গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-কে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ‘তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে । জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আজ এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন ও জারি করেন ।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৯ সালের মূল আইনের ধারা ২, ৬ এবং ২৭-এ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে ।
১. ‘তথ্য’-এর সংজ্ঞায় পরিবর্তন ও দাপ্তরিক নোট শিট বাদ
অধ্যাদেশের ধারা ২ অনুযায়ী, তথ্যের সংজ্ঞায় (দফা ‘চ’) আধুনিক ও ডিজিটাল মাধ্যমগুলোকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । এখন থেকে তথ্য বলতে কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত স্মারক, মানচিত্র, চুক্তি, অডিও-ভিডিও, আলোকচিত্র, ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত ইনস্ট্রুমেন্ট এবং কম্পিউটার বা ডিভাইস দ্বারা তৈরি যে কোনো উপাদানকে বোঝাবে ।
তবে এই সংশোধনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা যোগ করা হয়েছে:
“দাপ্তরিক নোট শিট বা নোট শিটের প্রতিলিপি তথ্যের অন্তর্ভুক্ত হইবে না” । অর্থাৎ, কোনো সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা দাপ্তরিক মতামত বা নোট এখন থেকে আর তথ্য অধিকার আইনের আওতায় চাওয়া যাবে না।
২. স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও জনমত যাচাইয়ে কড়াকড়ি
মূল আইনের ধারা ৬ সংশোধনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ: প্রত্যেক কর্তৃপক্ষকে তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত, অডিট প্রতিবেদন, চুক্তি এবং সকল প্রকার ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে ।
সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা: গুরুত্বপূর্ণ কোনো নীতি নির্ধারণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তার সমর্থনে যুক্তি, কারণ এবং জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ও কার্যবিবরণী ব্যাখ্যা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ।
ডিজিটাল তথ্য ভাণ্ডার: তথ্য কমিশন এখন থেকে প্রবিধানের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় ‘তথ্য ভাণ্ডার’ তৈরি করবে । পাশাপাশি সকল প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে ।
৩. জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি
তথ্য প্রদানে বাধা দেওয়া বা আইন লঙ্ঘনের শাস্তিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ধারা ২৭ সংশোধনের মাধ্যমে জরিমানার অংক দ্বিগুণ করা হয়েছে:
দৈনিক জরিমানার হার ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে ।
মোট জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে ।
উপসংহার: সরকারের এই নতুন অধ্যাদেশটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও নোট শিটকে তথ্যের আওতা বহির্ভূত রাখার বিষয়টি নিয়ে জনমনে আলোচনার অবকাশ রয়েছে ।

