দেশের স্বাস্থ্যসেবার প্রাণকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রোগীদের শৃঙ্খলার স্বার্থে আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সারা দেশের তৃণমূল স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিনের বিরাজমান নিরাপত্তাহীনতা দূর হবে এবং সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারকরণ
উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে প্রায়ই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় সেবা বিঘ্নিত হয়। এই সংকট নিরসনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনসার সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে। এর ফলে হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি রোগীদেরও নিরাপদ পরিবেশে সেবা গ্রহণ নিশ্চিত হবে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রত্যাশা ও দাবি
হাসপাতাল পর্যায়ে আনসার নিয়োগের এই সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরে মাঠ পর্যায়ের রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমে নিয়োজিত কয়েক হাজার কর্মীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে যারা সরাসরি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন, তাদের পেশাগত মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে:
স্বাস্থ্য সহকারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক
স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক
ইপিআই টেকনিশিয়ান ও ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট
স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর
রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম শক্তিশালী করার আহ্বান
মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা মূলত টিকাদান (EPI), স্যানিটেশন, এবং বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের মতো মৌলিক কাজগুলো করে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেবল হাসপাতাল-নির্ভর নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে।
তৃণমূল পর্যায়ের এই কর্মীদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাতা এবং দীর্ঘ বছরের বকেয়া দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে উপজেলা থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
উপসংহার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগের মাধ্যমে সরকার যে সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে, তার ধারাবাহিকতা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ক্ষেত্রেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এই বিশাল সংখ্যক জনবলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
