আজকের খবর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে বিধিমালা: বিস্তারিত গাইডলাইন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে ‘নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১’ প্রণয়ন করেছে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) কর্তৃক জারিকৃত এই বিধিমালা জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য ব্যতীত সকল নন-ক্যাডার গেজেটেড ও নন-গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে

বিধিমালার প্রধান দিকসমূহ

নতুন এই বিধিমালার অধীনে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পদোন্নতির যোগ্যতা এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান আরোপ করা হয়েছে।

১. জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ পদ্ধতি:

  • সরাসরি নিয়োগ: পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির নিয়োগপ্রাপ্তদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ বিবেচিত হবেন একই বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে মেধা তালিকা অনুসারে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে মেধা তালিকা না থাকলে বয়সের ভিত্তিতে এবং বয়স সমান হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের বছরের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে

  • সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা: সংশ্লিষ্ট শ্রেণীর প্রারম্ভিক পদে নিয়মিত যোগদানের তারিখের ভিত্তিতে এটি নির্ধারিত হবে

  • সরাসরি নিয়োগ বনাম পদোন্নতি: একই পঞ্জিকা বছরে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা পাবেন

২. পদোন্নতির শর্ত ও মূল্যায়ন পদ্ধতি (ACR):

  • প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী: পদোন্নতির জন্য বিগত ৫ বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের (ACR) গড় নম্বর ন্যূনতম ৮০ হতে হবে কোনো বছরে ৪০ বা তার নিচে নম্বর পেলে তা ‘বিরূপ মন্তব্য’ হিসেবে গণ্য হবে

  • তৃতীয় শ্রেণী: বিগত ৫ বছরের এসিআর-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩ বছর ‘অতি উত্তম’ বা ‘উত্তম’ মূল্যায়ন থাকতে হবে

  • চতুর্থ শ্রেণী: চাকুরি বহিতে কোনো বিরূপ মন্তব্য থাকলে সেটি প্রদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত তিনি পদোন্নতির অযোগ্য হবেন

৩. দণ্ডপ্রাপ্ত ও মামলারতদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা: বিভাগীয় মামলা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের চার্জশীটভুক্ত অথবা ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারকৃত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না লঘু দণ্ডের ক্ষেত্রে দণ্ডভোগ শেষ হওয়ার পর ১ বছর এবং গুরুদণ্ডের ক্ষেত্রে ২ বছর পর্যন্ত পদোন্নতি স্থগিত থাকবে তবে মামলা থেকে খালাস পেলে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তিনি ‘ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা’ (Notional Seniority) সহ পদোন্নতি পেতে পারেন

৪. বিরূপ মন্তব্য ও প্রতিকার: বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে কোনো বিরূপ মন্তব্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে হবে এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মন্ত্রণালয় বা বিভাগীয় প্রধানের কাছে আপিল করতে পারবেন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পদটি সংরক্ষিত রাখতে হবে

৫. জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ: কর্তৃপক্ষকে প্রথমে একটি খসড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করতে হবে তালিকায় কোনো আপত্তি থাকলে তা প্রকাশের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং শুনানি শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে

গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নিয়মাবলী:

  • অনুমোদিত জ্যেষ্ঠতা তালিকা অনুসরণ ছাড়া কোনো পদোন্নতি প্রদান করা যাবে না

  • লিয়েন বা চলতি দায়িত্বের কারণে সৃষ্ট শূন্য পদে স্থায়ী পদোন্নতি দেওয়া যাবে না

  • অবসর উত্তর ছুটি (PRL) ভোগরত অবস্থায় কেউ পদোন্নতি পাবেন না

  • প্রেষণে থাকা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মূল পদে যোগদান না করা পর্যন্ত পদোন্নতি কার্যকর হবে না

এই বিধিমালা জারির ফলে সরকারি দপ্তরগুলোতে নন-ক্যাডার জনবল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *