বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি উন্নয়ন কর (Land Development Tax) আদায়ে গতিশীলতা আনতে এবং নাগরিক সেবা আরও সহজতর করতে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এখন থেকে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য হোল্ডিং খোলার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
গতকাল (০৬ মে, ২০২৬) ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় ভূমি কর আদায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই পত্রে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ৩টি প্রধান নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
১. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হোল্ডিং নিষ্পত্তি: নাগরিকরা ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার জন্য অনলাইনে বা সরাসরি যে হোল্ডিং খোলার আবেদন করবেন, তা প্রাপ্তির সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. বাতিলের কারণ স্পষ্টকরণ: যদি কোনো আবেদন অনুমোদনের যোগ্য না হয়, তবে কেন তা বাতিল করা হলো—তার সঠিক এবং উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করতে হবে। যাতে সংশ্লিষ্ট নাগরিক বাতিল হওয়ার কারণটি স্পষ্টভাবে জানতে পারেন।
৩. আপত্তি নিষ্পত্তিতে ৭ দিন: ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ, বকেয়া বছর কিংবা জমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি নিয়ে যদি কোনো নাগরিক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের কাছে আপত্তি দাখিল করেন, তবে সেই অভিযোগের বিষয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
রাজস্ব আদায়ে জোরদার পদক্ষেপ
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ভূমি রাজস্ব আদায়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করতেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভূমি কর পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে।
তথ্যসূত্র: ভূমি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (স্মারক নম্বর: ৩১.০০.০০০০.০৫৭.২৩.০০৬.২৬:২৭২)
