প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ এ সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে মোট আয়ের ওপর ৩ শতাংশ পর্যন্ত কর রেয়াতের সুবিধা বহাল থাকায় করদাতারা সঠিক কর পরিকল্পনার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি শিক্ষামূলক কর-হিসাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, করমুক্ত সীমার ওপরে আয় থাকা ব্যক্তিরা বৈধ বিনিয়োগ ও কর রেয়াতের সুবিধা গ্রহণ করলে তাদের পরিশোধযোগ্য করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।
করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী একজন সাধারণ ব্যক্তিগত করদাতার জন্য করমুক্ত আয়সীমা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ এই সীমার মধ্যে থাকা বার্ষিক আয়ের ওপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য হবে না। তবে আয় এই সীমা অতিক্রম করলে নির্ধারিত করহার অনুযায়ী কর গণনা করা হবে।
এছাড়া ন্যূনতম কর ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
৩% কর রেয়াত কীভাবে কাজ করবে?
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক করদাতা কর রেয়াতের সুবিধা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কর পরিশোধ করেন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় অনুমোদিত বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা বা অন্যান্য নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগের ভিত্তিতে মোট আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত কর রেয়াত পাওয়া যেতে পারে।
তবে কর রেয়াত সরাসরি মোট আয়ের ওপর প্রযোজ্য নয়; আয়কর আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সীমা ও শর্ত অনুসারে রেয়াতের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
বিভিন্ন আয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কর
শিক্ষামূলক উদাহরণ অনুযায়ী—
- বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা হলে সম্ভাব্য কর প্রায় ৫ হাজার টাকা।
- বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হলে সম্ভাব্য কর প্রায় ৯ হাজার ৭৫০ টাকা।
- বার্ষিক আয় ৮ লাখ টাকা হলে সম্ভাব্য কর প্রায় ২৪ হাজার ৭৫০ টাকা।
- বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকা হলে সম্ভাব্য কর দাঁড়াতে পারে ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
- বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হলে সম্ভাব্য কর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৫০ টাকা।
- বার্ষিক আয় ২০ লাখ টাকা হলে সম্ভাব্য কর প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা।
- বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকা হলে সম্ভাব্য কর প্রায় ৪ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকা।
উল্লেখ্য, এসব হিসাব ৩ শতাংশ কর রেয়াত বিবেচনায় শিক্ষামূলক উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে আয়, বিনিয়োগের ধরন এবং প্রযোজ্য বিধানের কারণে প্রকৃত করের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
কর পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে বৈধ বিনিয়োগ করলে করদাতারা উল্লেখযোগ্য কর সাশ্রয় করতে পারেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা, অতিরিক্ত কর বা অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
তাদের মতে, করদাতাদের উচিত আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা, অনুমোদিত বিনিয়োগ খাতে অংশগ্রহণ করা এবং রিটার্ন দাখিলের আগে প্রয়োজন হলে কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া।
সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান
বিশ্লেষকদের মতে, কর রেয়াত ও কর পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব আহরণ যেমন বাড়বে, তেমনি করদাতারাও আইনসম্মতভাবে কর সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন। ফলে কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছায় কর প্রদানের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রচারিত হিসাবগুলো শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত আয়কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চূড়ান্ত বিধান, করহার এবং করদাতার ব্যক্তিগত তথ্যই বিবেচ্য হবে।
