সরকারি খাস জমি এবং স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ অবকাঠামো থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও আইনানুগ করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জাফর আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট ৫টি ধাপ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
আইনি সীমাবদ্ধতা ও সতর্কবার্তা
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, The Government & Local Authority Lands & Buildings (Recovery of Possession) Ordinance, 1970 অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শুনানির জন্য নোটিশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের নেই। যদি এসি ল্যান্ড এমন কোনো নোটিশ প্রদান করেন, তবে তা আইনত অগ্রহণযোগ্য হবে এবং দেওয়ানি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
উচ্ছেদের ৫টি বাধ্যতামূলক ধাপ
এখন থেকে যেকোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করার আগে প্রশাসনকে নিম্নোক্ত প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে হবে:
১. তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন: ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে অবৈধ দখলদার থাকলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে জমির তফসিল, খতিয়ানের কপি, ট্রেসম্যাপ এবং অবৈধ স্থাপনার বিবরণ (পাকা/আধাপাকা/কাঁচা) সহ বিস্তারিত প্রতিবেদন এসি ল্যান্ডকে প্রদান করতে হবে।
২. মামলা রুজু: এসি ল্যান্ড প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী এস.এ শাখায় একটি উচ্ছেদ মামলা রুজু করবেন।
৩. জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত: মামলা রুজুর পর জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নথিপত্র পর্যালোচনা করে উচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আইনের ৫(১) ধারা মোতাবেক অবৈধ দখলদারকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ দেওয়া হবে।
৪. ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ: নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি জমি খালি না করা হয়, তবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে।
৫. চূড়ান্ত প্রতিবেদন: উচ্ছেদ কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর দখল বুঝে নিয়ে এসি ল্যান্ড একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন, যা নথিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
প্রশাসনের অবস্থান
এই নির্দেশনার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কোনো ধরনের আইনি শিথিলতা দেখানো হবে না। তবে কোনো একক কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্তে যেন জনগণের হয়রানি না হয় এবং আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই ধাপগুলো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে এই নির্দেশনা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অবৈধ দখলদারদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

