BD Govt Service Rules

৯ম পে স্কেলে পদোন্নতিতে বেতন ফিক্সেশন: ১০ম গ্রেডের ২২,৫৫০ টাকা বেসিক হলে কত হবে?

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হলো পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি। বিশেষ করে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কেউ যদি নিম্নতর গ্রেড থেকে উচ্চতর বেতনস্কেলের পদে পদোন্নতি পান, তাঁর বেতন সরাসরি নতুন উচ্চতর গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণ হবে না। আগে বর্তমান বা নিম্নপদের বেতন নতুন স্কেলে নির্ধারণ করতে হবে, এরপর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। নতুন গেজেটের ৫(ঘ) ধারাতেও এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

১ জুলাই পদোন্নতি হলে প্রথমে কী হবে?

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গেজেট অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী উচ্চতর বেতনস্কেলের পদে পদোন্নতি পেলে তাঁর বেতন প্রথমে নিম্নপদে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

অর্থাৎ, কেউ ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে ১ জুলাই পদোন্নতি পেলেই সরাসরি ৯ম গ্রেডের ৪৪ হাজার টাকা ধরে হিসাব শুরু করা হবে—এমন নয়। প্রথম ধাপে ১০ম গ্রেডে ১ জুলাইয়ের বেতন নির্ধারণ হবে। এরপর সেই নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির ফিক্সেশন হবে।

এটি নতুন পে স্কেলের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


১০ম গ্রেডে ৩০ জুনের বেসিক ২২,৫৫০ টাকা হলে নতুন স্কেলে কত হবে?

এখন একটি বাস্তব উদাহরণ ধরা যাক।

একজন কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ১০ম গ্রেডে ২২,৫৫০ টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১০ম গ্রেডের স্কেল ছিল:

১৬,০০০–১৬,৮০০–১৭,৬৪০–১৮,৫৩০–১৯,৪৬০–২০,৪৪০–২১,৪৭০–২২,৫৫০–২৩,৬৮০ … ৩৮,৬৪০ টাকা।

অর্থাৎ ২২,৫৫০ টাকা ওই স্কেলের অষ্টম ধাপ। ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ছিল ১৬,০০০ টাকা।

গেজেটের বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রথমে বর্তমান মূল বেতন থেকে সংশ্লিষ্ট পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ বাদ দিতে হবে।

২২,৫৫০ – ১৬,০০০ = ৬,৫৫০ টাকা।

এরপর নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ৩২,০০০ টাকার সঙ্গে এই পার্থক্য যোগ হবে।

৩২,০০০ + ৬,৫৫০ = ৩৮,৫৫০ টাকা।

কিন্তু নতুন ১০ম গ্রেডের স্কেলে ৩৮,৫৫০ টাকা নামে কোনো ধাপ নেই। নতুন ১০ম গ্রেডের ধাপগুলো হলো ৩২,০০০, ৩৩,৬০০, ৩৫,৩০০, ৩৭,১০০, ৩৮,৯০০, ৪০,৯০০…। তাই ৩৮,৫৫০ টাকার পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অর্থাৎ ৩৮,৯০০ টাকা হবে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের অঙ্ক।

হিসাবটি সংক্ষেপে

বিষয়টাকা
৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন২২,৫৫০
২০১৫ স্কেলের ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন১৬,০০০
পার্থক্য৬,৫৫০
২০২৬ স্কেলের ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন৩২,০০০
যোগফল৩৮,৫৫০
পরবর্তী নির্ধারিত ধাপ৩৮,৯০০
১ জুলাইয়ের নতুন ১০ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন৩৮,৯০০ টাকা

অর্থাৎ পদোন্নতি না থাকলে এই উদাহরণে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন স্কেলে বেসিক হবে ৩৮,৯০০ টাকা


এবার যদি ১ জুলাই ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি হয়?

এখানেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

ধরা যাক, একই কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি পেলেন

গেজেটের ৫(ঘ) অনুযায়ী, প্রথমে তাঁকে নিম্নপদ অর্থাৎ ১০ম গ্রেডে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হবে। উপরের হিসাব অনুযায়ী সেটি হবে:

৩৮,৯০০ টাকা।

এরপর ৯ম গ্রেডে প্রচলিত পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ হবে।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫-এর পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধানে উচ্চতর পদে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ এবং সমান ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

নতুন ২০২৬ সালের ৯ম গ্রেডের স্কেল শুরু হয়েছে ৪৪,০০০ টাকা থেকে এবং পরবর্তী ধাপ ৪৬,২০০ টাকা, ৪৮,৬০০ টাকা ইত্যাদি।

সুতরাং, সাধারণ পদোন্নতি ফিক্সেশনের প্রচলিত নিয়ম প্রয়োগ করলে ৩৮,৯০০ টাকা থেকে এক ধাপ বেতনবৃদ্ধি যোগ করে ৯ম গ্রেডে সমান বা পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৪৪,০০০ টাকা একটি সম্ভাব্য ফিক্সেশন অঙ্ক। তবে চূড়ান্ত ফিক্সেশন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পদ, পদোন্নতির তারিখ, ইনক্রিমেন্টের প্রাপ্যতা এবং প্রযোজ্য সার্ভিস রুল যাচাই করে অফিস/হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ৪০ শতাংশ নাকি ৫০ শতাংশ?

এখানে একটি বিষয় সংশোধন করা জরুরি।

অনেকের আলোচনায় ১ জুলাই থেকে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গেজেটে গ্রেডভিত্তিক হার আলাদা করা হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত—

  • ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: বেতন বৃদ্ধির মোট পার্থক্যের ৪০ শতাংশ
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: বেতন বৃদ্ধির মোট পার্থক্যের ৫০ শতাংশ

এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ ১০ম গ্রেডে থাকা অবস্থায় কেউ ১০ম গ্রেডের বেতন পাচ্ছেন, তাঁর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ প্রযোজ্য হবে। কিন্তু ১ জুলাই থেকেই যদি তিনি ৯ম গ্রেডের পদে পদোন্নতি পান এবং পদোন্নতির পর তাঁর বেতন ৯ম গ্রেডে নির্ধারিত হয়, তাহলে প্রাপ্যতার হিসাব সংশ্লিষ্ট চূড়ান্ত নির্ধারিত গ্রেড ও গেজেটের বিধান অনুযায়ী করতে হবে।


পদোন্নতির তারিখ ১ জুলাই না হলে কী হবে?

এখানেও বড় পার্থক্য রয়েছে।

ধরা যাক, কর্মচারী ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ম গ্রেডে ২২,৫৫০ টাকা পাচ্ছেন এবং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কোনো পদোন্নতি হয়নি

তাহলে প্রথমে নতুন পে স্কেলে তাঁর ১০ম গ্রেডের বেতন হবে ৩৮,৯০০ টাকা

পরবর্তীতে যদি তিনি, উদাহরণস্বরূপ, ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি পান, তাহলে ১ জুলাইয়ের নতুন স্কেলে আগে তাঁর ১০ম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ হবে। এরপর ১৫ আগস্টের পদোন্নতির তারিখে প্রচলিত পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী ৯ম গ্রেডে নতুন করে ফিক্সেশন করতে হবে।

অর্থাৎ ১ জুলাইয়ের পে-ফিক্সেশন এবং পরবর্তী পদোন্নতির ফিক্সেশন দুটি আলাদা ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। গেজেটের মূল কাঠামোও এই পদ্ধতিই নির্দেশ করে।


উচ্চতর গ্রেড পেলেও একই নীতি

শুধু নিয়মিত পদোন্নতি নয়, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট বিধান বুঝে হিসাব করতে হবে।

নতুন গেজেট অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী যে মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা অন্য কোনো গ্রেড/স্কেল পাচ্ছিলেন, ১ জুলাই থেকে সেই বর্তমান স্কেলের বিপরীতে নির্ধারিত ২০২৬ সালের অনুরূপ স্কেল প্রাপ্য হবেন।

ফলে ৩০ জুনের বেতন এবং ২০১৫ সালের সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পার্থক্য নতুন ২০২৬ সালের অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করে পরবর্তী নির্ধারিত ধাপে ফিক্সেশন করতে হবে।


ভুল হিসাব এড়াতে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

প্রথমত, শুধু ২০২৬ সালের নতুন গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ধরে ফিক্সেশন করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত, ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন এবং ২০১৫ সালের সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের পার্থক্য বের করতে হবে।

তৃতীয়ত, সেই পার্থক্য নতুন ২০২৬ সালের অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে।

চতুর্থত, হিসাবের ফল নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপে না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ হবে। গেজেটের উদাহরণেও এই পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।

পঞ্চমত, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পদোন্নতি হলে আগে নিম্নপদে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করতে হবে; তারপর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ফিক্সেশন করতে হবে।

ষষ্ঠত, ১০ম গ্রেডের ক্ষেত্রে জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ে বেতন বৃদ্ধির পার্থক্যের ৫০ শতাংশ এবং ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ প্রদানের বিধান রয়েছে—তাই সব গ্রেডের জন্য একই শতাংশ ধরে হিসাব করা ঠিক নয়।


২২,৫৫০ টাকা বেসিকের উদাহরণটি এক নজরে

৩০ জুন ২০২৬:
১০ম গ্রেড → ২২,৫৫০ টাকা

পুরোনো স্কেলের শুরু:
১৬,০০০ টাকা

পার্থক্য:
২২,৫৫০ – ১৬,০০০ = ৬,৫৫০ টাকা

নতুন ১০ম গ্রেডের শুরু:
৩২,০০০ টাকা

৩২,০০০ + ৬,৫৫০:
= ৩৮,৫৫০ টাকা

নতুন স্কেলে ৩৮,৫৫০ ধাপ নেই → পরবর্তী ধাপ:
= ৩৮,৯০০ টাকা

অতএব, পদোন্নতি না থাকলে নতুন ১০ম গ্রেডে বেসিক ৩৮,৯০০ টাকা।

আর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখেই ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি হলে, প্রথমে ১০ম গ্রেডে ৩৮,৯০০ টাকা নির্ধারণ করে এরপর ৯ম গ্রেডে প্রচলিত পদোন্নতি-ফিক্সেশন বিধি প্রয়োগ করতে হবে। ২০২৬ সালের ৯ম গ্রেডের স্কেল শুরু ৪৪,০০০ টাকা থেকে।

শেষ কথা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ক্ষেত্রে “পুরোনো বেসিক থেকে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন বাদ → নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ → পরবর্তী নির্ধারিত ধাপে ফিক্সেশন”—এই মূল কাঠামোটি বুঝে হিসাব করা জরুরি। আর ১ জুলাই পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রথমে নিম্নপদে বেতন নির্ধারণ করে তারপর উচ্চতর পদে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ফিক্সেশন করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রেসের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর অতিরিক্ত গেজেট তালিকায় এস. আর. ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬—চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং গেজেটের পৃষ্ঠা ২৫১৯৩–২৫২১১ জুড়ে এটি রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রেসের সেপ্টেম্বর ২০২৬ গেজেট তালিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *