আজকের খবর ২০২৬

ভূমি উন্নয়ন কর দিতে কী কী লাগবে? জেনে নিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও ভূমি সেবা গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার এনেছে। এখন ঘরে বসেই অনলাইনে কিংবা নিকটস্থ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে নাগরিকরা তাদের ভূমি উন্নয়ন কর বা দাখিলা প্রদান করতে পারছেন। তবে অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে সাধারণ মানুষকে ভূমি অফিসে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। নাগরিকদের এই ভোগান্তি দূর করতে এবং সেবা প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি একটি ভূমি অফিসের দেওয়ালে টানানো নির্দেশিকা চিত্রে দৃশ্যমান) থেকে জানা যায়, এখন থেকে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য প্রধানত ৪টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে।

কর প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ৪টি ডকুমেন্ট:

১. মালিকানার নামজারি পর্চা (খারিজ খতিয়ান) এর ফটোকপি (১ কপি): জমির সর্বশেষ মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য নামজারি খতিয়ান বা মিউটেশন পর্চা অত্যন্ত জরুরি। কর দেওয়ার সময় এর এক কপি ফটোকপি জমা দিতে হবে।

২. জাতীয় পরিচয় পত্রের (NID) ফটোকপি: জমিতে যতজন অংশীদার বা মালিক থাকবেন, প্রত্যেক মালিকের আলাদা আলাদা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি প্রয়োজন হবে।

৩. পাসপোর্ট সাইজ ছবি: জাতীয় পরিচয়পত্রের মতোই জমির প্রত্যেক মালিকের এক কপি করে পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।

৪. সচল মোবাইল নম্বর: করদাতার একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে, যার মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন, করের পরিমাণ সংক্রান্ত ওটিপি (OTP) এবং পেমেন্ট সফল হওয়ার পর নিশ্চিতকরণ বা ডিজিটাল দাখিলার মেসেজ ও তথ্য পাওয়া যাবে।

কেন এই নিয়ম এবং এর সুবিধা কী?

ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্বে অনেক সময় মূল মালিকের অনুপস্থিতিতে বা ভুল তথ্যের কারণে কর আদায়ে জটিলতা তৈরি হতো। কিন্তু এখন এনআইডি, ছবি এবং মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করায় ভূমির প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে। এর ফলে:

  • ভূমি জালিয়াতি রোধ: একজনের জমি অন্য কেউ নিজের নামে চালিয়ে কর দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে।

  • ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি: সরকারের স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে করদাতার সঠিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

  • হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা প্রকাশ্যে দেওয়াল বা বোর্ডে টানানো থাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং নাগরিকরা সরাসরি নির্দিষ্ট ফি দিয়ে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাধারণ গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন ভূমি অফিসে যাওয়ার আগে এই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো সাথে নিয়ে যান, যাতে খুব অল্প সময়ে এবং কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই তাদের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারেন।

ভূমি সেবা সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট এবং ই-মিউটেশন বা ডিজিটাল ট্যাক্স সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *