এস.এসসি ও এইচ.এসসি

২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ, পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ ডিসেম্বর শেষ হবে। পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আগের নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় এক সপ্তাহ এগিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে শিক্ষাপঞ্জিতে ১৫ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্য সময়সূচি ছিল। পরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভায় নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।

কোন দিন কোন বিষয়ের পরীক্ষা

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চার দিনে পাঁচটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে—

তারিখবারবিষয়বিষয় কোডসময়
৮ ডিসেম্বর ২০২৬মঙ্গলবারবাংলা১০১সকাল ১০টা–দুপুর ১টা
১০ ডিসেম্বর ২০২৬বৃহস্পতিবারইংরেজি১০৭সকাল ১০টা–দুপুর ১টা
১৩ ডিসেম্বর ২০২৬রবিবারগণিত১০৯সকাল ১০টা–দুপুর ১টা
১৫ ডিসেম্বর ২০২৬মঙ্গলবারবিজ্ঞান১২৭সকাল ১০টা–১১টা ৩০ মিনিট
১৫ ডিসেম্বর ২০২৬মঙ্গলবারবাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়১৫০সকাল ১১টা ৩০ মিনিট–দুপুর ১টা

অর্থাৎ ১৫ ডিসেম্বর একই দিনে বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দুই বিষয়ের জন্য মোট সময় তিন ঘণ্টা। প্রকাশিত সময়সূচিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের প্রতিটির জন্য তিন ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোট ৪০০ নম্বরে হবে পরীক্ষা

২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে থাকবে ১০০ করে মোট ৩০০ নম্বর। বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—দুই বিষয়ে ৫০ করে মোট ১০০ নম্বর। এই ৪০০ নম্বরের ফলাফলের ভিত্তিতেই মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীদের বিবেচনা করা হবে।

বিশেষ করে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে পরীক্ষার কাঠামো কিছুটা আলাদা। প্রতিটি বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ থাকায় একই দিনে দুই বিষয়ের পরীক্ষা মিলিয়ে মোট তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

প্রকাশিত নির্দেশনায় পরীক্ষার্থীদের কয়েকটি বিষয় কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

প্রথমত, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের জন্য ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট—মোট তিন ঘণ্টা সময় থাকবে।

তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে সাত দিন আগে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

চতুর্থত, OMR ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

পঞ্চমত, পরীক্ষায় বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।

ষষ্ঠত, কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

প্রস্তুতির সময় এখনই কাজে লাগাতে হবে

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা এগিয়ে আসায় শিক্ষার্থীদের হাতে প্রস্তুতির সময়ও তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ নম্বর করে থাকায় এই তিনটি বিষয়ের প্রস্তুতিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ দুটি বিষয়ের প্রস্তুতিও সমন্বিতভাবে শেষ করা জরুরি।

পরীক্ষার সময়সূচি আগে থেকে চূড়ান্ত হওয়ায় এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার পরিকল্পনা তৈরি, নিয়মিত মডেল টেস্ট এবং OMR পূরণের অনুশীলন করা।

পুরোনো সূচি থেকে পরিবর্তন

২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করা হয়েছিল এবং ৩০ ডিসেম্বর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সিদ্ধান্তে পরীক্ষা প্রায় এক সপ্তাহ এগিয়ে এনে ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আগের শিক্ষাপঞ্জির পরিবর্তে নতুন প্রকাশিত সময়সূচিকেই চূড়ান্ত সূচি হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।

এক নজরে

  • পরীক্ষা শুরু: ৮ ডিসেম্বর ২০২৬
  • পরীক্ষা শেষ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬
  • পরীক্ষার সময়: সকাল ১০টা থেকে
  • বিষয়: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
  • মোট নম্বর: ৪০০
  • বাংলা: ১০০ নম্বর
  • ইংরেজি: ১০০ নম্বর
  • গণিত: ১০০ নম্বর
  • বিজ্ঞান: ৫০ নম্বর
  • বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: ৫০ নম্বর
  • ১৫ ডিসেম্বর: বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—দুই বিষয়ের পরীক্ষা
  • প্রবেশপত্র: পরীক্ষার অন্তত ৭ দিন আগে সংগ্রহ করতে হবে
  • ক্যালকুলেটর: অনুমোদিত সাধারণ বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে
  • মোবাইল/ইলেকট্রনিক ডিভাইস: পরীক্ষার্থীদের জন্য নিষিদ্ধ

সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকেই নতুন সূচি অনুসরণ করা উচিত। সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা এবং পরীক্ষাকেন্দ্র-সংক্রান্ত কার্যক্রমও এই নতুন তারিখকে কেন্দ্র করে সাজাতে হবে।

Source

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *