আজকের খবর ২০২৬

নির্দিষ্ট ৬ ধরনের মামলায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা: ব্যর্থ হলে তবেই আদালতে মামলা দায়ের

বিচারব্যবস্থায় মামলার জট কমানো, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আপস-মীমাংসাকে উৎসাহিত করতে নির্দিষ্ট কয়েকটি ধরনের মামলায় আদালতে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার (Mediation) উদ্যোগ নেওয়ার বিধান কার্যকর রয়েছে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা ব্যর্থ হলে তবেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছয় ধরনের মামলায় সরাসরি আদালতে মামলা করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে প্রথমে লিগ্যাল এইডের (Legal Aid) মাধ্যমে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে। যদিও বিষয়টি নির্দিষ্ট আইন ও মামলার ধরনভেদে প্রযোজ্য, তবুও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য মধ্যস্থতার বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব মামলায় আগে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে

প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, নিম্নোক্ত ধরনের মামলায় আদালতে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার বিধান রয়েছে—

  • পারিবারিক আদালতের মামলা।
  • ৫ লাখ টাকার কম মূল্যের চেক ডিজঅনার (চেক সংক্রান্ত) মামলা।
  • যৌতুক-সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ (বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী)।
  • নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আইনের ১১(গ) ধারার আওতাভুক্ত কিছু মামলা।
  • বণ্টন (সম্পত্তি বণ্টন) সম্পর্কিত বিরোধ।
  • অগ্রক্রয় (Pre-emption) সংক্রান্ত মামলা।

মধ্যস্থতা কীভাবে হয়?

মধ্যস্থতা হলো আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসিয়ে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী সমঝোতার চেষ্টা করেন। যদি উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছান, তাহলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হয়।

মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করা যায়। সেখানে উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। যদি মধ্যস্থতা সফল না হয়, তাহলে আবেদনকারী একটি ব্যর্থতার প্রত্যয়ন বা প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

কেন এই ব্যবস্থা?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার উদ্দেশ্য হলো—

  • আদালতে মামলার সংখ্যা কমানো।
  • বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় করা।
  • পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করা।
  • ছোট ও আপসযোগ্য বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

যা জানা জরুরি

তবে আইনজীবীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তালিকাটি সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য—এমন ধারণা সঠিক নয়। কোন মামলায় মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইন, মামলার প্রকৃতি এবং প্রযোজ্য ধারার ওপর নির্ভর করে। ফলে মামলা দায়েরের আগে সংশ্লিষ্ট আইন বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ কারণে, কোনো ব্যক্তি যদি উপরের ধরনের বিরোধে জড়িত হন, তাহলে সরাসরি আদালতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করে মধ্যস্থতার সুযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *