সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। প্রচারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের আওতাধীন সরকারি কর্মচারীদের জন্য iBAS++ সিস্টেমে অনলাইন বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের অপেক্ষায় থাকা কর্মচারীদের জন্য এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কর্মসূচির তারিখ উল্লেখ থাকলেই সব কর্মচারীর পে ফিক্সেশন একই দিনে সম্পন্ন হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা, অনলাইন ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং কর্মচারীর বেতনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ওপর প্রক্রিয়াটি নির্ভর করতে পারে। প্রকাশিত ছবিতে উল্লিখিত সময়সূচির সত্যতা ও কার্যকর নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কোন বিভাগে কবে থেকে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু?
প্রচারিত সময়সূচি অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর আওতায় অনলাইন বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম একযোগে সব কার্যালয়ে চালু না করে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন প্রতিবেদনে প্রকাশিত সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।
| তারিখ | বিভাগ বা কার্যালয় |
|---|---|
| ১ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকার নির্ধারিত কিছু কার্যালয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম |
| ৫ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকার আরও কিছু হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| ৮ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকা ও রাজশাহীর সংশ্লিষ্ট কার্যালয় |
| ১২ অক্টোবর ২০২৬ | চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় |
| ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় |
| ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | খুলনা ও বরিশালের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সিলেট বিভাগের কার্যক্রম শুরুর তারিখ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্রতিবেদনে ১২ ও ১৫ অক্টোবর—দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাই সিলেট বিভাগের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
১৫ অক্টোবর থেকে কারা পে ফিক্সেশন করতে পারবেন?
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের আওতাধীন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—কোনো কর্মচারী কোন বিভাগে কর্মরত, তার পাশাপাশি তাঁর বেতন যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ হয়, সেটিও বিবেচ্য।
অর্থাৎ, শুধু নিজের বিভাগের নাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, iBAS++-এর সরকারি লগইন পোর্টালে বেতন নির্ধারণ-২০২৬-এর কার্যক্রম চালুর তথ্য দেখা যাচ্ছে। সেখানে কিছু নির্দিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের ব্যতিক্রমও উল্লেখ রয়েছে। ফলে সব কার্যালয়ের জন্য একই অবস্থা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
পে ফিক্সেশনের আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন
নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
১. ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক আছে কি না
জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর এবং চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে কি না, তা যাচাই করুন। তথ্যের অমিল থাকলে লগইন বা পরবর্তী কার্যক্রমে সমস্যা হতে পারে।
২. পূর্ববর্তী বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখুন
বর্তমান মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে রাখুন। এসব তথ্যের কোনো অসংগতি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক শাখা বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নিন।
৩. নির্ধারিত সময়ের আগে বারবার চেষ্টা করবেন না
সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের জন্য কার্যক্রম চালুর সময় নিশ্চিত করুন। সিস্টেমে প্রবেশ করা গেলেই সব তথ্য পূরণ বা চূড়ান্তভাবে দাখিল করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
৪. চূড়ান্ত দাখিলের আগে হিসাব মিলিয়ে নিন
নির্ধারিত মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে আবেদন দাখিল করুন। ভুল তথ্য দিয়ে দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
iBAS++-এ লগইন করতে সমস্যা হলে করণীয়
নির্ধারিত তারিখে একসঙ্গে অনেক কর্মচারী লগইন করার চেষ্টা করলে সাময়িক ধীরগতি বা প্রবেশসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সব সমস্যার কারণ সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
সমস্যা হলে প্রথমে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন।
সঠিক জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছেন কি না যাচাই করুন।
ব্রাউজারের ক্যাশে পরিষ্কার করে অথবা অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করে চেষ্টা করুন।
তথ্যের অমিল বা পদবিসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক শাখা বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
কোনো ত্রুটির বার্তা দেখালে সেটির স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন, যাতে সমস্যা শনাক্ত করা সহজ হয়।
পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হলেই কি নতুন বেতন পাওয়া যাবে?
এখানে পে ফিক্সেশন এবং বেতন উত্তোলনের বিষয় দুটি আলাদা করে বুঝতে হবে। অনলাইনে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হওয়া মানেই প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ, যাচাই, অনুমোদন এবং নতুন হারে বেতন উত্তোলন একই দিনে সম্পন্ন হবে না।
সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট তথ্য দাখিল, যাচাই এবং প্রযোজ্য অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী বেতনসংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে যায়। নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখ, বকেয়া প্রাপ্যতা এবং অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল।
তাই শুধু ১৫ অক্টোবর পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরুর তথ্যের ভিত্তিতে সবাই ওই দিনই নতুন বেতন বা বকেয়া পাবেন—এমন দাবি করা সমীচীন হবে না।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লিংক
অনলাইন বেতন নির্ধারণের জন্য অর্থ বিভাগের iBAS++ পোর্টাল ব্যবহার করুন।
iBAS++ সরকারি পোর্টাল: অনলাইন বেতন নির্ধারণ ও লগইন
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নোটিশ: সরকারি নোটিশ দেখুন
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠানোর বিষয়ে একটি নোটিশ প্রকাশ করেছে।
শেষ কথা
সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে iBAS++-এ পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরুর তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্ধারিত তারিখ, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের আওতা এবং সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
কর্মচারীদের উচিত সঠিক তথ্য প্রস্তুত রাখা, অনলাইন ব্যবস্থায় সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তা নেওয়া। এতে ভুল বেতন নির্ধারণ ও অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

