টাঙ্গাইল সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অধিক্ষেত্রাধীন বিভিন্ন মৌজার জমির শ্রেণিভিত্তিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের জন্য প্রযোজ্য এই তালিকায় টাঙ্গাইল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন মৌজায় বাড়ি, কান্দা, নামা, ভিটা, পালান, দোকান, পাগার, ডোবা, বাঁশঝাড়, পুকুর, বাগান, ছন/পতিত, ছনক্ষেত/ছনখোলাসহ বিভিন্ন শ্রেণির প্রতি শতাংশ ভূমির বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের জন্য কার্যকর বাজারমূল্য
টাঙ্গাইল সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে প্রস্তুত করা নথিতে বলা হয়েছে, সম্পত্তির বাজার মূল্য নির্ধারণ বিধিমালা, ২০১০ (সংশোধিত ২০১২ ও ২০১৫) অনুযায়ী তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারমূল্য নির্ধারণ কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রতি শতাংশ ভূমির শ্রেণিভিত্তিক মূল্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নথির গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো—বাজারমূল্য নির্ধারণের সময় ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নিবন্ধিত সকল বিক্রয় দলিল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ফলে তালিকাটি কেবল অনুমাননির্ভর নয়; সংশ্লিষ্ট সময়ের নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের তথ্যও মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, তালিকায় প্রদর্শিত মূল্য টাকায় নির্ধারিত।
পৌর এলাকার মৌজাগুলোতে শ্রেণিভেদে আলাদা মূল্য
নথির ৩ থেকে ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় টাঙ্গাইল পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রতিটি মৌজার জন্য জমির শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা আলাদা বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, আকুরটাকুর, কান্দাপাড়া, টাঙ্গাইল, আশেকপুর, বিশ্বাস বেতকা, সারটিয়া, করটিয়া, অলোয়া তরিনী ও অলোয়া ভবানীসহ বিভিন্ন মৌজার নাম তালিকায় রয়েছে। এসব মৌজায় একই জমির শ্রেণির জন্যও একেক এলাকায় একেক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নথির টেবিলে ‘বাড়ী’, ‘কান্দা’, ‘নামা’, ‘ভিটা’, ‘পালান’, ‘দোকান’, ‘পাগার’, ‘ডোবা’, ‘বাঁশঝাড়’, ‘পুকুর’, ‘বাগান’ এবং ‘ছন/পতিত’সহ বিভিন্ন কলাম রাখা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু মৌজার নামের ভিত্তিতে একটি একক মূল্য নয়, বরং জমির ব্যবহার ও শ্রেণি অনুযায়ী বাজারমূল্যের পার্থক্য রাখা হয়েছে।
ইউনিয়ন এলাকার শত শত মৌজার তথ্য
পৌর এলাকার পর নথির পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলোর বাজারমূল্য তুলে ধরা হয়েছে। তালিকাটি বিস্তৃত এবং ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মৌজার নাম ও সংশ্লিষ্ট ভূমিশ্রেণির মূল্য দেওয়া হয়েছে।
৬ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে ইউনিয়ন পরিষদভুক্ত মৌজার তালিকা শুরু হয়েছে। পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে ক্রমানুসারে আরও বহু মৌজা যুক্ত হয়েছে। ১১ ও ১২ নম্বর পৃষ্ঠার তালিকায় চৌধুরীযাল, চৌরাকররা, ছিটকীবাড়ী, ছিলিমপুর, ছোটবিন্যাফৈর, ছোটবাসানিয়া, জগদাথজালফৈ, জানফৈ, কাউবাচী, বিলাই, উনাই, মোহজানী, জকলাঘাটা, ডবল, কদী, কিয়াবাড়ী, তরটিয়া, আনশারই, কেনা, দরুন, দক্ষিণ বিলমুড়িল, দমদমা, দর্জিপাড়া, দাসেরলুকিয়া, দাইন্যাটোধুরী, দাইন্যারামপাল ও দাইন্যাশিবরামসহ একাধিক মৌজার তথ্য রয়েছে।
এরপরের পৃষ্ঠাগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন মৌজার নাম ও বিভিন্ন ভূমিশ্রেণির মূল্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে পুরো নথিটি টাঙ্গাইল সদর সাব-রেজিস্ট্রি এলাকার জন্য একটি বিস্তৃত মৌজাভিত্তিক বাজারমূল্য তালিকা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে কেন গুরুত্বপূর্ণ
জমি ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জমির শ্রেণি ও মৌজা অনুযায়ী নির্ধারিত বাজারমূল্যের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দলিল প্রস্তুতের সময় জমির অবস্থান, শ্রেণি এবং প্রযোজ্য সরকারি মূল্য বিবেচনার প্রয়োজন হয়।
এই তালিকায় একই মৌজার মধ্যেও বাড়ি, ভিটা, দোকান, পুকুর, বাগান, ডোবা, বাঁশঝাড় কিংবা পতিত জমির জন্য আলাদা মূল্য রাখা হয়েছে। ফলে শুধু মৌজার নাম জানা থাকলেই নির্দিষ্ট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা যাবে না; জমিটির শ্রেণিও জানা প্রয়োজন।
বিশেষ করে টাঙ্গাইল পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলোর ক্ষেত্রে তালিকায় তুলনামূলকভাবে বড় অঙ্কের মূল্যও দেখা যায়। যেমন নথির প্রথম দিকের টেবিলে আকুরটাকুর, কান্দাপাড়া ও টাঙ্গাইল মৌজার বিভিন্ন শ্রেণির জমির জন্য পৃথক পৃথক মূল্য উল্লেখ রয়েছে।
বাজারমূল্য নির্ধারণে বিক্রয় দলিলের তথ্য
এই তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর একটি হলো বাজারমূল্য নির্ধারণে ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলগুলো বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট সময়ে বাস্তবে নিবন্ধিত লেনদেনের তথ্য বাজারমূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর ফলে ২০২৫–২০২৬ সালের জন্য প্রস্তুত করা এই তালিকায় পূর্ববর্তী নির্দিষ্ট সময়ের জমি বিক্রয়-সংক্রান্ত তথ্যের প্রতিফলন রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট জমির বর্তমান প্রকৃত বাজারদর এই সরকারি তালিকার সমান—এমন সিদ্ধান্ত নথিটি দেয় না। নথিটি মূলত সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি এলাকার প্রতি শতাংশ ভূমির শ্রেণিভিত্তিক নির্ধারিত বাজারমূল্য তুলে ধরে।
অনুমোদন ও প্রস্তুত প্রক্রিয়া
নথির শেষাংশে বাজারমূল্য নির্ধারণ কমিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে প্রস্তুতকারী, পাঠকারী, তুলনাকারী এবং বাজারমূল্য নির্ধারণ কমিটির সদস্য সচিব ও সদস্যদের স্বাক্ষরের ব্যবস্থা দেখা যায়। নথিতে টাঙ্গাইল সদর সাব-রেজিস্ট্রার, টাঙ্গাইলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জেলা রেজিস্ট্রারের দায়িত্বও উল্লেখ রয়েছে।
সাধারণ জমির মালিক ও ক্রেতাদের জন্য করণীয়
টাঙ্গাইল সদর এলাকায় জমি ক্রয়, বিক্রয় বা দলিল নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট জমির—
- মৌজার নাম
- জমির শ্রেণি
- জমির পরিমাণ
- প্রতি শতাংশের নির্ধারিত বাজারমূল্য
সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ একই মৌজায় জমির শ্রেণি পরিবর্তিত হলে তালিকায় প্রযোজ্য মূল্যও পরিবর্তিত হতে পারে।
এ ছাড়া তালিকাটি ২০২৫ ও ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের জন্য প্রযোজ্য হিসেবে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো সরকারি তালিকা বা সংশোধিত মূল্য প্রকাশিত হলে সেটিই প্রযোজ্য হবে—বর্তমান নথিকে তার বাইরে ভবিষ্যতের মূল্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংশ্লিষ্ট কার্যালয় | সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, টাঙ্গাইল সদর |
| প্রযোজ্য সময় | ২০২৫ ও ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |
| মূল্য একক | প্রতি শতাংশ ভূমি |
| মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি | ভূমির শ্রেণি ও মৌজা |
| বিধিমালা | সম্পত্তির বাজার মূল্য নির্ধারণ বিধিমালা, ২০১০ |
| সংশোধন | ২০১২ ও ২০১৫ |
| বিবেচিত বিক্রয় দলিল | ১ জানুয়ারি ২০২৩–৩০ অক্টোবর ২০২৪ |
| এলাকা | টাঙ্গাইল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদভুক্ত মৌজা |
| মূল্য | টাকায় প্রদর্শিত |
সব মিলিয়ে, টাঙ্গাইল সদর সাব-রেজিস্ট্রি এলাকার ২০২৫–২০২৬ সালের এই নথিতে মৌজা ও ভূমির শ্রেণিভেদে প্রতি শতাংশের নির্ধারিত বাজারমূল্য একত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মৌজা ও শ্রেণির সারি দেখে মূল্য যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নথিটির ২০ পৃষ্ঠাজুড়ে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদভুক্ত বিস্তৃত মৌজার তথ্য রয়েছে, তাই নির্দিষ্ট কোনো মৌজার মূল্য জানতে হলে তালিকার সংশ্লিষ্ট সারি ও জমির শ্রেণি একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

