ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রাপ্তিকে সহজতর করতে তৃণমূল পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ইউনিয়ন ভূমি অফিস (যা সাধারণ মানুষের কাছে তহশিল অফিস নামেও পরিচিত)। সাধারণ নাগরিকদের জমিজমা সংক্রান্ত মৌলিক সেবা প্রদান এবং সরকারি ভূমির সুরক্ষায় এই অফিসটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে অনেক সময়ই সঠিক তথ্যের অভাবে নাগরিকরা বিভ্রান্ত হন। সম্প্রতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রধান কার্যাবলীর একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মূল দায়িত্বসমূহ
সাধারণ মানুষের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রাজস্ব আদায়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিস মূলত ১০টি প্রধান কাজ সম্পাদন করে থাকে:
ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায়: নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা আদায় করা এবং করদাতার অনুকূলে বৈধ দাখিলা (রসিদ) প্রদান করা এই অফিসের অন্যতম প্রধান কাজ।
নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়াকরণ: নতুন ভূমির মালিকানার ক্ষেত্রে নামজারি সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি এখানেই সম্পন্ন হয়।
রেকর্ড সংরক্ষণ ও হালনাগাদ: খতিয়ান ও জমির রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা এবং ভূমি উন্নয়ন করের রেকর্ড নিয়মিত হালনাগাদ রাখা এদের আইনি দায়িত্ব।
সরকারি ও খাস জমি তদারকি: স্থানীয় খাস জমির তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং তদারকি করার পাশাপাশি সরকারি জমি অবৈধ দখল ও ব্যবহারমুক্ত রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পাঠানো।
আবেদন ও অভিযোগ নিষ্পত্তি: ভূমি সংক্রান্ত জনসাধারণের বিভিন্ন আবেদন ও অভিযোগ গ্রহণ করে তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা।
মাঠ পর্যায়ে তথ্য যাচাই ও পরামর্শ: মাঠ পর্যায়ে জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ে সহায়তা করা এবং সাধারণ জনগণকে ভূমি সেবা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য ও আইনি পরামর্শ প্রদান করা।
সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি সতর্কতা: দলিল নিবন্ধন এখানে হয় না
ভূমি সেবা নিতে গিয়ে অনেকেই ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কাজের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন। এই বিষয়ে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে:
মনে রাখবেন: ইউনিয়ন ভূমি অফিস কোনো প্রকার জমির দলিল (রেজিস্ট্রি) তৈরি বা নিবন্ধন করে না। জমি কেনাবেচার পর দলিল নিবন্ধনের (Registry) যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজ হলো দলিল নিবন্ধনের পর সেই তথ্যের ভিত্তিতে জমির মালিকানা পরিবর্তন বা নামজারি (মিউটেশন) করা এবং খাজনা আদায় করা।
সহজ সেবার প্রত্যয়
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে নাগরিকরা এখন অনেক সেবা ঘরে বসেই ই-নামজারি বা অনলাইন খাজনা ব্যবস্থার মাধ্যমে পাচ্ছেন। ভূমি অফিসের এই প্রধান কাজগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে সাধারণ মানুষ যেমন দালালের খপ্পর থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নিজেদের ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।
