ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জুন মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন ঘোষণায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১,৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের আন্তর্জাতিক চুক্তিমূল্য (Saudi CP) এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে জুন মাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। মে মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ছিল ১,৯৪০ টাকা। নতুন ঘোষণায় তা ৫৫ টাকা কমে ১,৮৮৫ টাকায় নেমে এসেছে। ছবিতে থাকা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী ৫.৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮৬৪ টাকা, ১৫ কেজির ২,৩৬৩ টাকা, ১৮ কেজির ২,৮৩৭ টাকা, ২০ কেজির ৩,১৪১ টাকা, ২৫ কেজির ৩,৯২৭ টাকা, ৩০ কেজির ৪,৭১২ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,০৬৮ টাকা।
বিইআরসি জানিয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির সমন্বিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৭ টাকা ০৬ পয়সা। এছাড়া রিটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহকৃত তরল এলপিজির মূল্য প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ৩১ পয়সা এবং অটোগ্যাসের মূল্য প্রতি লিটার ৮৬ টাকা ৫৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা এবং সৌদি সিপি কমে যাওয়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। ফলে জুন মাসে ভোক্তারা কিছুটা মূল্যছাড়ের সুবিধা পাচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় মূল্য বৃদ্ধি পেলে আগামী মাসগুলোতে আবারও দাম সমন্বয় হতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে ১২ কেজি এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায় এবং মে মাসে তা ১,৯৪০ টাকায় স্থির রাখা হয়েছিল। জুনে ৫৫ টাকা কমার ফলে গৃহস্থালি পর্যায়ে এলপিজি ব্যবহারকারী লাখো পরিবার কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
