নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, আলোচনা, কমিশন, সভা, সুপারিশ ও নানা পর্যায়ের পর্যালোচনার মধ্যেও সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—শেষ পর্যন্ত সর্বনিম্ন মূল বেতন কত দাঁড়াবে?
আগামীকাল যদি সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের ঘোষণা আসে, তাহলে সেটি শুধু একটি বেতনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হবে না; বরং প্রায় এক দশক ধরে জমে থাকা বেতন-বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং পে-স্কেল প্রণয়নের যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করবে।
কারণ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। বিভিন্ন পর্যায়ের বিশ্লেষণে ২০তম গ্রেডের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়লে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ার হিসাবও এসেছে। অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা কোনো অস্বাভাবিক সংখ্যা নয়; এটি মূল বেতনের দ্বিগুণ করার একটি সরল হিসাব।
তবে এখানেই প্রশ্ন—২০১৫ সালের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০২৬ সালে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা করা কি সত্যিই নিম্নগ্রেডের কর্মচারীর জীবনমানের বড় পরিবর্তন ঘটাবে?
‘আমরা পে-স্কেল চাইনি, বৈষম্য দূরীকরণ চেয়েছিলাম’
সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশের দীর্ঘদিনের বক্তব্য হলো—তাদের মূল দাবি শুধু একটি নতুন পে-স্কেল নয়; বরং বেতন কাঠামোর ভেতরে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা।
২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। সেই সময় থেকে প্রায় এক দশক ধরে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি এবং দৈনন্দিন পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ অবস্থায় কেবল পুরোনো মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট শতাংশ যোগ করে নতুন অঙ্ক নির্ধারণ করলে প্রশ্ন থেকেই যায়—বেতন কি বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে, নাকি কেবল কাগজে বেতন বেড়েছে?
নবম জাতীয় বেতন কমিশন অবশ্য জানুয়ারি ২০২৬-এ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কমিশন ২০টি গ্রেড রাখার সুপারিশও করেছিল।
সুতরাং ১৬ হাজার ৫০০ টাকা যদি শেষ পর্যন্ত সর্বনিম্ন মূল বেতন হয়, তাহলে তা কমিশনের প্রস্তাবিত ২০ হাজার টাকার চেয়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা কম হবে।
১৬ হাজার ৫০০ টাকা কি ২০১৫ সালের ৮ হাজার ২৫০ টাকার সমমূল্য?
শুধু অঙ্কের হিসাবে উত্তর—না, একইভাবে দেখা যাবে না।
২০১৫ সালে ৮ হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে একজন কর্মচারী যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা কিনতে পারতেন, ২০২৬ সালে একই ৮ হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে সেই পরিমাণ পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব নয়।
১৬ হাজার ৫০০ টাকা হলো ৮ হাজার ২৫০ টাকার ঠিক দ্বিগুণ। অর্থাৎ নামমাত্র মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
কিন্তু একজন কর্মচারীর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার উন্নতি নির্ভর করে শুধু বেতন দ্বিগুণ হওয়ার ওপর নয়। নির্ভর করে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা ব্যয়, যাতায়াত ব্যয় এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যার ওপর।
এ কারণে ‘বেতন দ্বিগুণ’ এবং ‘ক্রয়ক্ষমতা দ্বিগুণ’—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা থাকলে হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে অনেক কর্মচারী যে বিশেষ সুবিধা বা বর্ধিত সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিও নতুন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হয় এবং বিদ্যমান ১৫ শতাংশ সুবিধা নতুন কাঠামোয় আলাদাভাবে না থাকে বা সমন্বয় হয়ে যায়, তাহলে কর্মচারীদের হাতে প্রকৃত অতিরিক্ত অর্থ কত থাকবে—সেটিই হবে বড় প্রশ্ন।
কারণ একজন নিম্নগ্রেডের কর্মচারীর বেতন থেকে শুধু ব্যক্তিগত খরচই মেটাতে হয় না। একই আয়ে তাকে পরিবার চালাতে হয়।
বাসাভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফি, বাজার খরচ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, মোবাইল ও ইন্টারনেট, যাতায়াত, সন্তানের টিউশন—সব মিলিয়ে মাসের শুরুতেই বেতনের বড় অংশ চলে যায়।
ফলে মূল বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হলেই একজন কর্মচারীর হাতে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা অবশিষ্ট থাকবে—এমন নয়।
‘বেতন বাড়ল, কিন্তু সংসার চলবে কীভাবে?’
নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের বাস্তব সংকট এখানেই।
একজন কর্মচারী মাসের শুরুতে বেতন পেলেন। এরপর বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, যাতায়াত এবং অন্যান্য আবশ্যিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পর হাতে যদি সামান্য অর্থ থাকে, তাহলে সঞ্চয় তো দূরের কথা—মাসের শেষ সপ্তাহ পার করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে বেতন কাঠামোর উদ্দেশ্য শুধু ‘বেতন বৃদ্ধি’ হলে চলবে না।
প্রশ্ন হতে হবে—
একজন কর্মচারী তার পরিবারের ন্যূনতম মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারছেন কি না?
এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত শুধু নতুন পে-স্কেলের সংখ্যা প্রকাশ করলেই বেতন-বৈষম্য দূর হয়েছে বলা কঠিন।
পে কমিশনের ২০ হাজার টাকার সুপারিশ তাহলে কোথায়?
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন দীর্ঘ সময় কাজ করে প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিশন ২১ জানুয়ারি ২০২৬ প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় এবং সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ প্রকাশ্যে আসে।
এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে আবার চূড়ান্ত বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন আলোচনা সামনে এসেছে। ১৮ আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশে সচিব কমিটির সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন।
অর্থাৎ কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত—এই তিনটি ধাপকে এক করে দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনই শেষ কথা।
কোটি কোটি টাকা খরচের প্রশ্ন কেন উঠছে?
বেতন কমিশন গঠন, সভা, জরিপ, পরামর্শ, প্রতিবেদন প্রণয়ন—এসব রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু কর্মচারীদের প্রশ্ন হলো, যদি শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুত করা সুপারিশের বড় অংশ বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে এত সময় ও অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা কী?
এই প্রশ্নকে সরাসরি ‘অপচয়’ হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নেওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি হিসাব ও ব্যয়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।
তবে জবাবদিহির প্রশ্নটি অমূলক নয়।
কারণ একটি জাতীয় বেতন কমিশন শুধু একটি রিপোর্ট তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়। এর সঙ্গে লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর জীবন, রাষ্ট্রীয় বাজেট এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা যুক্ত।
যদি কমিশন সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা সুপারিশ করে, পরে সেই অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কর্মচারীরা জানতে চাইবেন—কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করা হলো না কেন, আর গ্রহণ না করলে কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
‘পুকুর খনন ও ভরাট’—কর্মচারীদের ক্ষোভের প্রতীকী ভাষা
কর্মচারীদের ক্ষোভ বোঝাতে অনেকেই উদাহরণ টানছেন—একজন প্রধান শিক্ষক পুকুর খননের নামে অর্থ ব্যয় করলেন, পরে আরেকজন এসে সেই পুকুর ভরাটের নামে আবার অর্থ ব্যয় করলেন। শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের মাঠ আগের জায়গাতেই পড়ে রইল।
বেতন কমিশন নিয়েও এমন আশঙ্কা তৈরি হলে সেটি হবে অত্যন্ত হতাশাজনক।
কারণ একটি বেতন কাঠামো তৈরিতে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা, জরিপ, সভা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালানোর পর যদি শেষ পর্যন্ত কর্মচারীরা এমন একটি কাঠামো পান, যা তাদের মৌলিক আর্থিক সংকট কাটাতে পারে না, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—
তাহলে এত আয়োজনের ফল কী?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বেতন বৈষম্য কি কমবে?
এখানে শুধু সর্বনিম্ন বেতন দেখলে হবে না।
বেতন বৈষম্য পরিমাপের জন্য দেখতে হবে—
- সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত কত?
- ২০টি গ্রেডের মধ্যে ব্যবধান কত?
- নিম্নগ্রেডের কর্মচারীর বেতন কত দ্রুত বাড়বে?
- উচ্চগ্রেডের সঙ্গে নিম্নগ্রেডের বেতন ব্যবধান কমছে কি না?
- একই ধরনের দায়িত্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন বৈষম্য থাকছে কি না?
- পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ কতটা বাস্তবসম্মত?
- ভাতা ও মূল বেতনের কাঠামো নিম্নগ্রেডবান্ধব কি না?
জানুয়ারিতে প্রকাশিত কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার কাঠামো ছিল। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্নের অনুপাত দাঁড়ায় প্রায় ১:৮।
এই অনুপাত যদি শেষ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়, তাহলে সেটিও বেতন বৈষম্যের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
শুধু বেতন নয়, দরকার ‘জীবনযাপনের নিরাপত্তা’
একজন সরকারি কর্মচারী চাকরিতে প্রবেশের সময় শুধু নিজের জন্য চাকরি নেন না। তিনি একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেন।
তার বেতনের ওপর নির্ভর করে—
খাদ্য → বাসস্থান → চিকিৎসা → শিক্ষা → যাতায়াত → পোশাক → সামাজিক দায়িত্ব → ভবিষ্যৎ সঞ্চয়।
এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রে যদি পর্যাপ্ত আয় না থাকে, তাহলে কর্মচারীকে ঋণ, ধার কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যের আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তখন ‘সরকারি চাকরি’ নামের নিরাপত্তা থাকলেও আর্থিক নিরাপত্তা থাকে না।
এ কারণেই নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের কাছে পে-স্কেলের আসল প্রশ্ন হলো—
মাসের শেষ দিন পর্যন্ত পরিবারের খরচ চালানোর মতো অর্থ থাকবে কি না।
১৬ হাজার ৫০০ টাকা হলে কী দাঁড়াবে?
যদি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা সত্যিই সর্বনিম্ন মূল বেতন হিসেবে চূড়ান্ত হয়, তাহলে এটিকে একদিকে ২০১৫ সালের ৮ হাজার ২৫০ টাকার তুলনায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি বলা যাবে।
কিন্তু অন্যদিকে, কমিশনের প্রকাশ্য ২০ হাজার টাকার সুপারিশের তুলনায় এটি ৩ হাজার ৫০০ টাকা কম।
অতএব, কর্মচারীদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকবে—
কেন ২০ হাজার টাকা নয়?
আরও বড় প্রশ্ন—
এই ১৬ হাজার ৫০০ টাকা কি বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় একটি পরিবারের ন্যূনতম মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পারবে?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বেতন কাঠামোর টেবিল দিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হবে বাস্তব ব্যয়ের হিসাব।
শেষ কথা
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এখন কর্মচারীদের প্রত্যাশা শুধু একটি নতুন বেতন সংখ্যা নয়।
তারা চান বৈষম্য কমুক, নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা বাঁচার মতো বেতন পান, বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হোক এবং রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি থাকুক।
সর্বনিম্ন বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হলে সেটি নিঃসন্দেহে ২০১৫ সালের ৮ হাজার ২৫০ টাকার তুলনায় দ্বিগুণ। কিন্তু দ্বিগুণ বেতন মানেই দ্বিগুণ স্বস্তি নয়।
আর পে কমিশনের সুপারিশ যদি ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ১৬ হাজার ৫০০ টাকার চূড়ান্ত অঙ্ক হলে তার ব্যাখ্যাও সরকারকে দিতে হবে।
কারণ সরকারি কর্মচারীদের প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ—
‘বেতন কত বাড়ল’—এর চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ‘বেতন বাড়ার পর মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সংসারটা কি চালানো যাবে?’
আর এখানেই নবম পে-স্কেলের প্রকৃত সফলতা বা ব্যর্থতার পরীক্ষা।
নোট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে ১৬,৫০০ টাকা নিয়ে আলোচনা পাওয়া গেলেও এটিকে আগামীকালের চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে নিশ্চিত করার মতো গেজেট/প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি। তাই ১৬,৫০০ টাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

