চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে সারাদেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির কাউন্সিল অনুষ্ঠানে নবমনোনীত সভাপতি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা আব্দুল মালেক এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উপসচিব মো. আব্দুল খালেক ১০১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে নবমনোনীত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হলেন:
সভাপতি: আব্দুল মালেক (বাংলাদেশ রেলওয়ে)
কার্যকরী সভাপতি: মু. শাহাবুদ্দিন মুন্সী (পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়)
সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. শাহীন খান (বাংলাদেশ রেলওয়ে)
মহাসচিব: আশিকুল ইসলাম (ক্রীড়া অধিদপ্তর)
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব: আব্দুল কাদের খান (ঢাকা ওয়াসা)
সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. ইয়াসিন হাওলাদার ও মো. সোহেল রানা (প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর)
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: এবি বেগম (বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা)
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: আমেনা বেগম (ঢাকা মেডিকেল)
অর্থ সম্পাদক: সৈয়দা তাবাসসুম মীম (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন)
প্রধান অতিথির বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে পে-স্কেলের ঘোষণা করা হয়েছে, তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও দাবি
সভাপতির বক্তব্যে আবদুল মালেক বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় প্রথম বাজেট অধিবেশনে ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ায় তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তবে শুধু ঘোষণা দিলেই চলবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয় ও পারিবারিক খরচ বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মচারীরা চরম সংকটে রয়েছেন। তাই সময় ক্ষেপণ না করে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, নতুন পে-স্কেলের দাবিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ ১১ বছর আন্দোলন করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই আন্দোলনে যমুনামুখী পদযাত্রায় অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।
কাউন্সিল ও আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ এবং যমুনামুখী পদযাত্রায় আহত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সংহতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
