BD Govt Service Rules

সরকারি অফিসের সময় এখন ৯টা–৪টা, ৯টা–৫টা নয়: সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে

সরকারি অফিসের সময় নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে—অফিস কি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, নাকি ৫টা পর্যন্ত? সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি বেশ পরিষ্কার। বর্তমানে সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রচলিত ৯টা–৫টার পরিবর্তে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে ৯টা–৪টা করা হয়েছে।

সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন কোনটি?

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখা থেকে ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘আগামী ০৫.০৪.২০২৬ তারিখ হইতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নূতন সময়সূচি নির্ধারণ’ শিরোনামে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ওই আদেশটি সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অফিস চলবে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

এর আগে সরকারি অফিসের স্বাভাবিক সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। নতুন সিদ্ধান্তে কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমিয়ে ৯টা–৪টা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সে সময়কার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

তাহলে বর্তমানে ৯টা–৪টা নাকি ৯টা–৫টা?

সরকারি অফিসের ক্ষেত্রে উত্তর: ৯টা–৪টা।

অর্থাৎ সাধারণ সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি অফিসের নির্ধারিত অফিস সময় বর্তমানে—

সকাল ৯:০০টা → বিকেল ৪:০০টা

এখানে ৯টা–৫টা সময়কে বর্তমান সরকারি অফিস সময় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না, যতক্ষণ না নতুন কোনো সরকারি আদেশ বা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সময় পরিবর্তন করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ৪ এপ্রিলের ওই প্রজ্ঞাপনটি এখনো সংশ্লিষ্ট আদেশ হিসেবে রয়েছে এবং ওয়েবসাইটটি ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখেও হালনাগাদ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

৯টা–৪টা হলেও ৭টার আগে বের হওয়া যায় না—কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা

সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় ৪টা পর্যন্ত হলেও বাস্তবে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে অফিস থেকে বের হতে আরও সময় লেগে যায়। বিশেষ করে দিনের শেষ সময়ে ফাইল নিষ্পত্তি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা, সভা, জরুরি কাজ, নথি অনুমোদন, হিসাব-নিকাশ কিংবা দাপ্তরিক অন্যান্য কাজ থাকলে ৪টার পরও অফিসে অবস্থান করতে হয়।

ফলে কর্মীদের একটি অংশের প্রশ্ন—কাগজে-কলমে অফিস সময় ৯টা–৪টা হলেও বাস্তবে যদি ৬টা-৭টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়, তাহলে নির্ধারিত অফিস সময়ের সুফল কতটা পাওয়া যাচ্ছে?

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। অফিস সময় ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকার অর্থ এই নয় যে ৪টার পর কোনো জরুরি বা অসমাপ্ত দাপ্তরিক কাজ থাকলে কর্মচারী কোনো অবস্থাতেই অফিসে থাকতে পারবেন না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দাপ্তরিক প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় কাজ করার বাস্তবতা থাকতে পারে। কিন্তু সেটিকে নিয়মিত অফিস সময় হিসেবে দেখানো যাবে না।

ব্যাংকের সময় নিয়ে কেন এত বিভ্রান্তি?

সরকারি অফিসের সঙ্গে ব্যাংকের সময়সূচি এক নয়—এ কারণেও অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় তফসিলি ব্যাংকের গ্রাহক লেনদেনের সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকের অফিস কার্যক্রমের সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অর্থাৎ ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা করে দেখতে হবে—

  • গ্রাহক লেনদেন: সকাল ১০টা–বিকেল ৩টা
  • ব্যাংকের অফিস কার্যক্রম: বিকেল ৫টা পর্যন্ত

লেনদেন শেষ হওয়ার পরও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের হিসাব সমন্বয়, ক্লোজিং, অভ্যন্তরীণ কাজ এবং লেনদেন-পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণেই ব্যাংকে গ্রাহক ঢোকার বা লেনদেনের সময় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ত্যাগের সময় এক নয়।

‘ব্যাংকে ঢোকার সময় ফিক্সড, বের হওয়ার সময় নেই’—এমন ধারণা কেন?

ব্যাংকের ক্ষেত্রে গ্রাহকসেবা ও অফিস কার্যক্রমকে আলাদা করে নির্ধারণ করা হয়। একজন গ্রাহক হয়তো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন, কিন্তু লেনদেন শেষ হওয়ার পর ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কাজ চলতে পারে।

এ কারণে ব্যাংকের দরজা দিয়ে গ্রাহক প্রবেশের সময় এবং ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অফিস শেষ হওয়ার সময় একই বিষয় নয়।

বর্তমান নির্দেশনায় তফসিলি ব্যাংকের জন্য লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা এবং অফিস কার্যক্রম বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাখার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি অফিস ও ব্যাংকের সময় এক নজরে

প্রতিষ্ঠাননির্ধারিত সময়
সরকারি অফিসসকাল ৯টা–বিকেল ৪টা
সরকারি অফিসের সাপ্তাহিক ছুটিশুক্রবার ও শনিবার
ব্যাংকের গ্রাহক লেনদেনসকাল ১০টা–বিকেল ৩টা
ব্যাংকের অফিস কার্যক্রমবিকেল ৫টা পর্যন্ত
সরকারি অফিসের আগের সময়সকাল ৯টা–বিকেল ৫টা

জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে

সরকারি প্রজ্ঞাপনে জরুরি পরিষেবাগুলোকে সাধারণ অফিস সময়সূচির বাইরে রাখা হয়েছে। একইভাবে আদালতের সময়সূচি সুপ্রিম কোর্ট এবং শিল্প-কারখানার কর্মঘণ্টা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

এ কারণে হাসপাতাল, জরুরি সেবা, আদালত, বন্দরসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সময় সাধারণ সরকারি অফিসের সময়ের সঙ্গে হুবহু মিলবে না।

৯টা–৪টার নির্দেশনা কি এখনো কার্যকর?

বর্তমান পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হ্যাঁ—৯টা থেকে বিকেল ৪টার সময়সূচিই সরকারি অফিসের জন্য কার্যকর নির্দেশনা হিসেবে রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৪ এপ্রিল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, এই সময়সূচি ‘পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত’ কার্যকর থাকবে।

অতএব নতুন কোনো প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময়কে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা হিসেবেই ধরা হবে।

শেষ কথা

সরকারি অফিসের সময় নিয়ে ৯টা–৪টা ও ৯টা–৫টা—দুই ধরনের তথ্য প্রচলিত থাকলেও সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে সাধারণ সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। ৯টা–৫টা ছিল আগের স্বাভাবিক সময়সূচি।

অন্যদিকে ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। সেখানে গ্রাহক লেনদেনের সময় নির্দিষ্ট থাকলেও লেনদেন-পরবর্তী দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের অফিস সময় আরও পরে শেষ হতে পারে। তাই সরকারি অফিসের ৯টা–৪টা সময়ের সঙ্গে ব্যাংকের সময়কে এক করে দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সুতরাং বর্তমানে সরকারি অফিসের সময় নিয়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর:
👉 সরকারি অফিস = ৯টা–৪টা
👉 ব্যাংক লেনদেন = ১০টা–৩টা
👉 ব্যাংকের অফিস কার্যক্রম = ৫টা পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপন ডাউনলোড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *