সরকারি নিউজ আপডেট

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: আসছে নবম পে-স্কেল, অগ্রাধিকার পাচ্ছেন নিম্ন আয়ের কর্মীরা

দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে সরকার। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পর দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আবাসন, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়সহ জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার অবশেষে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে।

নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার চলমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে সবচেয়ে বেশি হিমশিম খাচ্ছেন সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে নতুন পে-স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বেতন কমিশনের সাম্প্রতিক আলোচনা ও প্রস্তাবনায় নিম্ন গ্রেডের (১১-২০) কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ বা ক্ষেত্রবিশেষে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনা করে নবম পে-স্কেল একবারে নয়, বরং তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম দুই বছরে মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ করে সমন্বয় এবং তৃতীয় বছরে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করার প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে রয়েছে। আগামী বাজেটে এজন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর শুধু কর্মরতরাই নন, নতুন বেতন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের মাসিক পেনশন ২০,০০০ টাকার নিচে, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ৭৫ ঊর্ধ্ব পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক ১০,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত ঘোষণা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে বেতন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করেছে। যদিও পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, তবুও নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুলাই মাস থেকেই বর্ধিত বেতনের সুবিধা কার্যকর হবে। গেজেট প্রকাশের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও এই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীরা এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন, যা দীর্ঘদিনের আর্থিক টানাপোড়েন থেকে তাদের স্বস্তি দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *