সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি সেবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং সহ তথ্যের ভান্ডার।

শিরোনাম
বাড়ি নির্মাণে রডের খরচ কত? BSRM, KSRM, GPH ও AKS-এর দাম ও হিসাব জানুন এক ক্লিকেই ২৯ দেশের মুদ্রার হিসাব, বাংলাদেশি টাকায় মূল্য জানার নতুন ডিজিটাল সুবিধা সড়ক পরিবহন বিধিমালায় সংশোধন: মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনে নতুন নিয়ম ভুল এসএ রেকর্ডে জমির মালিকানা হারানোর শঙ্কা নেই, প্রকৃত স্বত্ব নির্ধারণে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, থাকছে ডাক্তার খোঁজা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুবিধা সরকারি কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের ঋণ: আবেদন থেকে কিস্তি কর্তন পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২ শতাংশে, এসএসসিতেও হতাশাজনক চিত্র বিকাশ, নগদ ও রকেটের নতুন হিসাব: টাকা পাঠানো ও উত্তোলনে কোথায় খরচ কম? সরকারি বাসায় সাবলেট ভাড়া নিয়ে কঠোর অবস্থানে আবাসন পরিদপ্তর, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাসা ছাড়ার নির্দেশ ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলে কঠোর নিয়ম: নিবন্ধন, চালকের যোগ্যতা ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধান

রেজিস্ট্রিকৃত দলিল বাতিল করতে আদালতের রায় বাধ্যতামূলক, জানালেন আইন বিশেষজ্ঞরা

admin ৩ মিনিটের পাঠ
রেজিস্ট্রিকৃত দলিল বাতিল করতে আদালতের রায় বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশে জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রেজিস্ট্রিকৃত (রেজিস্ট্রি করা) দলিল বাতিল করা। অনেকেই মনে করেন, কোনো দলিলে সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে তা বাতিল করা সম্ভব। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার নিবন্ধিত হয়ে গেলে কোনো দলিল প্রশাসনিকভাবে বাতিল করা যায় না; এর জন্য আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল আদালতের কাছে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে দলিল বাতিল করতে হলে প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে দলিলটি অবৈধ, প্রতারণামূলক বা আইনবিরোধী উপায়ে সম্পাদিত হয়েছে।

যেসব কারণে দলিল বাতিল হতে পারে

আইন অনুযায়ী কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত রেজিস্ট্রিকৃত দলিল বাতিলের আদেশ দিতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে জাল দলিল তৈরি, প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে দলিল সম্পাদন, জোরপূর্বক দলিল গ্রহণ, প্রকৃত মালিকের সম্মতি ছাড়া দলিল করা, দলিলে গুরুতর ভুল বা ভুয়া তথ্য থাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বা আইনগতভাবে অক্ষম ব্যক্তির মাধ্যমে দলিল সম্পাদন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারলে মামলা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

আদালতে মামলা দায়েরই প্রধান উপায়

রেজিস্ট্রিকৃত দলিল বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়ানি আদালতে (সিভিল কোর্ট) মামলা দায়ের করতে হয়। সাধারণত Specific Relief Act, 1877-এর 39 ধারার আওতায় “দলিল বাতিলের মামলা” (Suit for Cancellation of Deed) করা হয়ে থাকে।

যে এলাকায় সংশ্লিষ্ট জমি অবস্থিত, সেই এলাকার জজ কোর্ট বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে এ ধরনের মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আইনজীবীরা জানান, মামলা করতে গেলে বিতর্কিত দলিলের সত্যায়িত কপি, মালিকানার পূর্ববর্তী দলিল, খতিয়ান, পর্চা, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন প্রমাণাদি ও সাক্ষীর তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।

মামলায় কী দাবি করা হয়

দলিল বাতিলের মামলায় সাধারণত আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট দলিলকে বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণা করার আবেদন করা হয়। পাশাপাশি জমির দখল হারিয়ে থাকলে দখল পুনরুদ্ধারের দাবি এবং ভবিষ্যতে বিরোধ সৃষ্টি রোধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করা হতে পারে।

মামলা চলাকালে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মামলা চলমান অবস্থায় বিতর্কিত জমি অন্যের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়। এ পরিস্থিতি এড়াতে বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) প্রার্থনা করতে পারেন। আদালত প্রয়োজন মনে করলে জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন।

আদালতের রায়ে কী হয়

আদালত যদি সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দলিলকে অবৈধ বলে মনে করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দলিল বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি প্রশাসনকে রেকর্ড সংশোধনের নির্দেশনাও দেওয়া হতে পারে।

রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া

রায় পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আদালতের আদেশ দাখিল করে দলিল বাতিলের বিষয়টি নথিভুক্ত করতে হয়। পাশাপাশি ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান ও অন্যান্য রেকর্ড সংশোধনের জন্যও আবেদন করতে হয়।

সময়সীমা নিয়ে সতর্কতা

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দলিল বাতিলের মামলা করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা Limitation রয়েছে। সাধারণত তিন বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়, যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। দীর্ঘদিন বিলম্ব করলে মামলা খারিজ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

আইনজীবীদের মতে, শুধুমাত্র নতুন একটি দলিল সম্পাদন করে আগের রেজিস্ট্রিকৃত দলিল বাতিল করা যায় না। আদালতের বৈধ রায় ছাড়া নিবন্ধিত দলিলের আইনি কার্যকারিতা বহাল থাকে। তাই সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

ভূমি ও সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট বিরোধ এড়াতে দলিল সম্পাদনের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং নিবন্ধনের পর সকল নথি সংরক্ষণ করারও পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *