আজকের খবর ২০২৬

জেলা ভিত্তিক মৌজা তালিকা: সারা দেশে ৫৮ হাজার ৪৫১ মৌজা, জেলাভিত্তিক তথ্য এক ফাইলে

দেশের বিভিন্ন জেলার মৌজা, উপজেলা, মৌজার নাম, জে.এল. নম্বর, জমির পরিমাণ, সর্বশেষ পরিচালিত জরিপ, জরিপের মেয়াদ, গেজেট প্রকাশের তারিখ ও মন্তব্য—এসব তথ্য জেলা ও জোনভিত্তিকভাবে সংরক্ষিত একটি বিস্তারিত তালিকা পাওয়া গেছে। তালিকাটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৫৮ হাজার ৪৫১টি মৌজার হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তথ্যগুলো মূলত বিভিন্ন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আওতাভুক্ত জেলা ও মৌজা অনুযায়ী সাজানো। ফলে জমি-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, মৌজা শনাক্তকরণ, জে.এল. নম্বর খোঁজা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বশেষ জরিপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ।

কোন জেলায় কত মৌজা?

তালিকায় জেলার ভিত্তিতে মৌজার সংখ্যায় বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে—

জেলামৌজা সংখ্যা
কুমিল্লা২,৬৭১
নওগাঁ২,৫৭৫
ময়মনসিংহ২,১৯৮
দিনাজপুর২,০৩৬
টাঙ্গাইল২,০০৯
বগুড়া১,৭৮১
রাজশাহী১,৭২৩
সিলেট১,৬৭৫
সুনামগঞ্জ১,৬৫০
নেত্রকোনা১,৬০৬
সিরাজগঞ্জ১,৪৭১
যশোর১,৩২২
পাবনা১,৩১৪
মানিকগঞ্জ১,৩০৭

তালিকার হিসাব অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলায় ২,৬৭১টি মৌজা রয়েছে। এরপর নওগাঁয় ২,৫৭৫টি, ময়মনসিংহে ২,১৯৮টি, দিনাজপুরে ২,০৩৬টি এবং টাঙ্গাইলে ২,০০৯টি মৌজা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে কিছু জেলার মৌজা সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। যেমন তালিকায় কক্সবাজারে ১৯০টি এবং বরগুনায় ২৫৯টি মৌজা দেখানো হয়েছে।

জোনভিত্তিক চিত্রও রয়েছে

ফাইলে জেলার পাশাপাশি জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসভিত্তিক মোট মৌজা সংখ্যাও দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দিনাজপুর জোনের অধীনে দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার মোট মৌজা সংখ্যা ৩,১০৯টি

রংপুর জোনের অধীনে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার মোট মৌজা ৩,৬২৬টি। একইভাবে ময়মনসিংহ জোনে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা মিলিয়ে ৪,৭৫৮টি মৌজা দেখানো হয়েছে।

ফাইলের সামগ্রিক হিসাবের সর্বশেষ সারিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট মৌজা সংখ্যা ৫৮,৪৫১টি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

শুধু মৌজা সংখ্যা নয়, রয়েছে জমির বিস্তারিত তথ্য

এ তালিকার বিশেষত্ব হলো, এটি কেবল জেলা বা মৌজার সংখ্যা সংক্রান্ত তালিকা নয়। পৃথক জেলা শিটগুলোতে প্রতিটি মৌজার জন্য একাধিক তথ্য রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • জেলার নাম
  • উপজেলার নাম
  • মৌজার নাম
  • জে.এল. নম্বর
  • জমির পরিমাণ
  • সর্বশেষ পরিচালিত জরিপের নাম
  • জরিপ শুরুর বছর
  • জরিপ সমাপ্তির বছর
  • গেজেট প্রকাশের তারিখ
  • সংশ্লিষ্ট মন্তব্য

অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট মৌজার নাম জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলা শিট থেকে সেই মৌজার জে.এল. নম্বর ও জমির আয়তনসহ জরিপ-সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব।

টাঙ্গাইলের তথ্যেও রয়েছে বড় ডাটাবেস

টাঙ্গাইলের জন্য আলাদা শিটে ২,০০৯টি মৌজা দেখানো হয়েছে। সেখানে মৌজার নামের পাশাপাশি উপজেলা, জে.এল. নম্বর, জমির পরিমাণ, সর্বশেষ জরিপ এবং জরিপের সময়কাল উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার কয়েকটি মৌজার তথ্যেও বি.আর.এস. জরিপ এবং সংশ্লিষ্ট জরিপের সময়কাল উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু মৌজার ক্ষেত্রে মন্তব্য কলামে হস্তান্তরিত ধরনের তথ্যও রয়েছে।

এ ধরনের তথ্য জমির পুরোনো ও নতুন জরিপের অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

ঢাকার ক্ষেত্রেও মৌজা-ভিত্তিক তথ্য

ঢাকা জেলার আলাদা শিটে মৌজাগুলো উপজেলা ও মৌজার নাম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। সেখানে জে.এল. নম্বর, জমির আয়তন, সর্বশেষ জরিপ এবং গেজেট প্রকাশের তারিখ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ঢাকার তালিকায় সিটি জরিপের তথ্যও দেখা যায়। অর্থাৎ রাজধানীর বিভিন্ন মৌজার ক্ষেত্রে সর্বশেষ পরিচালিত জরিপ এবং সংশ্লিষ্ট গেজেটের তারিখও তালিকাভুক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের তথ্য

চট্টগ্রাম জেলার শিটেও মৌজা-ভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। সেখানে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজার নাম, জে.এল. নম্বর, জমির পরিমাণ, সর্বশেষ পরিচালিত জরিপ, গেজেট প্রকাশের তারিখ, মোট শিট সংখ্যা এবং জরিপের মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় চট্টগ্রাম জেলার ১,০৫৭টি মৌজা এবং কক্সবাজারের ১৯০টি মৌজা আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে; সংশ্লিষ্ট জোনের মোট হিসাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য ১,২৪৭টি মৌজার হিসাব পাওয়া যায়।

মৌজা তালিকা ও ‘মৌজা রেট’ এক বিষয় নয়

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ফাইলটি মূলত জেলা ও জোনভিত্তিক মৌজা তালিকা এবং জরিপ-সংক্রান্ত তথ্যের ডাটাসেট। এতে মৌজার নাম, জে.এল. নম্বর, জমির আয়তন ও জরিপের তথ্য রয়েছে।

তাই এটিকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট এলাকার বর্তমান সর্বনিম্ন বাজারমূল্য বা ‘মৌজা রেট’ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো জমির সরকারি মূল্য, দলিল নিবন্ধনের মূল্য বা নির্দিষ্ট মৌজার বর্তমান সর্বনিম্ন বাজারমূল্য জানতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ অনুমোদিত মৌজা মূল্য তালিকা/সরকারি প্রজ্ঞাপন আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

জমি কেনাবেচা ও দলিলের ক্ষেত্রে কেন গুরুত্বপূর্ণ

মৌজা, জে.এল. নম্বর এবং জরিপের তথ্য জমির পরিচয় নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই নামে একাধিক স্থান বা মৌজা থাকলে জেলা, উপজেলা, মৌজার নাম ও জে.এল. নম্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে জমি কেনাবেচা, নামজারি, খতিয়ান যাচাই, ভূমি উন্নয়ন কর, দলিল প্রস্তুত কিংবা পুরোনো জরিপের সঙ্গে নতুন জরিপের তথ্য মিলানোর সময় এসব তথ্য সহায়ক হতে পারে।

তবে কোনো জমির মালিকানা বা আইনগত অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু এই তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, দাগ নম্বর, নামজারি, রেকর্ড এবং সরকারি ভূমি অফিসের তথ্য যাচাই করা জরুরি।

সার্বিক চিত্র

জেলা ও জোনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌজার সংখ্যা ব্যাপকভাবে ভিন্ন। কোথাও কয়েকশ মৌজা, আবার কোনো কোনো জেলায় দুই হাজারেরও বেশি মৌজা রয়েছে। পুরো ডাটাসেটে মোট মৌজা সংখ্যা ৫৮,৪৫১টি

এই তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একই জায়গায় শুধু মৌজার নাম নয়, বরং জে.এল. নম্বর, জমির পরিমাণ, জরিপের ধরন, জরিপের সময়কাল এবং গেজেট-সংক্রান্ত তথ্য একত্রে রাখা হয়েছে।

ফলে জেলা বা নির্দিষ্ট মৌজা ধরে জমির রেকর্ড-সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স ডাটাসেট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বর্তমান মৌজা রেট বা জমির সরকারি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ সরকারি মূল্য তালিকা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রজ্ঞাপনই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

জেলা ভিত্তিক মৌজা তালিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *