নওগাঁর পোরশা উপজেলার ৩নং ছাওড় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাধীন গবাদিপশু ও পাখির জন্য বাংলা ১৪৩৩ সনের নতুন খোয়াড় মাশুল বা রেট তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তালিকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
আবাসিক এলাকা ও কৃষি জমির নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী এই হার নির্ধারণ করেছে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
পশু-পাখি ভেদে নির্ধারিত মাশুল ও খোরাকি
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন পশু ও পাখির জন্য মাশুল (রেট) এবং দৈনিক খোরাকি খরচ আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে:
গরু, মহিষ ও ঘোড়া: প্রতিটি পশুর জন্য মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা এবং দৈনিক খোরাকি খরচ ৭০ টাকা।
ছাগল ও ভেড়া: মাশুল ২০০ টাকা এবং খোরাকি খরচ ৫০ টাকা।
শুকুর: মাশুল ২৫০ টাকা এবং খোরাকি বাবদ ২০০ টাকা ধরা হয়েছে।
হাতি: বিশাল আকৃতির এই প্রাণীর জন্য মাশুল ২,০০০ টাকা এবং দৈনিক খোরাকি ব্যয়ও ২,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাঁস: রাজহাঁসের জন্য ১২০ টাকা মাশুল ও ৫০ টাকা খোরাকি এবং পাতিহাঁসের ক্ষেত্রে ৭০ টাকা মাশুল ও ৩০ টাকা খোরাকি খরচ ধরা হয়েছে।
ফলজ বাগান ও বৃক্ষ নিধনে অতিরিক্ত দণ্ড
শুধুমাত্র খোয়াড় মাশুলই নয়, গবাদিপশু যদি কারো আম বাগান বা ফলজ বাগানের গাছ ক্ষতি করে, তবে তার জন্য অতিরিক্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে:
গরু, মহিষ বা ঘোড়া দ্বারা গাছের ক্ষতি হলে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে হবে।
ছাগল বা ভেড়া দ্বারা ক্ষতি হলে ৪০০ টাকা অতিরিক্ত প্রদান করতে হবে।
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত
৩নং ছাওড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষা এবং গবাদিপশুর মাধ্যমে যেন কৃষকের ফসলের বা বাগানের ক্ষতি না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই রেট চার্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ এই রেট পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।
নতুন এই তালিকা প্রকাশের ফলে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে খোয়াড় সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং গবাদিপশু পালনে মালিকরা আরও সচেতন হবেন বলে আশা করছে ইউনিয়ন পরিষদ।

