতে পারবেন।

এমআরপি পাসপোর্টের মেয়াদ বাকি থাকলে সেটি কি রিনিউ করার পরে ই-পাসপোর্টের মেয়াদের সাথে যুক্ত হবে?

উত্তরঃ না, ই-পাসপোর্টের মেয়াদ একদম শুরু থেকেই ৫ বছর অথবা ১০ বছর হিসাব করা হবে।

পাসপোর্ট রিনিউ করার সময় স্থায়ী ঠিকানা কি পরিবর্তন করা যাবে?

উত্তরঃ না, শুধুমাত্র বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করতে চাইলে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখিয়ে পরিবর্তন করা যাবে।

অনলাইনে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করলে তার রশিদ কিভাবে প্রদর্শন করবো?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে, ফি পরিশোধের ট্রানজিশন আইডি ব্যবহার করতে হবে।

ছোট বাচ্চাদের পাসপোর্ট নেওয়ার জন্যও কি বাচ্চাদেরকেই সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে?

উত্তরঃ ১১ বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের পাসপোর্ট চাইলে তার পিতামাতা বা বৈধ অভিভাবক সংগ্রহ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে পিতামাতা বা অভিভাবককে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র, ই-পাসপোর্ট সংগ্রহের রশিদ ও পুরাতন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হবে।

কেউ যদি অসুস্থ থাকে এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে যেতে না পারে, তার করণীয় কি?

উত্তরঃ কেউ পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে উপস্থিত হতে না পারলে তার প্রতিনিধি তা সংগ্রহ করতে পারবে। এজন্য তাকে একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের আবেদন পত্র লিখতে হবে। এরপর অন্য কোন ব্যক্তি ঐ ক্ষমতা হস্তান্তর পত্রসহ আবেদনকারীর পুরাতন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, আবেদনকারীর NID, ই-পাসপোর্ট সংগ্রহের রশিদ প্রদর্শন করে পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য অনলাইনে না থাকলেও কি আবেদন করা যাবে?

উত্তরঃ না, যাবে না।

বিদেশের দূতাবাস থেকে কি ২ দিনের অতি জরুরি ই-পাসপোর্ট নেওয়া যাবে?

উত্তরঃ না, দূতাবাস থেকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। দেশের অভ্যন্তরীন জনগন শুধু ২ দিনে পাসপোর্ট পাওয়ার সুবিধা পেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *