একটি নবজাতকের পৃথিবীতে আগমন যেমন পরিবারের জন্য আনন্দের, তেমনই প্রথম কিছু দিন মা ও শিশুর জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। বর্তমান নিয়মে মায়েরা মাতৃত্বকালীন ছুটি পেলেও, বাবার জন্য নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ছুটির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে—”মাতৃত্বকালীন ছুটি যখন রয়েছে, তখন পিতৃত্বকালীন ছুটি কেন থাকবে না?” সুস্থ ও সুন্দর আগামী গঠনে এবং ন্যায্য অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সর্বস্তরে যুক্তিসঙ্গত পিতৃত্বকালীন ছুটি চালু করা এখন সময়ের দাবি।
সম্প্রতি এই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেন এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও জনমত তৈরি হতে দেখা গেছে, যার একটি চিত্র ‘1.jfif’ ফাইলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কেন পিতৃত্বকালীন ছুটি জরুরি?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান আলোচনা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করে পিতৃত্বকালীন ছুটির পক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি উঠে এসেছে:
যৌথ দায়িত্ব ও সুস্থ পরিবার গঠন: একটি নবজাতকের যত্ন নেওয়া ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে পরিবারের পাশে থাকা শুধু মায়ের একার নয়, বাবারও সমান দায়িত্ব। সুস্থ পরিবার গঠনে মা-বাবা—উভয়ের অংশগ্রহণই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মায়ের মানসিক ও শারীরিক স্বস্তি: সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীর পুনর্গঠন এবং প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা (Postpartum Depression) কাটিয়ে উঠতে স্বামীর সার্বক্ষণিক সহযোগিতা মানসিক বুস্টার হিসেবে কাজ করে।
বাবার সাথে সন্তানের আত্মিক বন্ধন: জীবনের প্রথম দিনগুলোতেই শিশুর সাথে বাবার চমৎকার একটি আত্মিক বন্ধন বা ‘বন্ডিং’ তৈরি হয়, যা শিশুর ভবিষ্যৎ মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
লিঙ্গ সমতা ও ন্যায্য অধিকার: কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমতা নিশ্চিত করতে এবং পারিবারিক দায়িত্ব কেবল নারীর কাঁধেই অর্পণ করার সনাতনী মানসিকতা বদলাতে ‘পিতৃত্বকালীন ছুটি’ একটি বড় বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হতে পারে।
“ন্যায্য অধিকার, সমান সুযোগ, সুন্দর আগামী”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সোচ্চার দাবি অনুযায়ী, সন্তান জন্মের পর বাবার জন্যও একটি যুক্তিসঙ্গত মেয়াদের বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এটি কেবল একজন চাকুরিজীবীর অধিকার নয়, বরং একটি শিশুর সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অধিকারও বটে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্বের বহু দেশ, এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী কিছু দেশেও পিতৃত্বকালীন ছুটির (Paternity Leave) বিধান রয়েছে। আমাদের দেশে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি সন্তোষজনক হলেও, পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টি এখনও নীতিগত পর্যায়ে উপেক্ষিত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতন নাগরিক ও চাকরিজীবীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনদাবির এই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতের কর্মসংস্থান বিধিমালায় পিতৃত্বকালীন ছুটি অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা কর্মক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের প্রতি অনুগত বাড়াবে এবং একটি আদর্শ মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
