পে স্কেল নিউজ ২০২৬

১১ বছর ধরে অপরিবর্তিত সরকারি চাকরিজীবীদের শিক্ষাভাতা—বাস্তবতার সংকট নাকি প্রহসন?

২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানপ্রতি মাসিক শিক্ষা সহায়তা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৫০০ টাকা। দীর্ঘ ১১ বছর অতিক্রান্ত হয়ে ২০২৬ সালে এসেও সেই ৫০০ টাকার অঙ্কটিতে একচুলও পরিবর্তন আসেনি। অথচ এই এক দশকে দেশের বাজারদর, শিক্ষা উপকরণের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্তমান যুগে একটি সাধারণ স্কুলের পরীক্ষার ফি বা টিউশন ফি যেখানে হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে মাসিক ৫০০ টাকার শিক্ষা ভাতা নিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

১. মূল্যস্ফীতি এবং শিক্ষা ব্যয়ের আকাশচুম্বী ব্যবধান

২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল—এই ১১ বছরের ব্যবধানে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির গ্রাফ কেবল ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এক দশক আগে চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে খাতা, কলম, স্কুল ড্রেস ও বইয়ের দাম যা ছিল, বর্তমানে তা কয়েকশো গুণ বেড়েছে। অথচ সরকারি ও আধাসর সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত মাসিক ৫০০ টাকার শিক্ষা ভাতা রয়ে গেছে একই জায়গায়। বাস্তবতা হলো, বর্তমান বাজারে ১ কেজি ভালো মানের কাগজ বা একটি গাইডবইয়ের দামও এই ভাতার চেয়ে বেশি।

২. নামমাত্র শিক্ষা ভাতা: এক নিষ্ঠুর রসিকতা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, কোচিং বা প্রাইভেট খরচ এবং পরীক্ষা ফি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেবল একটি টার্ম পরীক্ষার ফি দিতে হয় ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। সেখানে সন্তানপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ দুজন সন্তানের জন্য ১০০০ টাকা) ভাতা পাওয়া মানে খরচের সাগরে এক ফোঁটা জলের সমান। চাকরিজীবীরা বলছেন, এটি কোনো সহায়তা নয়, বরং বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ধরণের উপহাস বা প্রহসন।

৩. অন্যান্য ভাতার পরিবর্তন বনাম শিক্ষাভাতার স্থবিরতা

সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা, প্রশিক্ষণ সম্মানী বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও শিক্ষাভাতার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থেকে গেছে। অথচ একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখতে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষার খরচ মেটানো সবচেয়ে বেশি জরুরি। নীতিনির্ধারকদের এই উদাসীনতা নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

কর্মচারীদের জোরালো দাবি ও আন্দোলন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে এখন একট The প্রবল দাবি উঠেছে—“অবিলম্বে শিক্ষাভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে যুগোপযোগী করতে হবে।” চাকরিজীবীদের প্রশ্ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই নামমাত্র টাকায় কীভাবে সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালানো সম্ভব? ১১ বছর আগের অর্থনীতি আর ২০২৬ সালের অর্থনীতি এক নয়, তাই সরকারের উচিত দ্রুত বাজেট পুনর্বিন্যাস করে এই ভাতা অন্তত ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকায় উন্নীত করা।

বিশেষ নোট: রাষ্ট্র গঠনের কারিগর ও মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের সন্তানদের মৌলিক অধিকার ও শিক্ষার পথ সুগম করতে শিক্ষাভাতার এই স্থবিরতা ভাঙা এখন সময়ের দাবি। নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি কত দ্রুত আমলে নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *