দেশের ব্যাংকিং খাতের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লভ্যাংশ (Dividend) ঘোষণার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে লভ্যাংশ ঘোষণার পরবর্তী ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
গত ১৫ মার্চ, ২০২৬ (১ চৈত্র, ১৪৩২) তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুপারভাইজরি পলিসি এন্ড কোঅর্ডিনেশন ডিপার্টমেন্ট’ (এসপিসিডি) থেকে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার (নং-০৫) জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহ:
সার্কুলারে জানানো হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের বিষয়টি বিবেচনা করে এই নীতিমালা করা হয়েছে। নির্দেশনার মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা: কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ছক (সংযোজনী-ক) মোতাবেক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
কাকে জমা দিতে হবে: প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে। এটি ‘ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট’ এবং ‘সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট এন্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট’-এ দাখিল করতে হবে।
তদারকি জোরদার: ব্যাংকিং তদারকি কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ‘রিস্ক বেইজড সুপারভিশন’ (RBS) বা ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী নীতিমালা বহাল: গত ১৩ মার্চ, ২০২৫ তারিখে জারি করা ‘ডিওএস সার্কুলার নং-০১’-এর অন্যান্য নির্দেশনাবলি অপরিবর্তিত ও কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কেন এই কড়াকড়ি?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূলত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকগুলো যাতে তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রতিবেদন চাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা যাচাই করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসপিসিডি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

