বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (বিকেকেবি) এর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে কল্যাণভাতার আবেদন দ্রুততম সময়ে অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ডিজিটাল সেবা প্রাপ্তি আরও সহজতর হয়েছে। গত ০৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে সর্বশেষ যাচাই-বাছাই শেষে একটি কল্যাণভাতার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
অনুমোদনের পর সেবাগ্রহীতাদের মনে প্রশ্ন থাকে— এই অর্থ হাতে পেতে কতদিন সময় লাগবে কিংবা টাকা তোলার জন্য অফিসে গিয়ে কোনো চেক সংগ্রহ করতে হবে কি না।
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় সেবা সেল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ডিজিটাল সিস্টেমে সেবাগ্রহীতাদের আর কোনো দাপ্তরিক ভোগান্তির শিকার হতে হবে না। কল্যাণভাতা বা যেকোনো অনুদানের অর্থ সম্পূর্ণ ক্যাশলেস পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
টাকা পেতে কতদিন সময় লাগবে?
বোর্ডের সিটিজেন চার্টার (Citizen Charter) ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের পর পরবর্তী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাধারণত ব্যাংকিং চ্যানেল এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) প্রক্রিয়াকরণের জন্য অনুমোদনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে যায়।
সম্পূর্ণ অর্থ আসবে ইএফটি (EFT) এর মাধ্যমে
বিকেকেবি-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কল্যাণভাতার অর্থ গ্রহণের জন্য কোনো গ্রাহককে সশরীরে অফিসে এসে চেক গ্রহণ করতে হবে না। অনুমোদিত অর্থ সরাসরি আবেদনকারীর ফর্মে উল্লিখিত ব্যাংক হিসাবে ইএফটি (EFT) এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার সাথে সাথে গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ক্ষুদেবার্তার (SMS) মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পেমেন্ট অ্যাডভাইস ও মাসিক ভাতার নিয়ম
মাসিক কল্যাণভাতা প্রদানের জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট পেমেন্ট অ্যাডভাইস তালিকা প্রস্তুত করে সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় প্রেরণ করে। সেখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতি মাসের ভাতা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে প্রতি মাসের কল্যাণভাতা তোলার জন্য আলাদা কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।
কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের এই যুগান্তকারী ও ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে বরিশাল বিভাগের হাজারো সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবার কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী বা দাপ্তরিক জটিলতা ছাড়াই ঘরে বসে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। যেকোনো অনুমোদিত আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ($welfare.bkkb.gov.bd$) থেকেও ট্র্যাক করা সম্ভব।
