জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার বিষয়ে একটি নতুন বিশেষ আদেশ জারি করেছে। আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এনবিআর চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়েছে, যারা বিশেষ কারণে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন না, তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে কাগজী বা ‘পেপার রিটার্ন’ দাখিলের সুযোগ পাবেন।
আদেশের মূল বিষয়সমূহ:
১. অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৮-এর উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু করদাতা ব্যতীত সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. আবেদনের মাধ্যমে পেপার রিটার্ন: ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা অনলাইন দাখিলে কোনো যৌক্তিক সমস্যার কারণে কোনো করদাতা যদি অনলাইনে রিটার্ন দিতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি অফলাইনে বা সরাসরি কাগজে লিখে রিটার্ন জমা দেওয়ার আবেদন করতে পারবেন।
৩. সময়সীমা: এই বিশেষ আবেদনের সুযোগ আগামী ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
৪. অনুমোদন প্রক্রিয়া: করদাতাকে উপযুক্ত কারণ দর্শিয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের (To the Deputy Commissioner of Taxes) নিকট আবেদন করতে হবে। আবেদনটি যথাযথ প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করা যাবে।
কেন এই বিশেষ আদেশ?
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, অনেক করদাতা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা ই-রিটার্ন সিস্টেমে জটিলতার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে সমস্যায় পড়ছিলেন। করদাতাদের এই ভোগান্তি লাঘব করতে এবং রিটার্ন দাখিলের হার বাড়াতে বোর্ড এই নমনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
করদাতাদের জন্য নির্দেশাবলী:
প্রথমে অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার চেষ্টা করুন।
অসমর্থ হলে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে আপনার কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিন।
আবেদনে অনলাইনে রিটার্ন দিতে না পারার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করুন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে বয়স্ক করদাতা এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা বঞ্চিত অঞ্চলের করদাতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

