দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত দপ্তরী কাম প্রহরীদের কর্মঘণ্টা, দায়িত্বের পরিধি এবং আইনি অধিকার সুরক্ষায় প্রণীত হয়েছে ‘দপ্তরী কাম প্রহরীদের নতুন নীতিমালা-২০২৫’। যুগোপযোগী এই নীতিমালায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর আলোকে দপ্তরী কাম প্রহরীদের কাজের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী ও ১১টি সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি ও অতিরিক্ত শ্রমের অবসান ঘটাতে সাহায্য করবে।
১. শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মঘণ্টা ও মূল নিয়মাবলী
নতুন নীতিমালায় দপ্তরী কাম প্রহরীদের কাজের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মূল নিয়মগুলো হলো:
৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা: প্রতিদিনের নির্ধারিত কাজের সময় সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা।
২৪ ঘণ্টা ডিউটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: অতীতে অনেক প্রতিষ্ঠানে টানা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি বা ২৪ ঘণ্টা কর্মস্থলে আটকে রাখার যে প্রচলন ছিল, তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ওভারটাইম বাধ্যতামূলক: নির্ধারিত কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত সময় বা জরুরি প্রয়োজনে কাজ করালে শ্রম আইন অনুযায়ী ওভারটাইম বা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. দপ্তরী কাম প্রহরীদের ১১টি নির্ধারিত কাজের তালিকা
পূর্বে দপ্তরী কাম প্রহরীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ও অসংগত কাজের চাপ থাকার অভিযোগ পাওয়া যেত। নতুন নীতিমালায় তাদের দায়িত্বের পরিধি স্পষ্ট করে মাত্র ১১টি সুনির্দিষ্ট কাজ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:
অফিস কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা।
শ্রেণিকক্ষ গুছিয়ে রাখা।
আসবাবপত্র রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভাল করা।
দাপ্তরিক ফাইল আনা-নেওয়া করা।
বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ঘণ্টা প্রদান করা।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখা।
বিদ্যালয়ের মূল গেট পাহারা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন (আবাসন সুবিধাসহ)।
দৈনন্দিন কার্যক্রমে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান।
প্রধান শিক্ষকের আইনানুগ অন্যান্য নির্দেশ পালন করা।
৩. বিশেষ সতর্কতা ও নির্দেশনা: টয়লেট পরিষ্কার দপ্ত্রীর কাজ নয়
নীতিমালায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টয়লেট বা শৌচাগার পরিষ্কার করা দপ্তরী কাম প্রহরীদের কোনো দায়িত্ব বা কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে পরিচ্ছন্নকর্মী বা সুইপারদের নির্ধারিত দায়িত্ব। শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিটি পদের কাজ ও দায়িত্ব পৃথকভাবে নির্ধারিত থাকায় এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই নতুন নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে দপ্তরী কাম প্রহরীরা তাঁদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন পাবেন এবং অতিরিক্ত কাজের মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে মুক্তি লাভ করবেন।
