এস.এসসি ও এইচ.এসসি

টিউশন ফি আদায়ের অর্থ কোথায় যাচ্ছে? ২০০৩ সালের পরও বিতরণে স্পষ্ট নীতিমালার অভাব, প্রশ্ন শিক্ষকদের

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টিউশন ফি দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। তবে এই অর্থের কত অংশ শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, কত অংশ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যয় হবে এবং এর হিসাব কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও অভিন্ন চর্চার অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দাবি, ২০০৩ সালে টিউশন ফি শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি হলেও এরপর এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও হালনাগাদ নির্দেশনা খুব কমই পাওয়া যায়।

ছড়িয়ে পড়া একটি তথ্যপত্রে দেখা যায়, উপবৃত্তির বিপরীতে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মাসিক টিউশন ফি আদায়ের একটি তালিকা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিভেদে মাসিক উপবৃত্তি, মাসিক টিউশন ফি এবং বার্ষিক মোট টিউশন ফির হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর মাসিক টিউশন ফি ৩৫ টাকা হলে বছরে আদায় হয় ৪২০ টাকা। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ওই শ্রেণিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকে, তাহলে শুধু ওই শ্রেণি থেকেই বছরে টিউশন ফি হিসেবে ২১ হাজার টাকা আদায় হতে পারে।

বিতরণে একেক প্রতিষ্ঠানে একেক নিয়ম

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিউশন ফি শিক্ষকদের মধ্যে কমবেশি বণ্টন করে থাকে। কোথাও সমান হারে, কোথাও আবার দায়িত্ব বা পদ অনুযায়ী এই অর্থ ভাগ করা হয়। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকরা জানেন না টিউশন ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, কিংবা সেই অর্থ কোথায় ব্যয় করা হচ্ছে।

কিছু প্রতিষ্ঠানে দাবি করা হয়, টিউশন ফির অর্থ দিয়ে অফিস পরিচালনা, বিদ্যুৎ বিল, পরিচ্ছন্নতা, পরীক্ষা বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করা হয়। কিন্তু এসব ব্যয়ের লিখিত হিসাব বা শিক্ষক প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপনের চর্চা সর্বত্র নেই।

স্বচ্ছতার দাবি জোরালো হচ্ছে

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, টিউশন ফি যেহেতু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়, তাই এর ব্যবহার ও বণ্টন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি, প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট আর্থিক নীতিমালা অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক কমে আসবে।

শিক্ষক নেতাদের একাংশের মতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে টিউশন ফি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন বিষয়ে একটি হালনাগাদ নীতিমালা জারি করা হলে দেশের সব প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হবে।

প্রয়োজন হালনাগাদ নির্দেশনা

শিক্ষা প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ২০০৩ সালের পরিপত্রের আলোকে যদি কোনো বিধান কার্যকর থেকেও থাকে, তবে বর্তমান বাস্তবতা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন প্রয়োজন।

এতে টিউশন ফি আদায়, ব্যয় এবং শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য: আলোচ্য তথ্যপত্রে বিভিন্ন শ্রেণির টিউশন ফির হার ও বার্ষিক হিসাব উপস্থাপন করা হলেও, টিউশন ফি শিক্ষকদের মধ্যে কী অনুপাতে বা কী পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলকভাবে বণ্টন করতে হবে—এ বিষয়ে বর্তমানে কার্যকর কোনো সর্বজনস্বীকৃত হালনাগাদ সরকারি নির্দেশনার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে প্রামাণ্য সরকারি পরিপত্র বা আদেশ অনুসরণ করাই হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সর্বোত্তম পদক্ষেপ।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *