আজকের খবর ২০২৬

দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নতুন দিগন্ত ২০২৬ । ৩৯ ব্যাংকের ৬০০ কোটি টাকার BSIC বরাদ্দ রয়েছে?

বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতের চেহারা বদলে দিতে একাট্টা হয়েছে দেশের ৩৯টি ব্যাংক। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সরাসরি ইক্যুইটি বিনিয়োগের (অংশীদারিত্ব) মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (BSIC)। দেশের অর্থনীতিতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রভাব বাড়াতে এটিই এখন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমন্বিত উদ্যোগ।

১. তহবিলের উৎস ও স্থায়ী কাঠামো

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সার্কুলার অনুযায়ী, প্রতিটি তালিকাভুক্ত ব্যাংককে তাদের বার্ষিক নিট মুনাফার ১ শতাংশ অর্থ এই তহবিলে জমা দিতে হয়। আগে এই অর্থ ব্যাংকগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্ষুদ্র আকারে বিতরণ করলেও এখন তা BSIC-এর মাধ্যমে একটি বিশাল কেন্দ্রীয় পুলে নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছরই এই ফান্ডের আকার বাড়তে থাকবে, যা স্টার্টআপগুলোর জন্য টেকসই অর্থায়নের নিশ্চয়তা দেবে।

২. বিনিয়োগের পরিকল্পনা ও সময়সীমা

BSIC কেবল নামেই কোম্পানি নয়, বরং এটি দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত:

  • যাত্রা শুরু: ৩০ এপ্রিল ২০২৬।

  • প্রথম বিনিয়োগ: জুন ২০২৬-এর মধ্যে অন্তত ৩টি সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে অর্থায়ন করা হবে।

  • দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে ৮ থেকে ১২টি বড় মাপের স্টার্টআপে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সুযোগ: সঠিকভাবে পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে দেশের ২০০-৩০০টি স্টার্টআপ এই তহবিল থেকে উপকৃত হতে পারে।

৩. দক্ষ পরিচালনা ও পরামর্শক পর্ষদ

প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব বাছাই করা হয়েছে:

  • চেয়ারম্যান: সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও এবং এবিবি-র চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন

  • পর্ষদ সদস্য: মোট ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জন বিভিন্ন ব্যাংকের এমডি এবং ৪ জন স্বতন্ত্র পরিচালক।

  • ভারপ্রাপ্ত সিইও: প্রাইম ব্যাংকের এএমডি নাজিম এ. চৌধুরী।

  • কৌশলগত পরামর্শক: দেশের খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইট ক্যাসেল পার্টনার্স (LightCastle Partners)

৪. কোন কোন খাতে মিলবে বিনিয়োগ?

BSIC মূলত সেই সব স্টার্টআপে বিনিয়োগ করবে যারা প্রযুক্তিনির্ভর এবং দ্রুত সম্প্রসারণযোগ্য। উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হলো:

  • ফিনটেক (আর্থিক প্রযুক্তি)

  • এগ্রিটেক (কৃষি প্রযুক্তি)

  • হেলথটেক (স্বাস্থ্যসেবা)

  • এজুকেশন (শিক্ষা প্রযুক্তি)

  • লজিস্টিকস ও রিটেইল

৫. শুধু মূলধন নয়, আরও অনেক কিছু

BSIC-এর লক্ষ্য কেবল টাকা দেওয়া নয়। প্রতিষ্ঠানটি স্টার্টআপগুলোর জন্য নিম্নোক্ত ভূমিকা পালন করবে:

  • কৌশলগত তদারকি: ব্যবসার প্রসারে প্রয়োজনীয় মেন্টরশিপ ও পরামর্শ।

  • বিদেশি বিনিয়োগ: বিদেশি বড় বড় ভেঞ্চার ক্যাপিটালকে বাংলাদেশের স্টার্টআপে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা এবং ‘কো-ইনভেস্টমেন্ট’ সুযোগ তৈরি করা।

  • ইক্যুইটি পার্টনারশিপ: ব্যাংকগুলো সরাসরি ঋণের পরিবর্তে স্টার্টআপের শেয়ারের মালিক হবে, যা উদ্যোক্তাদের ওপর ঋণের বোঝা কমাবে।


বিশেষজ্ঞের অভিমত: “এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গেম-চেইঞ্জার। আগে ব্যাংকগুলো স্টার্টআপের ঝুঁকি বুঝতে হিমশিম খেত, কিন্তু এখন BSIC-এর মাধ্যমে পেশাদার বিনিয়োগের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। এটি বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও বিশ্ববাজারের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করবে।”

উপসংহার: ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর এই যৌথ প্রচেষ্টা বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ৩০ এপ্রিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে বাংলাদেশের স্মার্ট অর্থনীতির পথে এক শক্তিশালী পদযাত্রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *