নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও এ নিয়ে এখনই হতাশ হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করছেন সাবেক আমলারা। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি কোনো সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেন, মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পর গেজেট প্রকাশের জন্য যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেখানে কয়েক সপ্তাহ এমনকি অনেক সময় মাসও লেগে যেতে পারে।
তার মতে, এবার পে-স্কেলের ঘোষণা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা ও আগ্রহ অনেক বেশি থাকায় প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সামান্য বিলম্বও হতাশা তৈরি করছে। দীর্ঘ সময় পর নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রত্যাশা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
অনুমোদনের পর শুরু হয়েছে যাচাই-বাছাই
এদিকে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রজ্ঞাপন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণত কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্তের খসড়া প্রজ্ঞাপন চূড়ান্তভাবে জারি করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং আইনগত পর্যালোচনা করা হয়। খসড়ার ভাষা, বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তা চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হয়।
ফলে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া মানেই একই দিন বা পরদিন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হবে—এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। অনুমোদনের পরও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করার প্রয়োজন হতে পারে।
কেন সময় লাগছে?
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, ভাতা, পেনশনসহ নানা আর্থিক বিষয় জড়িত। তাই প্রজ্ঞাপনের ভাষা ও সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন ধারা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, বিদ্যমান বিধির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত জটিলতা তৈরি হবে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
এ কারণে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনগত যাচাইয়ের বিষয়টি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্রুত প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় সরকারি চাকরিজীবীরা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন মূল আগ্রহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর অনেকেই দ্রুত গেজেট প্রকাশের প্রত্যাশা করছেন।
তবে সাবেক আমলাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কিছুটা সময় লাগা অস্বাভাবিক নয়। তাই খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিকে পে-স্কেল আটকে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখার কারণ নেই।
সার্বিকভাবে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনকে পে-স্কেল প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন আইনগত যাচাই-বাছাইসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা। ফলে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ সময় লাগলেও সেটিকে অস্বাভাবিক বিলম্ব হিসেবে না দেখে পুরো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

