জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিকেশন করতে গিয়ে সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড, টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মূল পদে ১০ম বা ১১তম গ্রেডে কর্মরত থেকেও উচ্চতর গ্রেডের কারণে ৯ম গ্রেডের বেতন-সুবিধা পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কোন গ্রেড উল্লেখ করতে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবস্ট্যানটিভ গ্রেডের তথ্য দেওয়ার পরও iBAS++-এ প্রত্যাশিত বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে ৪০ শতাংশ সুবিধা প্রদর্শিত হচ্ছে। তাহলে এটি কি পে-ফিকেশনের নিয়ম, নাকি তথ্য এন্ট্রি ও সিস্টেমের হিসাবের মধ্যে কোনো অসংগতি?
সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল পদ, চাকরির ধারাবাহিকতা, নিয়মিত পদোন্নতি, টাইমস্কেল এবং উচ্চতর গ্রেডের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সময় এসব তথ্যের কোনটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পরিষ্কার না হলে কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
সম্প্রতি সামনে আসা একটি পে-ফিকেশন অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একজন কর্মচারীর মূল বা সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড ১১তম। চাকরিজীবনে একটি টাইমস্কেল ও একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর তাঁর বেতন-সংশ্লিষ্ট গ্রেড ৯ম হয়েছে। কিন্তু নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় তাঁর মূল পদের গ্রেড অপরিবর্তিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্ণনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী iBAS++-এর ট্যাব ৩.১-এ সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড ১১ উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে ট্যাব ৩.২-তে সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড ৯ লিখে পে-ফিকেশন দাখিল করেন। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ৪০ শতাংশ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে মোট ৭০ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা কার্যকর হওয়ার হিসাব দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মূল গ্রেড ১০ থাকা এবং উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডের বেতন-সুবিধা পাওয়া আরেক কর্মচারীর ক্ষেত্রেও সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড ১০ উল্লেখ করার পর ৪০ শতাংশ সুবিধা প্রদর্শিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড আসলে কোনটি? উচ্চতর গ্রেড পাওয়া মানেই কি মূল গ্রেড পরিবর্তন? ট্যাব ৩.১ ও ৩.২-তে কোন তথ্য দিতে হবে? আর ৪০ শতাংশ সুবিধা দেখানোর সঙ্গে সাবস্ট্যানটিভ গ্রেডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না?
১. সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড বনাম উচ্চতর গ্রেড: পার্থক্য কোথায়?
পে-ফিকেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড এবং উচ্চতর গ্রেডকে একই বিষয় হিসেবে বিবেচনা না করা।
সাধারণভাবে সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড বলতে কর্মচারীর নিয়মিত বা মূল পদের গ্রেড বোঝানো হয়। অন্যদিকে, উচ্চতর গ্রেড ও টাইমস্কেল নির্দিষ্ট বিধি এবং শর্তের ভিত্তিতে বেতন-সুবিধা নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিয়মিত পদোন্নতি আবার সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির আদেশ ও চাকরিবিধির বিষয়।
ধরা যাক, একজন কর্মচারী ১০ম গ্রেডের পদে নিয়োগ পেয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চতর গ্রেড পেয়ে ৯ম গ্রেডের বেতন-সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর নিয়মিত পদোন্নতির আদেশ নেই।
এ অবস্থায় শুধু ৯ম গ্রেডের বেতন-সুবিধা পাওয়ার কারণে তাঁর মূল পদের গ্রেডও ৯ম হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট বেতন স্কেল বা সরকারি আদেশে বিশেষ নির্দেশনা থাকলে সেই বিধান অনুসরণ করতে হবে।
অর্থাৎ, কর্মচারীর মূল পদের গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরির আদেশ এবং নতুন বেতন স্কেলে প্রাপ্য সুবিধা—এই তিনটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
২. ট্যাব ৩.১ ও ৩.২-তে কোন গ্রেড উল্লেখ করা উচিত?
আলোচিত অভিজ্ঞতায় ট্যাব ৩.১-এ ১১তম গ্রেড এবং ট্যাব ৩.২-তে ৯ম গ্রেড উল্লেখ করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এখানে প্রথমে জানতে হবে, iBAS++-এর সংশ্লিষ্ট ট্যাবগুলোতে ঠিক কোন তথ্য চাওয়া হয়েছে। দুটি ট্যাবের উদ্দেশ্য একই, নাকি আলাদা—তা নিশ্চিত না হয়ে একটিতে ১১ এবং অন্যটিতে ৯ উল্লেখ করা সঠিক বা ভুল বলে ঘোষণা করা সম্ভব নয়।
যদি একটি ট্যাবে নিয়োগকালীন মূল পদের গ্রেড এবং অন্যটিতে নির্দিষ্ট সময়ের বেতন নির্ধারণ-সংশ্লিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়, তাহলে তথ্যের পার্থক্যের ব্যাখ্যা থাকতে পারে। কিন্তু উভয় ট্যাবেই যদি একই ধরনের সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড চাওয়া হয়, তাহলে ভিন্ন গ্রেড দেওয়ার বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজন হবে:
- ট্যাব ৩.১ ও ৩.২-এর পূর্ণ নির্দেশনা।
- কর্মচারীর মূল নিয়োগপত্র ও পদসংক্রান্ত তথ্য।
- টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের আদেশ।
- নিয়মিত পদোন্নতির তথ্য, যদি থাকে।
- পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণী বিবরণী।
শুধু বর্তমান বেতন-সুবিধার গ্রেড দেখে সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড নির্ধারণ করা উচিত নয়; সংশ্লিষ্ট বিধান ও চাকরির রেকর্ডের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।
৩. মূল গ্রেড ১০, উচ্চতর গ্রেড ৯—তারপরও ৪০% কেন?
এই প্রশ্নটি এখন পে-ফিকেশন আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন কর্মচারীর মূল গ্রেড ১০। উচ্চতর গ্রেডের কারণে তিনি ৯ম গ্রেডের বেতন-সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু ট্যাব ৩.১ ও ৩.২-তে সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড ১০ উল্লেখ করার পরও ৪০ শতাংশ হারে সুবিধা প্রদর্শিত হয়েছে।
এখানে প্রথমেই বুঝতে হবে, ৪০ শতাংশ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে।
এটি কি পুরোনো মূল বেতনের ৪০ শতাংশ? নাকি নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ? অথবা এটি কি কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা কার্যকর হওয়ার হার?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত শুধু ৪০ শতাংশ দেখেই সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড ভুল হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না।
সম্ভাব্যভাবে বিষয়টি তিনভাবে যাচাই করা যেতে পারে।
প্রথমত, ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর করার নিয়ম। সংশ্লিষ্ট বিধানে যদি বেতন পার্থক্যের একটি অংশ প্রথম ধাপে কার্যকর করার কথা থাকে, তাহলে ৪০ শতাংশ প্রদর্শিত হওয়া সেই হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের ইতিহাস। কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট, টাইমস্কেল, উচ্চতর গ্রেড এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কার্যকর মূল বেতন নতুন বেতন নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
তৃতীয়ত, সিস্টেমে তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতি। সফটওয়্যার কোন গ্রেড, মূল বেতন বা পূর্ববর্তী আদেশের তথ্যকে হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে, তা যাচাই করতে হবে।
এগুলো সম্ভাব্য ব্যাখ্যা মাত্র। সংশ্লিষ্ট গেজেটের বিধান ও পূর্ণ পে-ফিকেশন বিবরণী ছাড়া কোনো একটি কারণকে নিশ্চিত বলা যাবে না।
৪. ১ জুলাই ২০২৬-এ ৪০%, ১ জানুয়ারি ২০২৭-এ ৭০%—হিসাবটি কীভাবে বুঝবেন?
আলোচিত পে-ফিকেশন বিবরণীতে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ৪০ শতাংশ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে মোট ৭০ শতাংশ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শতাংশের হিসাবের ভিত্তি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি কাল্পনিক উদাহরণ ধরা যাক। কোনো কর্মচারীর পুরোনো মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা এবং নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন ৪০,০০০ টাকা। দুই বেতনের পার্থক্য ১০,০০০ টাকা।
যদি কোনো প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী এই পার্থক্যের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে কার্যকর হয়, তাহলে:
- পুরোনো মূল বেতন: ৩০,০০০ টাকা।
- নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য: ১০,০০০ টাকা।
- পার্থক্যের ৪০ শতাংশ: ৪,০০০ টাকা।
- উদাহরণস্বরূপ কার্যকর বেতন: ৩৪,০০০ টাকা।
পরবর্তী ধাপে মোট ৭০ শতাংশ কার্যকর হলে একই উদাহরণে বেতন হবে ৩৭,০০০ টাকা।
এটি শুধু হিসাব বোঝানোর উদাহরণ। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ঠিক এই পদ্ধতি প্রযোজ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট গেজেটের মূল বিধান দেখে নিশ্চিত করতে হবে।
তাই ৪০ শতাংশ বা ৭০ শতাংশ প্রদর্শিত হওয়ার অর্থ বুঝতে হলে প্রথমে শতাংশটি কোন অঙ্কের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, তা শনাক্ত করতে হবে। এরপর সেই হিসাবের সঙ্গে কর্মচারীর সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড ও পূর্ববর্তী বেতনের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।
৫. ১৭তম গ্রেড থেকে ১২তম, ১৬তম গ্রেড থেকে ১১তম—সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড কী হবে?
আলোচনায় আরও প্রশ্ন উঠেছে, কোনো পদকে ১৭তম গ্রেড থেকে ১২তম গ্রেডে অথবা ১৬তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড কোনটি হবে।
এখানে পদের গ্রেড উন্নীতকরণ এবং কর্মচারীর ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণকে আলাদা করে দেখতে হবে।
কোনো সরকারি আদেশে পদের অনুমোদিত গ্রেড পরিবর্তন করা হতে পারে। আবার কোনো আদেশে নির্দিষ্ট শর্তে পদধারীদের বেতন-সুবিধা নির্ধারণের বিষয় থাকতে পারে। দুটি পরিস্থিতির প্রশাসনিক প্রভাব এক নাও হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে যাচাই করতে হবে:
১. গ্রেড উন্নীতকরণের সরকারি আদেশ প্রকাশিত হয়েছে কি না।
২. আদেশটি কোন তারিখ থেকে কার্যকর।
৩. সংশ্লিষ্ট পদধারীদের জন্য কী কী শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
৪. আদেশে সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড বা মূল পদ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কি না।
৫. পূর্ববর্তী টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেডের সঙ্গে নতুন আদেশের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।
সংশ্লিষ্ট আদেশে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে শুধু পদটির গ্রেড উন্নীত হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক কর্মচারীর সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
৬. গেজেটেড ভলিউম নম্বর, পৃষ্ঠা নম্বর ও মানি কলাম ফাঁকা থাকার কারণ কী?
আলোচিত পে-ফিকেশন বিবরণীতে গেজেটেড ভলিউম নম্বর, পৃষ্ঠা নম্বর ও মানি কলামের ঘর ফাঁকা থাকার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কোনো ঘর ফাঁকা থাকলেই বেতন নির্ধারণ ভুল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রথমে জানতে হবে, ঘরটি বাধ্যতামূলক কি না এবং কর্মচারীর ক্ষেত্রে তথ্যটি প্রযোজ্য কি না।
যদি সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রযোজ্য হয় এবং চাকরির রেকর্ডে তা থাকার কথা থাকে, তাহলে ফাঁকা থাকার কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। অন্যদিকে কোনো তথ্য প্রযোজ্য না হলে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরটি ফাঁকা থাকতে পারে।
তাই এ ক্ষেত্রে পে-ফিকেশন বিবরণীর পূর্ণ স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আদেশ এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের পর্যবেক্ষণ একসঙ্গে যাচাই করা উচিত।
৭. তাহলে কি iBAS++-এর সিস্টেমগত ত্রুটি রয়েছে?
সিস্টেমে ত্রুটি আছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য কর্মচারীর দেওয়া তথ্য, সফটওয়্যারের হিসাব এবং প্রযোজ্য বিধানের মধ্যে অসংগতি রয়েছে কি না, সেটি পরীক্ষা করতে হবে।
যদি কর্মচারী সঠিক তথ্য দিয়ে থাকেন, কিন্তু সফটওয়্যার ভুল গ্রেড বা ভুল বেতনভিত্তি ব্যবহার করে, তাহলে সেটি সম্ভাব্য সিস্টেমগত ত্রুটি হতে পারে। অন্যদিকে, ইনপুট ভুল, চাকরির রেকর্ডে অসংগতি অথবা বেতন নির্ধারণের বিধান সম্পর্কে ভুল ধারণা থেকেও প্রত্যাশিত ফল না আসতে পারে।
বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর উচিত:
- ট্যাব ৩.১ ও ৩.২-এর পূর্ণ স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করা।
- মূল নিয়োগপত্র, টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের আদেশ মিলিয়ে দেখা।
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্ট যাচাই করা।
- নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং প্রদর্শিত বেতনের হিসাব তুলনা করা।
- প্রয়োজনে ডিডিও বা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া।
একই ধরনের সমস্যা একাধিক কর্মচারীর ক্ষেত্রে ঘটলে এবং সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও একই অসংগতি দেখা গেলে তা আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে শুধু কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পুরো iBAS++ সিস্টেমকে ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করা তথ্যগতভাবে যথাযথ হবে না।
৮. পে-ফিকেশন দাখিলের আগে কর্মচারীদের করণীয়
বেতন নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রথমত, মূল নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুকের তথ্য অনুযায়ী সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের আদেশ আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হবে। তৃতীয়ত, নিয়মিত পদোন্নতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আদেশের তথ্য দিতে হবে।
এরপর ট্যাব ৩.১ ও ৩.২-এর নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য এন্ট্রি করে পে-ফিকেশন বিবরণী পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ঘরে তথ্য অনুপস্থিত থাকলে সেটি বাধ্যতামূলক কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সবশেষে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং প্রদর্শিত সুবিধার হিসাব মিলিয়ে দেখা উচিত। কোনো অসংগতি থাকলে অনুমান করে গ্রেড পরিবর্তন না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপসংহার: সঠিক সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড নির্ধারণই কি পে-ফিকেশনের মূল চাবিকাঠি?
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিকেশনে সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ। মূল পদে ১০ম বা ১১তম গ্রেডে থাকা, উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডের বেতন-সুবিধা পাওয়া এবং ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর হওয়ার বিষয়গুলো আলাদাভাবে বোঝা প্রয়োজন।
আলোচিত অভিজ্ঞতায় ৪০ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ সুবিধা প্রদর্শিত হওয়ার কারণ, ট্যাব ৩.১ ও ৩.২-তে কোন গ্রেড উল্লেখ করা উচিত এবং গেজেট-সংক্রান্ত ঘর ফাঁকা থাকার ব্যাখ্যা—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর সংশ্লিষ্ট গেজেট, সফটওয়্যারের নির্দেশনা ও অনুমোদিত পে-ফিকেশন বিবরণী যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
মূল কথা হলো, উচ্চতর গ্রেড পাওয়া মানেই নিয়মিত পদোন্নতি নয়; আবার ৪০ শতাংশ সুবিধা প্রদর্শিত হওয়া মানেই সিস্টেমে ত্রুটি—এমনও নয়। সঠিক তথ্য, প্রযোজ্য বিধান এবং প্রকৃত হিসাব পাশাপাশি যাচাই করলেই বোঝা যাবে, সমস্যাটি তথ্য এন্ট্রিতে, বেতন নির্ধারণের নিয়মে, নাকি সফটওয়্যারের হিসাবে।

