গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে ‘নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১’ প্রণয়ন করেছে । রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) কর্তৃক জারিকৃত এই বিধিমালা জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য ব্যতীত সকল নন-ক্যাডার গেজেটেড ও নন-গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে ।
বিধিমালার প্রধান দিকসমূহ
নতুন এই বিধিমালার অধীনে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পদোন্নতির যোগ্যতা এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান আরোপ করা হয়েছে।
১. জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ পদ্ধতি:
সরাসরি নিয়োগ: পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির নিয়োগপ্রাপ্তদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ বিবেচিত হবেন । একই বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে মেধা তালিকা অনুসারে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে । মেধা তালিকা না থাকলে বয়সের ভিত্তিতে এবং বয়স সমান হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের বছরের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে ।
সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা: সংশ্লিষ্ট শ্রেণীর প্রারম্ভিক পদে নিয়মিত যোগদানের তারিখের ভিত্তিতে এটি নির্ধারিত হবে ।
সরাসরি নিয়োগ বনাম পদোন্নতি: একই পঞ্জিকা বছরে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা পাবেন ।
২. পদোন্নতির শর্ত ও মূল্যায়ন পদ্ধতি (ACR):
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী: পদোন্নতির জন্য বিগত ৫ বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের (ACR) গড় নম্বর ন্যূনতম ৮০ হতে হবে । কোনো বছরে ৪০ বা তার নিচে নম্বর পেলে তা ‘বিরূপ মন্তব্য’ হিসেবে গণ্য হবে ।
তৃতীয় শ্রেণী: বিগত ৫ বছরের এসিআর-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩ বছর ‘অতি উত্তম’ বা ‘উত্তম’ মূল্যায়ন থাকতে হবে ।
চতুর্থ শ্রেণী: চাকুরি বহিতে কোনো বিরূপ মন্তব্য থাকলে সেটি প্রদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত তিনি পদোন্নতির অযোগ্য হবেন ।
৩. দণ্ডপ্রাপ্ত ও মামলারতদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা: বিভাগীয় মামলা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের চার্জশীটভুক্ত অথবা ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারকৃত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না । লঘু দণ্ডের ক্ষেত্রে দণ্ডভোগ শেষ হওয়ার পর ১ বছর এবং গুরুদণ্ডের ক্ষেত্রে ২ বছর পর্যন্ত পদোন্নতি স্থগিত থাকবে । তবে মামলা থেকে খালাস পেলে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তিনি ‘ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা’ (Notional Seniority) সহ পদোন্নতি পেতে পারেন ।
৪. বিরূপ মন্তব্য ও প্রতিকার: বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে কোনো বিরূপ মন্তব্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে হবে । এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মন্ত্রণালয় বা বিভাগীয় প্রধানের কাছে আপিল করতে পারবেন । আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পদটি সংরক্ষিত রাখতে হবে ।
৫. জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ: কর্তৃপক্ষকে প্রথমে একটি খসড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করতে হবে । তালিকায় কোনো আপত্তি থাকলে তা প্রকাশের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং শুনানি শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে ।
গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নিয়মাবলী:
অনুমোদিত জ্যেষ্ঠতা তালিকা অনুসরণ ছাড়া কোনো পদোন্নতি প্রদান করা যাবে না ।
লিয়েন বা চলতি দায়িত্বের কারণে সৃষ্ট শূন্য পদে স্থায়ী পদোন্নতি দেওয়া যাবে না ।
অবসর উত্তর ছুটি (PRL) ভোগরত অবস্থায় কেউ পদোন্নতি পাবেন না ।
প্রেষণে থাকা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মূল পদে যোগদান না করা পর্যন্ত পদোন্নতি কার্যকর হবে না ।
এই বিধিমালা জারির ফলে সরকারি দপ্তরগুলোতে নন-ক্যাডার জনবল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
