আজকের খবর ২০২৬

জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলটিং শুরু

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট কমাতে কিউআর (QR) কোড ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ‘ফুয়েল পাস’-এর পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর অধীনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পাইলটিং ও প্রাথমিক পর্যায়

প্রাথমিকভাবে এই অ্যাপটি শুধুমাত্র মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ঢাকার দুটি নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশনে এর পাইলটিং চলছে: ১. ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও। ২. সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন, আসাদগেট।

যুগ্ম সচিব জানান, এই পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যানবাহনের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

কেন এই উদ্যোগ?

বর্তমানে জ্বালানি বিতরণে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়:

  • পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

  • একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

  • এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল সিস্টেমটি পুরো বিতরণ প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করবে এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনবে।

সিস্টেমটি যেভাবে কাজ করবে

  • বিআরটিএ সংযোগ: অ্যাপটি বিআরটিএ-এর কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সাথে সংযুক্ত থাকবে, ফলে যানবাহনের সঠিক তথ্য যাচাই করা সহজ হবে।

  • রেজিস্ট্রেশন: যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে কিউআর কোড ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

  • ডিজিটাল বরাদ্দ: ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটাল এন্ট্রির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করবেন। চালকরা কিউআর কোড স্ক্যান করে তাদের নির্ধারিত বরাদ্দ দেখতে এবং জ্বালানি গ্রহণ করতে পারবেন।

  • রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড: কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি মজুদ পরিস্থিতি

ব্রিফিংয়ে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। ৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মজুদ নিম্নরূপ:

  • ডিজেল: ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৪৩ মেট্রিক টন।

  • পেট্রোল: ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন।

  • অকটেন: ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন।

যুগ্ম সচিব বলেন, “ডিজেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী দুই মাসের জ্বালানি প্রাপ্তি সরকার নিশ্চিত করেছে। তবে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার প্রবণতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, যা পাম্পগুলোতে চাপ সৃষ্টি করছে।”

জ্বালানি বিভাগ আশা করছে, এই আধুনিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে অনিয়ম ও অপচয় হ্রাস পাবে এবং সংকটের সময়ে কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *