বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বিদেশ গমন সহজ করতে এবং প্রবাসফেরত কর্মীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি মালিকানাধীন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB)। সরকার নির্ধারিত সাশ্রয়ী সুদে এবং সহজ শর্তে ৪টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ঋণ দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং অভিবাসন ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষের কাছে এই লোন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
১. বিদেশ গমনে মিলছে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ
যাদের বিদেশে যাওয়ার সব বৈধ কাগজপত্র (ভিসা, পাসপোর্ট ও চুক্তিপত্র) থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে যেতে পারছেন না, তাদের জন্য রয়েছে ‘অভিবাসন ঋণ’। গন্তব্য দেশভেদে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। ৯% সুদে প্রাপ্ত এই ঋণের কিস্তি শুরু হয় বিদেশে পৌঁছে আয় শুরু করার পর থেকে।
২. প্রবাসফেরতদের জন্য ‘উদ্যোক্তা ঋণ’
বিদেশে কাজ শেষে দেশে ফিরে যারা বেকার বসে না থেকে ব্যবসা করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ‘প্রবাসফেরত উদ্যোক্তা ঋণ’।
পরিমাণ: ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা।
সুবিধা: ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদী এই ঋণে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুদের ছাড়।
প্রয়োজনীয়তা: ব্যবসার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং প্রবাসে থাকার প্রমাণপত্র।
৩. ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পারিবারিক সহায়তা
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য রয়েছে ‘প্রবাসী স্বজন ঋণ’। এছাড়া কৃষি, হস্তশিল্প বা ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ‘উদ্যোক্তা ঋণ’ ক্যাটাগরিতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকটি। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পরিবারকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদন করতে যা যা প্রয়োজন
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন পেতে গ্রাহককে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র জমা দিতে হয়:
কাগজপত্র: আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা কপি, চাকরির চুক্তিপত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট।
পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন এবং আবেদনকারীর ২ কপি ছবি।
অতিরিক্ত: বিএমইটি (BMET) বা বোয়েসেল (BOESL) থেকে প্রাপ্ত ট্রেনিং সনদ এবং একজন নির্ভরযোগ্য জামিনদারের তথ্য।
সুবিধা ও বিশেষত্ব
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় এই ব্যাংকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। বেসরকারি ব্যাংক বা দাদন ব্যবসায়ীদের তুলনায় এখানে সুদের হার অনেক কম এবং পরিশোধের প্রক্রিয়াও গ্রাহকবান্ধব।
বিশেষ নোট: ঋণের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিরা নিকটস্থ উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও বিস্তারিত তথ্যের জন্য ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট pkb.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার: সঠিক নথিপত্র এবং স্বচ্ছ পরিকল্পনার মাধ্যমে এই ঋণ গ্রহণ করে হাজারো বাংলাদেশি যুবক তাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাচ্ছেন। দালালের খপ্পরে না পড়ে সরকারি এই সুবিধা গ্রহণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
