দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো কিস্তিতে বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তারা আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে একধাপেই পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল ঘোষণার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিনিধি সভায় আন্দোলনকারীরা এই দাবি তোলেন।
‘বঞ্চনা আর নয়, অধিকার আদায়’
সমাবেশে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের হাতে “আমরা কিস্তিতে পে-স্কেল চাই না, কর্মচারীরা একধাপে পে-স্কেল চাই। বঞ্চনা আর নয়, অধিকার আদায়!” সংবলিত নানা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে প্রতীকী দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে ধাপে ধাপে বা কিস্তিতে পে-স্কেল দেওয়ার সরকারি চিন্তাভাবনাকে প্রত্যাখ্যান করে একধাপে বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল কার্যকরের পর গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে চলতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চরম হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেল যদি আবার কয়েক বছরের কিস্তিতে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে তা কর্মচারীদের সাথে এক ধরনের ‘প্রতারণা’ ও বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সরকারি পরিকল্পনায় অসন্তোষ
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একসঙ্গে বিশাল অঙ্কের আর্থিক চাপ এড়াতে সরকার এটি ২০২৯ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে (প্রথমে মূল বেতন বৃদ্ধি ও পরবর্তীতে অন্যান্য ভাতা সমন্বয়) পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের কৌশল হাতে নিয়েছে।
সরকারের এই ‘ধাপে ধাপে’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ঘিরেই তৈরি হয়েছে মূল অসন্তোষ। কর্মচারী নেতাদের দাবি:
মুদ্রাস্ফীতির চাপ: দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো আসছে। কিস্তিতে দিলে বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক কোনো সুফল পাবেন না।
এককালীন বাস্তবায়ন: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর কষ্ট লাঘব করতে হলে আসন্ন ১ জুলাই থেকেই একধাপে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা দিতে হবে।
আলটিমেটাম ও পরবর্তী কর্মসূচি
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কিস্তির অজুহাতে কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। আগামী বাজেটের আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন’-এর গেজেট প্রকাশ করে একধাপে পে-স্কেল দেওয়ার জন্য তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
