বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি অফিসে নতুন একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও কর্পোরেশনের জন্য এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সাশ্রয়ী আচরণ ও নতুন নিয়মাবলী
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রজ্ঞাপনে ১১টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার: দিনের বেলায় পর্যাপ্ত আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি পরিহার করে জানালা ও পর্দা খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
এসি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি: অফিস চলাকালীন এসি (এয়ার কন্ডিশনার)-এর তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
অর্ধেক বাতি ব্যবহার: বর্তমানে ব্যবহৃত আলোর সংখ্যা অর্ধেক করে ফেলতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো লাইট জ্বালানো যাবে না।
অফিস ত্যাগের নিয়ম: অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় এবং কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার পর লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার ও এসি নিশ্চিতভাবে বন্ধ করতে হবে।
কমন স্পেসের বিদ্যুৎ: করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গাড়ি ও জ্বালানি: সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি সকল প্রকার আলোকসজ্জা পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবায়নের উদ্যোগ
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালনের জন্য সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনার একটি অনুলিপি সকল সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে যাতে মাঠ পর্যায়ে এর সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা যায়।
সরকারি এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাপ কমানো এবং সরকারের জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় করা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাতের ব্যয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
