আজকের খবর ২০২৬

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা: সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের ঘন ঘন বদলি-পদায়নে লাগাম, একই কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর রাখার নির্দেশ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসনে কর্মরত সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের ঘন ঘন বদলি বা পদায়ন নিরুৎসাহিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন এ নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশাসনিক বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের নিজ নিজ কর্মস্থল বা পদায়নকৃত কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলি বা পদায়ন করা যাবে না।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনার আলোকে জারি করা হয়েছে।

কেন এ নির্দেশনা?

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসনের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার্ভেয়ার ও কানুনগো পদ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে এসব কর্মকর্তাকে ঘন ঘন বদলি বা পদায়ন করার ফলে জনগণ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ভূমিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একটি এলাকায় দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় জমি জরিপ, রেকর্ড সংশোধন, পরিমাপসহ বিভিন্ন সেবার কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে।

কমপক্ষে দুই বছর একই কর্মস্থলে থাকার ওপর গুরুত্ব

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের কমপক্ষে দুই বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা থাকলে ভূমি প্রশাসনের সেবার মান উন্নত হবে এবং জনগণ দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন।

এছাড়া অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বদলির আবেদন করা চাকরি বিধিবিধানের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রশাসনিক বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বদলি নয়

ভূমি মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ মাঠ প্রশাসনে কর্মরত সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত স্ব-স্ব কর্মস্থল বা পদায়নকৃত কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলি বা পদায়ন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মাঠ পর্যায়ের ভূমি প্রশাসনে স্থিতিশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, ফলে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং সাধারণ জনগণের ভোগান্তিও কমবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ মাঠ প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *