না, “বেশির ভাগ সরকারি চাকরিজীবী অসৎ”—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
সরকারি চাকরিজীবীরা একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় গোষ্ঠী। তাদের সবাইকে বা সংখ্যাগরিষ্ঠকে অসৎ বলা তথ্যভিত্তিক হবে না। তবে এটাও সত্য যে, বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন জরিপেও কিছু খাতে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা গেছে।
কিছু বিষয় বিবেচনা করা দরকার:
- সব সরকারি কর্মচারী এক রকম নন। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
- কিছু খাতে দুর্নীতির ঝুঁকি বেশি। নাগরিক সেবা, লাইসেন্স, ভূমি, পরিবহন বা আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কিছু সেবায় ঘুষের অভিযোগ তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়।
- রাষ্ট্রের আচরণবিধি রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি নিষিদ্ধ করার নিয়ম রয়েছে। এসব লঙ্ঘন করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও আছে।
- সংস্কারের সুপারিশও হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন একটি আধুনিক সিভিল সার্ভিস কোড প্রণয়নের সুপারিশ করেছে, যাতে সততা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা যায়।
সারসংক্ষেপ:
“বেশির ভাগ সরকারি চাকরিজীবী অসৎ”—এটি একটি সাধারণীকরণ, যা প্রমাণিত নয়। সঠিকভাবে বলা যায়, কিছু খাতে দুর্নীতি একটি বাস্তব সমস্যা, কিন্তু সেই ভিত্তিতে পুরো সরকারি কর্মীবাহিনী বা সংখ্যাগরিষ্ঠকে অসৎ বলা যায় না। তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সেবা বা গবেষণার ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত।
গরীব ঘর থেকে উঠে আসা বিসিএস কর্মকর্তা সচিবগণ কেন অসৎ হয়?
