জমি কেনাবেচা, পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা কিংবা সীমানা নির্ধারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জমির সঠিক মাপ জানা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষই শতাংশ, কাঠা, বিঘা বা একরের হিসাব জটিল মনে করেন। সঠিক হিসাব জানা না থাকায় অনেক সময় সাধারণ মানুষ দালালের খপ্পরে পড়েন অথবা ভুল পরিমাপের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অথচ সামান্য কিছু প্রাথমিক ধারণা থাকলে নিজেই নিজের জমির হিসাব বের করা সম্ভব।
শুরুটা হোক শতাংশ (Decimal) দিয়ে বাংলাদেশে জমির পরিমাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সর্বজনীন একক হলো ‘শতাংশ’। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এর পরিমাপ কিছুটা ভিন্ন হলেও আমাদের দেশে সাধারণভাবে ৪৩৫.৬ বর্গফুট জায়গাকে ১ শতাংশ বলা হয়। মূলত জমির অন্য সব হিসাব এই শতাংশের ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে।
শহরাঞ্চলে জনপ্রিয় ‘কাঠা’র হিসাব শতাংশের পরেই আসে কাঠার গুরুত্ব। বিশেষ করে ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে প্লট কেনাবেচায় কাঠার হিসাব বেশি প্রচলিত। সাধারণ গাণিতিক হিসেবে ১.৬৫ শতাংশে ১ কাঠা ধরা হয়। বর্গফুটের হিসেবে যা প্রায় ৭২০ বর্গফুট। অর্থাৎ আপনার কাছে যদি ১.৬৫ শতাংশ জমি থাকে, তবে আপনি বলতে পারেন আপনার জমির পরিমাণ ১ কাঠা।
গ্রামাঞ্চলে জমির মানদণ্ড ‘বিঘা’ বড় জমি বা কৃষি জমির ক্ষেত্রে ‘বিঘা’ শব্দটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত ২০ কাঠায় ১ বিঘা ধরা হয়। শতাংশের হিসেবে ৩৩ শতাংশ জমিকে ১ বিঘা বলা হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, অঞ্চলভেদে বিঘা বা কাঠার মাপে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। স্থানীয় ভূমি অফিসের নিয়ম অনুযায়ী এই তারতম্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
এক নজরে বড় মাপের হিসাব: একর (Acre) বিশাল আয়তনের জমির ক্ষেত্রে ‘একর’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে সরকারি খতিয়ান বা বড় প্রজেক্টে এই একক দেখা যায়। ১০০ শতাংশে হয় ১ একর। সহজভাবে বলতে গেলে, ৩ বিঘার কিছু বেশি জমি মিলে ১ একর হয়।
সচেতন ক্রেতার করণীয় ১. নথি যাচাই: জমি কেনা বা বিক্রির আগে দলিলে উল্লিখিত বর্গফুটকে উপরোক্ত এককগুলো দিয়ে ভাগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন। ২. আধুনিক প্রযুক্তি: জমি পরিমাপের সময় আমিন বা সার্ভেয়ারের ওপর নির্ভর করলেও আধুনিক ডিজিটাল ক্যালকুলেটর বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজেই ক্রস-চেক করুন। ৩. রেকর্ড রাখা: নিজের কাছে একটি বেসিক চার্ট বা তথ্যপত্র রাখুন যেন কেউ আপনাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করতে না পারে।
ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, কষ্টার্জিত টাকায় কেনা এক ইঞ্চি জমিও যেন হিসাবের বাইরে না থাকে। তাই সচেতন ক্রেতা হিসেবে নিজের অধিকার বুঝে নিতে সঠিক পরিমাপ জানার কোনো বিকল্প নেই।
