জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে ৯ম পে-স্কেল ঘোষণা এবং ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে সারাদেশে আন্দোলন জোরদার করেছে সরকারি কর্মচারীরা। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে এই গেজেট প্রকাশের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। আজ ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাবি মানা না হলে আগামীকাল ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে ‘ভুখা মিছিল’ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
আন্দোলনের পটভূমি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
২০১৫ সালে সর্বশেষ ৮ম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা না করায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত ২১ জানুয়ারি পে-কমিশন রিপোর্ট জমা দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গেজেট প্রকাশে কালক্ষেপণ এবং সম্প্রতি জ্বালানি উপদেষ্টার একটি মন্তব্য কর্মচারীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। আন্দোলনকারীদের মতে, বর্তমান ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে বিশেষ ইনক্রিমেন্ট বা সামান্য ভাতা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া কর্মসূচি
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে প্রতিদিন ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ পালিত হয়েছে।
ঢাকা: সিভিল এভিয়েশন একাডেমি প্রাঙ্গণে বেবিচক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ৩ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালিত হয়।
বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়: পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, নওগাঁ এবং নোয়াখালীর হাতিয়াসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
নির্বাচন বর্জনের হুমকি: হাতিয়ায় আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে কর্মচারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে তারা আসন্ন নির্বাচন বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
প্রধান ৭ দফা দাবিসমূহ
আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিনামায় প্রধানত যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন:
১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি।
২০১৫ সালের পে-স্কেলে বাতিলকৃত ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল।
প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীদের জন্য অভিন্ন নিয়োগবিধি ও রেশন পদ্ধতি চালু।
বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) অব্যাহত রাখা এবং বেতন বৈষম্য দূর করা।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পেনশনের ব্যবস্থা।
ব্লক পোস্টে কর্মরতদের ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান।
উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরিকাল গণনার বৈষম্য দূর করা।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, “আমরা গত সাত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, কিন্তু সরকার কেবল আশ্বাসের বুলি শোনাচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে সময় নষ্ট করছেন।”
সংগঠনের নেতারা আরও জানান, কমিশনের সুপারিশে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও তা ফাইলবন্দি হয়ে আছে। আগামীকাল ৬ ফেব্রুয়ারির ‘ভুখা মিছিল’ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান।
আগামী দিনের শঙ্কা
যদি ৬ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচির পরও সরকার কোনো ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতির পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এই আন্দোলন প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
