ব্যাংকিং কার্যক্রম

এনপিএসবি (NPSB) ট্রানজেকশনে বিকাশের চেয়ে এগিয়ে ‘নগদ’: জটিলতা ও গ্রাহক ভোগান্তির নতুন চালচিত্র

দেশের মোবাইল আর্থিক সেবা (MFS) খাতে গ্রাহক সন্তুষ্টি ও সেবার সহজলভ্যতার প্রশ্নে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা চলছে। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (NPSB) এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা এমএফএস-এ ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে শীর্ষ দুই জায়ান্ট বিকাশ ও নগদের সেবার মানে বড় ধরনের ফারাক লক্ষ করা যাচ্ছে। যেখানে নগদ শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে অত্যন্ত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় প্রক্রিয়ায় লেনদেনের সুবিধা দিচ্ছে, সেখানে বিকাশের অতিরিক্ত ফেস ভেরিফিকেশন ও সাময়িক অ্যাকাউন্ট ব্লক করার মতো কড়াকড়ি সাধারণ গ্রাহকদের তীব্র ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিকাশের জটিল ভেরিফিকেশন ও ফিচার ব্লকিংয়ের অভিযোগ

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে এনপিএসবি ফিচারের মাধ্যমে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা অন্য মাধ্যমে টাকা পাঠাতে গেলেই নানা ধরনের কারিগরি ও নীতিগত জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে ‘ফেস ভেরিফিকেশন’ বা মুখমণ্ডল স্ক্যান করার বাধ্যতামূলক নিয়ম তৈরি করে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা হয়েছে। অনেক সময় আলোর স্বল্পতা বা সামান্য কারিগরি ত্রুটির কারণে এই ভেরিফিকেশন সফল হয় না, যার ফলে জরুরি মুহূর্তে লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় জটিলতা দেখা দিচ্ছে ফিচার ব্লক নিয়ে। গ্রাহকদের দাবি, বিকাশে সামান্য একটু ইন্টার-ব্যাংক বা এনপিএসবি ট্রানজেকশন করলেই কোনো প্রকার পূর্ব সতর্কবার্তা বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পুরো এনপিএসবি ফিচারটিই দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়, যা জরুরি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের চরম বিপাকে ফেলছে।

নগদের সহজ কার্যপ্রণালী ও ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র

অন্যদিকে, ‘নগদ’ তাদের প্ল্যাটফর্মে এনপিএসবি ব্যবহার অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও ঝামেলাহীন রেখেছে। কোনো অতিরিক্ত ফেস ভেরিফিকেশনের জটিলতা ছাড়াই শুধুমাত্র সঠিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে মুহূর্তেই ফান্ড ট্রান্সফার সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। একই সাথে সাশ্রয়ী ফি-র দিক থেকেও নগদ গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সংযুক্ত ডকুমেন্ট বা স্ক্রিনশট থেকে প্রাপ্ত অফিশিয়াল তথ্যানুযায়ী, নগদের মাধ্যমে ১,০০০ টাকা এনপিএসবি ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ব্যয়ের একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ বিবরণী নিচে তুলে ধরা হলো:

  • লেনদেনের পরিমাণ: ১,০০০.০০ টাকা

  • ভ্যাট ব্যতিরেকে ফি: ৭.৪০ টাকা

  • ভ্যাট (১৫%): ১.১০ টাকা

  • সর্বমোট অতিরিক্ত খরচ: ৮.৫০ টাকা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি হাজার টাকা ফান্ড ট্রান্সফারে নগদের সর্বমোট খরচ মাত্র ৮.৫০ টাকা (যার মধ্যে মূল ফি ৭.৪০ টাকা এবং ভ্যাট ১.১০ টাকা অন্তর্ভুক্ত)। এই সাশ্রয়ী চার্জ এবং কোনো প্রকার অতিরিক্ত ভেরিফিকেশনের বৈরিতা না থাকায় ব্যবহারকারীরা ইন্টার-ব্যাংক লেনদেনের জন্য নগদের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন।

ফিনটেক বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আর্থিক প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়িত্ব হলেও তা যেন গ্রাহক সেবাকে বাধাগ্রস্ত বা জটিল না করে। বিকাশ যেখানে নিরাপত্তার কড়াকড়ির নামে বারবার ফেস ভেরিফিকেশন ও সাময়িক ব্লক অ্যাপ্লাই করছে, তা ডিজিটাল বাংলাদেশের ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার লক্ষ্যকে মন্থর করে দিতে পারে। অন্যদিকে নগদ সহজ ইউজার ইন্টারফেস এবং ঝামেলাহীন ভেরিফিকেশন পলিসির কারণে এনপিএসবি ট্রানজেকশনে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

জটিলতা ও গ্রাহক ভোগান্তির নতুন চালচিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *