গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল (জিপিএফ) এবং প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিল (সিটিএফ)-এর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই গেজেটে জিপিএফ-এর মুনাফার হার স্ল্যাবভিত্তিক (ধাপ অনুযায়ী) নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘The General Provident Fund Rules, 1979’ এবং ‘The Contributory Provident Fund Rules, 1979’ এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আমানতের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মুনাফার হার ভিন্ন হবে।
মুনাফার হারের বিস্তারিত স্ল্যাব:
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আমানতকারী সরকারি কর্মচারীদের প্রারম্ভিক স্থিতির ওপর ভিত্তি করে মুনাফার হার তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:
১. ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত: যাদের জিপিএফ বা সিপিএফ-এ জমার পরিমাণ ১৫,০০,০০০ (পনের লক্ষ) টাকা পর্যন্ত, তারা সর্বোচ্চ ১৩% হারে মুনাফা পাবেন।
২. ১৫ লক্ষ ১ টাকা থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত: যাদের জমার পরিমাণ ১৫,০০,০০১ টাকা থেকে ৩০,০০,০০০ (ত্রিশ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত, তাদের ক্ষেত্রে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২%।
৩. ৩০ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে: আমানত ৩০,০০,০০১ (ত্রিশ লক্ষ এক) টাকার বেশি হলে ওই আমানতের ওপর ১১% হারে মুনাফা প্রদান করা হবে।
অন্যান্য নির্দেশনা: প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সকল সিপিএফভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের আর্থিক সঙ্গতি একরকম না হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নিজস্ব আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী জিপিএফ-এর এই স্ল্যাবভিত্তিক মুনাফার হারকে সর্বোচ্চ ধরে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজস্ব হার নির্ধারণ করতে পারবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী।

১০০০০০ টাকায় প্রতি বছর কত টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে?
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত মুনাফার হার অনুযায়ী হিসাবটি নিচে দেওয়া হলো:
আপনার জমানো টাকার পরিমাণ ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা, যা প্রথম স্ল্যাবের (১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত) অন্তর্ভুক্ত। এই স্ল্যাবের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক মুনাফার হার হলো ১৩%।
হিসাব: ১,০০,০০০ টাকার ১৩% = (১,০০,০০০ × ১৩) / ১০০ = ১৩,০০০ টাকা।
অর্থাৎ, আপনার ১,০০,০০০ টাকার বিপরীতে প্রতি বছর ১৩,০০০ টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে।
