BD Govt Service Rules

আগে ১০ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীরা কি এখন ৮ বছর ধরে পুনরায় ফিক্সেশন পাবেন? যা বলছে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৮ বছর করার পর নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—যেসব কর্মচারী পুরোনো নিয়মে একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করে ইতোমধ্যে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, তাঁদের উচ্চতর গ্রেডের কার্যকর তারিখ কি এখন দুই বছর পিছিয়ে ৮ বছর পূর্তির তারিখ থেকে পুনর্নির্ধারণ করা হবে? সেই হিসাবে কি তাঁদের বেতন পুনরায় ফিক্সেশন বা আর্থিক সমন্বয় হবে?

নতুন আদেশের উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত বিধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৮ বছরের নতুন নিয়মকে আগে ১০ বছরে পাওয়া উচ্চতর গ্রেডের কার্যকর তারিখ পূর্ববর্তী ৮ বছর পূর্তির তারিখে নিয়ে যাওয়ার সাধারণ বিধান হিসেবে রাখা হয়নি। বরং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কর্মচারী আগে কতটি উচ্চতর স্কেল, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন—তার ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থায় তাঁর পরবর্তী প্রাপ্যতা নির্ধারণের বিধান রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত গেজেটের সারাংশেও একই বিষয় উঠে এসেছে।

১০ বছরের নিয়ম বদলে এখন ৮ বছর

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর চাকরি পূর্ণ করলে এবং তাঁর চাকরি সন্তোষজনক হলে নবম বছরে সংশ্লিষ্ট পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৬ বছর চাকরি করলে, সন্তোষজনক চাকরির শর্তে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে একই পদে এ আর্থিক সুবিধা দুইবারের বেশি পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।

এই পরিবর্তনের ফলে নতুন করে উচ্চতর গ্রেডের যোগ্য হওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রথম অপেক্ষার সময় ১০ বছর থেকে কমে ৮ বছর হয়েছে।

কিন্তু এখানেই পুরোনো সুবিধাভোগীদের প্রশ্নটি আলাদা হয়ে যায়।

আগে ১০ বছরে উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন—এখন কি ৮ বছর ধরে হিসাব হবে?

সাধারণভাবে না।

ধরা যাক, একজন কর্মচারী একই পদে ১ জুলাই ২০১৪ সালে যোগদান করেছিলেন। পুরোনো বিধান অনুযায়ী ১০ বছর পূর্ণ করে তিনি ২০২৪ সালে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন।

নতুন বিধান অনুযায়ী প্রথম উচ্চতর গ্রেডের সময়সীমা ৮ বছর হওয়ায় তাঁর ৮ বছর পূর্ণ হয়েছিল ২০২২ সালে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—২০২৬ সালের নতুন নিয়মের কারণে কি তাঁর প্রথম উচ্চতর গ্রেডের তারিখ ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ২০২২ সাল করা হবে?

প্রকাশিত বিধানে এমন কোনো সাধারণ পুনঃনির্ধারণের ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। বরং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত তিনি যে উচ্চতর গ্রেড ইতোমধ্যে পেয়েছেন, সেটিই তাঁর পূর্বে পাওয়া উচ্চতর গ্রেড হিসেবে গণনায় আসবে। এরপর তাঁর পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের যোগ্যতা নতুন আদেশের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

তাহলে ‘পুনরায় ফিক্সেশন’ কোথায় হবে?

এখানে দুই ধরনের ফিক্সেশনকে আলাদা করে বুঝতে হবে।

প্রথমটি হলো নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে একজন কর্মচারী যে বেতন বা উচ্চতর গ্রেডে ছিলেন, তার ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় তাঁর বেতন নির্ধারণ হবে। গেজেটে পুরোনো স্কেল থেকে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিও দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়টি হলো উচ্চতর গ্রেডের কার্যকর তারিখ পরিবর্তন করে ১০ বছরের জায়গায় অতীতের ৮ বছর পূর্তির তারিখ থেকে পুনরায় ফিক্সেশন।

এই দ্বিতীয় বিষয়টির জন্য নতুন বিধানে সাধারণভাবে retrospective বা পূর্ববর্তী তারিখ থেকে পুনঃফিক্সেশনের নির্দেশ পাওয়া যাচ্ছে না।

অর্থাৎ—

আগে ১০ বছরে পাওয়া উচ্চতর গ্রেড বহাল থাকবে → সেই অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে স্কেলে বেতন নির্ধারণ হবে → কিন্তু শুধু ২০২৬ সালে নিয়ম ৮ বছর হয়েছে বলে আগের উচ্চতর গ্রেডের তারিখ দুই বছর পিছিয়ে পুনর্নির্ধারণ হবে না।

উদাহরণে বিষয়টি আরও পরিষ্কার

ধরা যাক, করিম একই পদে যোগদান করেছেন ১ জানুয়ারি ২০১৪।

পুরোনো নিয়মে ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ২০২৪ সালে তিনি প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন।

নতুন নিয়মে যদি শুরু থেকেই ৮ বছর কার্যকর থাকত, তাহলে তাঁর ৮ বছর পূর্ণ হতো ২০২২ সালে।

কিন্তু ২০২৬ সালের নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার কারণে এখন তাঁর ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এমন হবে না—

২০১৪ + ৮ বছর = ২০২২ → প্রথম উচ্চতর গ্রেডের তারিখ ২০২২ করা → ২০২২ থেকে বেতন পুনঃফিক্সেশন → ২০২২-২৬ সময়ের পার্থক্য/বকেয়া দেওয়া।

বরং তিনি ২০২৪ সালে যে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, সেটিকে পূর্বে পাওয়া সুবিধা হিসেবে গণনা করা হবে। তাঁর পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের প্রশ্নে নতুন বিধানের ৬ বছরের শর্ত প্রাসঙ্গিক হবে।

আগে একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া থাকলে কী হবে?

এটি নতুন আদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে কোনো কর্মচারী যদি মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে নতুন করে ৮ বছরের হিসাবে আবার প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হবে না।

বরং প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৬ বছর পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি দেখা হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে তিনি দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ পাবেন।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারী যদি ১ জুলাই ২০২৩ তারিখে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকেন, তাহলে শুধু ২০২৬ সালে ৮ বছরের নিয়ম চালু হওয়ার কারণে তাঁর প্রথম উচ্চতর গ্রেডের তারিখ নতুন করে নির্ধারণ হবে না। পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের জন্য তাঁর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তারিখের পরবর্তী চাকরিকাল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আগে দুই বা তার বেশি সুবিধা পাওয়া থাকলে?

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত বিধানে আরেকটি সীমা রয়েছে।

আগের বেতনস্কেলের অধীনে একই পদে কোনো কর্মচারী দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর অধীনে ওই একই পদে আবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

অর্থাৎ নতুন ৮ বছরের বিধানকে সবার জন্য নতুন করে সুবিধা গণনার ‘রিসেট’ হিসেবে দেখা যাবে না।

তাহলে ৮ বছরের নতুন নিয়মে সরাসরি লাভবান কারা?

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নতুন আদেশের অন্তর্বর্তী বিধান।

যেসব স্থায়ী কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করেছেন কিন্তু পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছর পূর্ণ না হওয়ায় প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাননি, তাঁদের জন্য নতুন বিধান সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশিত গেজেটের বিবরণ অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মচারীরা অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের আওতায় আসবেন।

ধরা যাক, একজন কর্মচারীর একই পদে চাকরি ৯ বছর হয়েছে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। পুরোনো নিয়মে তাঁর ১০ বছর পূর্ণ হয়নি বলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি।

কিন্তু নতুন নিয়মে প্রয়োজন ৮ বছর। ফলে অন্তর্বর্তী বিধানের কারণে তিনি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে উচ্চতর গ্রেডের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

এটি আগে ১০ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া ব্যক্তির পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

দুই কর্মচারীর উদাহরণ

কর্মচারী ‘ক’: একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করে ২০২৫ সালেই প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন।

তাঁর ক্ষেত্রে নতুন ৮ বছরের নিয়মের কারণে অতীতের ৮ বছর পূর্তির তারিখ ধরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পুনঃনির্ধারণের সাধারণ বিধান নেই। আগে পাওয়া প্রথম উচ্চতর গ্রেড বিবেচনায় থাকবে এবং পরবর্তী সুবিধার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ৬ বছরের বিধান দেখা হবে।

কর্মচারী ‘খ’: ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে ৯ বছর চাকরি করেছেন, কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ হয়নি বলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাননি।

তাঁর ক্ষেত্রে নতুন ৮ বছরের শর্ত ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী বিধান অনুযায়ী তিনি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের আওতায় আসতে পারেন, অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে।

এই পার্থক্যটিই নতুন বিধান বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৮ বছর পূর্তির পুরোনো তারিখ ধরে বকেয়া পাওয়া যাবে?

আগে ১০ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীর ক্ষেত্রে নতুন বিধানের কারণে তাঁর পুরোনো ৮ বছর পূর্তির তারিখ ধরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পুনর্নির্ধারণ এবং সেই সময় থেকে বকেয়া পাওয়ার সাধারণ নির্দেশনা প্রকাশিত বিধানে নেই।

অন্যদিকে নতুন বিধানের অন্তর্বর্তী সুবিধায় যারা ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে ৮ বছর পূর্ণ করেছেন কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ না হওয়ায় উচ্চতর গ্রেড পাননি, তাঁদের জন্য কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬—৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আরও আগের তারিখ নয়।

ফলে কেউ ২০২৪ সালে ৮ বছর পূর্ণ করে থাকলেও এবং ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ১০ বছর পূর্ণ না করে থাকলে, নতুন বিধানের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ২০২৪ সাল থেকে বকেয়া দাবি করা যাবে—এমন সিদ্ধান্ত শুধু ৮ বছরের বিধান থেকে আসে না।

নতুন পে স্কেলে অবশ্য বেতন নির্ধারণ হবে

এখানে একটি বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

আগে ১০ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারী নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার কারণে নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের আওতায় আসবেন, যদি তিনি আদেশটির আওতাভুক্ত কর্মচারী হন। এটি উচ্চতর গ্রেডের ৮ বছরের নতুন নিয়মে retroactive পুনঃফিক্সেশন নয়; বরং নতুন পে স্কেলে সাধারণ বেতন নির্ধারণের অংশ। নতুন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর এবং গেজেটে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিও দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ দুটি বিষয় আলাদা—

পে স্কেল পরিবর্তনের কারণে নতুন স্কেলে বেতন ফিক্সেশন হবে।

কিন্তু—

আগে ১০ বছরে পাওয়া উচ্চতর গ্রেডকে ৮ বছর পূর্তির পুরোনো তারিখে নিয়ে গিয়ে আবার উচ্চতর গ্রেড ফিক্সেশন করার সাধারণ বিধান নেই।

একনজরে কার ক্ষেত্রে কী হবে

কর্মচারীর অবস্থা২০২৬ সালের বিধানে সম্ভাব্য ফল
১ জুলাই ২০২৬-এর আগে ৮ বছর পূর্ণ, কিন্তু ১০ বছর হয়নি এবং উচ্চতর গ্রেড পাননি১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ
আগে ১০ বছরে একটি উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেনপুরোনো ৮ বছর পূর্তির তারিখে প্রথম গ্রেড পুনঃফিক্স নয়; পরবর্তী ৬ বছরের বিধান প্রাসঙ্গিক
একই পদে আগে দুই বা ততোধিক টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেনএকই পদে নতুন করে উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ নেই
আগে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীর ২০২৬ পে স্কেলে বেতননতুন স্কেলের নিয়মে বেতন নির্ধারণ হবে
আগে ১০ বছরে পাওয়া উচ্চতর গ্রেডকে এখন ৮ বছর ধরে পিছনের তারিখে নেওয়াএমন সাধারণ retroactive পুনঃফিক্সেশনের বিধান পাওয়া যাচ্ছে না

কেন পুরোনো সুবিধাভোগীর সঙ্গে নতুন যোগ্য ব্যক্তির পার্থক্য?

কারণ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ শুধু ‘১০’-এর জায়গায় ‘৮’ বসিয়ে অতীতের সব উচ্চতর গ্রেডের তারিখ পরিবর্তন করেনি। নতুন আদেশ একই সঙ্গে আগে পাওয়া আর্থিক সুবিধাকে গণনায় নেওয়ার বিধান এবং ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে ৮ বছর কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ না করা কর্মচারীদের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা রেখেছে।

এ কারণেই দুইজন কর্মচারীর একই পদে চাকরির বয়স কাছাকাছি হলেও তাঁদের উচ্চতর গ্রেডের হিসাব এক নাও হতে পারে।

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার অপেক্ষা ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৮ বছর করা সরকারি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে অতীতে ১০ বছর পূর্ণ করে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া প্রত্যেক কর্মচারীর প্রথম উচ্চতর গ্রেড এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই বছর পিছিয়ে দিয়ে পুনরায় ফিক্সেশন করা হবে।

বরং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কর্মচারী কী সুবিধা পেয়েছেন সেটিই প্রথমে বিবেচিত হবে। আগে একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ৬ বছরের বিধান অনুযায়ী দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের প্রশ্ন আসবে; দুই বা ততোধিক সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়া থাকলে একই পদে নতুন উচ্চতর গ্রেডের ওপর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর যাঁরা ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে ৮ বছর পূর্ণ করেছেন কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ না হওয়ায় প্রথম উচ্চতর গ্রেডই পাননি, তাঁদের জন্য নতুন ৮ বছরের বিধান বিশেষভাবে সুবিধাজনক।

সুতরাং মূল কথা: ‘১০ বছরের বদলে ৮ বছর’ নতুন যোগ্যতার সময়সীমা; এটি আগে ১০ বছরে পাওয়া উচ্চতর গ্রেডের তারিখকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই বছর পিছিয়ে দিয়ে বকেয়াসহ পুনঃফিক্সেশন করার সাধারণ বিধান নয়।

I prefer this response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *