Credit Card (ক্রেডিট কার্ড), বর্তমানে অনেক জনপ্রিয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই ক্রেডিট কার্ড দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার করছেন। আবার যারা ব্যবহার করছেন না, তাদের আগ্রহের অন্ত নেই ক্রেডিট কার্ড নিয়ে। ক্রেডিট কার্ড হল একটি বিশেষ ধরনের পরিশোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কার্ড, যা ওই পরিশোধ ব্যবস্থার ব্যবহারকারীদেরকে ইস্যু করা হয়। এই কার্ডের বাহক পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারেন এবং মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।

চলুন আজ ক্রেডিট কার্ডের বিস্তারিত জানি।

ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি কার্ড যা তার ব্যবহারকারীকে ধারে বা বাকিতে কোন পন্য কিনতে বা কোন সেবা গ্রহণ করতে সহায়তা করে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে লেনদেন অনেক সহজ হয়েছে। এমনকি আপনি আপনার পাসপোর্ট, স্মার্টফোন এবং একটি ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে নিয়ে দেশ বিদেশ ঘুরে চলে আসতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ড তার ব্যবহারকারীকে যে সকল সুবিধা প্রদান করে তা প্রথমেই দেখে নিই

  1. নগদ বা ক্যাশ লেনদেন এর চেয়ে অধিক নিরাপদ। মনে রাখতে হবে Once the cash is gone, it’s gone.
  2. জরুরী মূহুর্তে নগদ অর্থের জোগান দেয়।
  3. অনলাইন কেনাকানায় সুবিধা প্রদান করে।
  4. কিস্তিতে কেনাকাটা করা যায়, এমনকি সুদ ব্যাতিরেকেও কিস্তিতে কেনাকাটা করা যায়।
  5. কেনাকাটার সাথে সাথেই বিল পরিশোধ করতে হয় না। ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত রেয়াত পাওয়া যায়। অর্থাৎ আজ কেনাকাটা করবেন আর মাস শেষে বেতন/ টাকা পেয়ে বিল পরিশোধ করবেন।
  6. ভ্রমনের ক্ষেত্রে বাড়তি অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।

এছাড়াও আরো অনেক সুবিধা রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড এর ছোটখাট কিছু অসুবিধাও রয়েছে যা পোস্টের শেষদিকে আলোচনা করবো। আমাদের দেশে কয়েক ধরণের ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়। যেমন, Master Credit Card, Visa Credit Card, Amex Card ইত্যাদি।

ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করতে চাইলে যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন হবে

  • TIN Certificate (Mandatory)
  • CIB Declaration (Mandatory)
  • Photocopy of: Passport/NID (Mandatory)
  • Photograph
  • Salary Certificate: Signed by Manager Accounts / HR / Admin /Finance / Personnel or equivalent on official letterhead)
  • Bank Account Statement: Last 6(six) months
  • Pay slip: latest month’s (not more than three month’s old) pay slip stating Company’s name
  • Own house document/Electric bill/WASA bill
  • Telephone bill/Driving License/Registration Certificate of own Car to be original seen and duly attested by the bank’s Authorized Officials.
  • Security Cheque
  • Charge document
  • 3rd party guarantee
  • Personal Undertaking of spouse
  • Card Statement- Copy of other Bank’s card statement for last 3 (three) months (if any).

এর বাইরে ব্যাংক ভেদে কিছু কাগজপত্র চাইতে পারে। আসুন ক্রেডিট কার্ড এর যাবতীয় খরচ গুলে সম্পর্কে জেনে নিই। তবে খরচ ব্যাংক ভেদে এবং কার্ডের ধরণ ভেদে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। ব্যাংকের মার্কেটিং কর্মকর্তার কথায় না ভুলে আগেই যাবতীয় খরচ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। কিছু চার্জ নিচে আলোচনা করছি।

Annual Fee 2023

বার্ষিক চার্জ ব্যাংক ভেদে এবং কার্ড ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। কার্ড ভেদে ১৫০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। CIty Bank American Express Platinum Credit Card এ বার্ষিক চার্জ ২৫,০০০ টাকা। তবে কিছু কিছু ব্যাংক বার্ষিক ব্যবহার (টাকার অঙ্কে) অথবা লেনদেন সংখ্যার উপর Annual Fee মাফ করার সুযোগ থাকে। উদাহরণ স্বরূপ: কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে বার্ষিক ১৮ টি লেনদেন করলে Annual Fee দিতে হয়না আবার কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে ২-৫ লক্ষ টাকার কেনাকাটা করলে Annual Fee দিতে হয়না।

Late Payment Fee এবং সুদ প্রদান পদ্ধতি ২০২৩

সাধারণত কেনাকাটায় সুদ দিতে হয় না। ধরুন আপনি যে ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিয়েছেন সে ব্যাংকের কার্ড বিলিং সার্কেল মাসের ১ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ হলে এবং আপনি এই তারিখের মধ্যে কোন কেনাকাটা করলে পরবর্তীতে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে কোন কেনাকাটা করলে তার বিল ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন বিল পরিশোধের রেয়াত পাওয়া যায়। তবে উক্ত তারিখের মধ্যে পরিশোধ না করলে আপনাকে Late Payment Fee এবং সুদ চার্জ হবে। Late Payment Fee ৫০০ টাকার মত পরিশোধ করতে হয়। আর সুদ সর্বোচ্চ ২০%। টাকা নগদ উত্তোলনে ১ম দিন থেকেই সুদ দিতে হবে।

বিনা সুদে কিস্তিতে পরিশোধ পদ্ধতি ২০২৩

উক্ত ব্যাংকের সাথে যেসকল প্রতিষ্ঠানের চুক্তি রয়েছে সেসকল প্রতিষ্ঠানের কোন পন্য কিনলে আপনি বিনা সুদে কিস্তি সুবিধা পাবেন। তবে যাদের সাথে ব্যাংকের চুক্তি নেই তাদের থেকে কিস্তিতে জিনিস কিনলে সুদ দিতে হবে যা ব্যাংক ভেদে এবং মাস ভেদে ভিন্ন হয়।

এর বাইরে Supplementary Card Fee, Cash Advance Fee, Over Limit Charge, Cash Advance Charge, Balance Transfer Fee, CIB Fee, SMS Notification Fee, PIN Replacement Fee, Closing Fee নামে ব্যাংক ভেদে এবং সেবা ভেদে বিভিন্ন চার্জ প্রদান করতে হয়।

আর তাই ক্রেডিট কার্ড গ্রহনের পূর্বে উক্ত ব্যাংকের চার্জ সম্পর্কে আগে ভাগেই ভাল মত খোঁজখবর নিতে নেয়া ভাল। সব ব্যাংকেরই ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। তবে সবচেয়ে সুযোগ সুবিধা রয়েছে City Bank American Express (Amex), EBL Credit Card, DBBL Credit Card, MTB এর কার্ড এ । এর বাইরেও আপনি আপনার নিকটস্থ যেকোন ব্যাংকের শাখা থেকে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করতে পারের।

ক্রেডিট কার্ডের কিছু অসুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো তা এর ব্যবহারকারীর খরচ করার ধরণের উপর প্রভাব ফেলে। ক্রয়ক্ষমতা না থাকলেও অনেক সময় দেখা আমরা বাড়তি কেনাকাটা করা ফেলার প্রবণতা থাকে। যাইহোক, জীবনের অন্য সব কিছুর মতোই, ক্রেডিট কার্ড সবার জন্য নয়। বলা হয়, আপনার যদি খরচের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকে এবং নিয়মিত পাওনা পরিশোধের অভ্যাস না থাকে তবে তা থেকে উত্তরণের আগ পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড নেয়া আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।

ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা এবং সুদের হার ইত্যাদি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *