বাজারে প্রচলিত ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের আধিক্য বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জনস্বার্থে এসব নোট গ্রহণ এবং এর বিপরীতে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট বিনিময়ে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট’ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার (ডিএসএম সার্কুলার নং-০১/২০২৬) জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনার মূল কারণ
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাজারে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোট দেখা যাচ্ছে। এর আগে ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক ব্যাংক তা যথাযথভাবে পালন করছে না। জনসাধারণের স্বাভাবিক লেনদেন বজায় রাখতে এবং ‘ক্লিন নোট পলিসি’ (Clean Note Policy) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হলো।
সার্কুলারের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:
বিশেষ কাউন্টার স্থাপন: প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে জনসাধারণের নিকট থেকে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে।
ছোট নোটের ওপর গুরুত্ব: বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার ছেঁড়া বা ময়লা নোটগুলো নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে সেগুলোর বদলে ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
অনীহা দেখালে ব্যবস্থা: কোনো ব্যাংক শাখা যদি এই সেবা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনি ভিত্তি: ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কেন এই কড়াকড়ি?
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যদি নিয়মিতভাবে বাজার থেকে অযোগ্য নোটগুলো সংগ্রহ না করে, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ছোট মানের নোটগুলো ময়লা হয়ে গেলে দোকানদার বা সাধারণ মানুষ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এই সংকট নিরসনেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে।
উপসংহার
সার্কুলারে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন থেকে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে তাদের গ্রাহক ও সাধারণ জনগণের নিকট থেকে বিধি মোতাবেক অযোগ্য নোটগুলো গ্রহণ করে সেগুলোর বিনিময় মূল্য প্রদান করতে হবে। এর ফলে বাজারে মুদ্রার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
