সরকারি নিউজ আপডেট

নতুন পে-স্কেলে ‘ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর’ পদ্ধতিতে পে-ফিক্সেশন: কীভাবে নির্ধারিত হবে নতুন বেতন?

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সম্ভাব্য নতুন জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা যতই এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে বেতন নির্ধারণ বা ‘পে-ফিক্সেশন’-এর বিভিন্ন পদ্ধতি। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতিতে পে-ফিক্সেশন, যার মাধ্যমে বর্তমান বেতনকে নতুন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে নির্ধারণ করা হবে নতুন মূল বেতন (বেসিক)।

সম্প্রতি প্রচারিত একটি ব্যাখ্যামূলক তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, কীভাবে একজন কর্মকর্তার বর্তমান স্কেল ও ইনক্রিমেন্টের ভিত্তিতে নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা যেতে পারে।

কী এই ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি?

ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতিতে প্রথমে কর্মচারীর বর্তমান বেসিক বেতনকে তার গ্রেডের প্রারম্ভিক স্কেল দিয়ে ভাগ করে একটি ফ্যাক্টর বা অনুপাত নির্ধারণ করা হয়। এরপর সেই অনুপাতকে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে গুণ করে নতুন বেসিক বেতন হিসাব করা হয়।

এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মচারীর চাকরিজীবনে অর্জিত ইনক্রিমেন্ট ও বেতনগত অবস্থানকে নতুন স্কেলেও বজায় রাখা।

উদাহরণে পে-ফিক্সেশন

তথ্যচিত্র অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা:

  • গ্রেড: ১০
  • বর্তমান স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন: ১৬,০০০ টাকা
  • প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট: ১টি
  • বর্তমান বেসিক বেতন: ১৬,৮০০ টাকা

এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ণয় করা হবে:

১৬,৮০০ ÷ ১৬,০০০ = ১.০৫

অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মূল স্কেলের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি অবস্থানে রয়েছেন।

ধরা যাক, নতুন পে-স্কেলে একই গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২,০০০ টাকা। তাহলে নতুন বেতন হবে:

৩২,০০০ × ১.০৫ = ৩৩,৬০০ টাকা

অর্থাৎ নতুন স্কেলে কর্মকর্তার হিসাবকৃত বেসিক দাঁড়াবে ৩৩,৬০০ টাকা

রাউন্ডিং করে নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত বেতন

পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে কেবল হিসাবকৃত বেতনই চূড়ান্ত হবে না। নতুন স্কেলের বেতন সারণিতে (Pay Matrix বা Pay Chart) বিদ্যমান ধাপগুলোর মধ্যে নিকটতম উচ্চ ধাপে (Next Higher Stage) বেতন নির্ধারণ করা হবে।

ফলে ৩৩,৬০০ টাকার সমপরিমাণ বা এর চেয়ে সামান্য বেশি যে ধাপটি নতুন বেতন সারণিতে থাকবে, সেটিকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নতুন বেসিক হিসেবে গণ্য করা হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পদ্ধতি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি অনুসরণ করলে—

  • চাকরিজীবনের অর্জিত ইনক্রিমেন্টের মূল্য সংরক্ষিত থাকে।
  • একই গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কমে।
  • নতুন স্কেলে রূপান্তরের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
  • দীর্ঘদিন চাকরিরত কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পান।
  • পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সহজ ও গণনাযোগ্য হয়।

সরকারি কর্মচারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু

নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা চলমান থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পে-ফিক্সেশন পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান বেসিক, প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট এবং নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের ভিত্তিতে কীভাবে নতুন বেতন নির্ধারিত হবে—তা এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং অনুমোদিত পে-চার্ট প্রকাশের পরই নতুন পে-ফিক্সেশন পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক রূপ স্পষ্ট হবে। ততদিন পর্যন্ত বিভিন্ন উদাহরণ ও প্রস্তাবিত মডেল সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আলোচনা ও বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *