আজকের খবর ২০২৬

সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা 2026 | আরএফকিউ (RFQ) পদ্ধতির নতুন আর্থিক মূল্যসীমা নির্ধারণ?

সরকারি কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR), ২০২৫-এর বিধি-৯০(১) এবং ৯০(৬) অনুযায়ী পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে নতুন আর্থিক মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই বিধিমালার ফলে সরকারের পরিচালনা ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের দপ্তরগুলো সুনির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সরাসরি কোটেশনের মাধ্যমে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে পারবে।

পরিচালনা বাজেটের আওতায় কেনাকাটার সীমা

পরিচালনা বাজেটের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত তিনটি স্তরে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও সংস্থার সদর দপ্তর: পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা (বছরে অনধিক ৩০ লক্ষ) এবং কার্য ও ভৌতসেবার ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা (বছরে অনধিক ৬০ লক্ষ)।

  • বিভাগীয়/আঞ্চলিক ও জেলা দপ্তর: পণ্য ক্রয়ে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা (বছরে অনধিক ২৫ লক্ষ) এবং কার্য ও ভৌতসেবায় ৮ লক্ষ টাকা (বছরে অনধিক ৫০ লক্ষ)।

  • উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর: পণ্য ক্রয়ে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা (বছরে অনধিক ২০ লক্ষ) এবং কার্য ও ভৌতসেবায় প্রতিবার সর্বোচ্চ ৬ লক্ষ টাকা (বছরে অনধিক ৩০ লক্ষ)।

উন্নয়ন বাজেট ও প্রকল্পের কেনাকাটা

উন্নয়ন বাজেট বা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকদের (PD) তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে:

  1. ‘ক’ শ্রেণি: বিভাগীয় প্রধান বা ১০০ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ের প্রকল্প। এক্ষেত্রে পণ্য ক্রয়ে ৮ লক্ষ এবং কার্যে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  2. ‘খ’ শ্রেণি: ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প। পণ্য ক্রয়ে ৮ লক্ষ এবং কার্যে ১২ লক্ষ টাকা।

  3. ‘গ’ শ্রেণি: জেলা পর্যায়ের অফিস প্রধান বা ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের প্রকল্প। পণ্য ক্রয়ে ৮ লক্ষ এবং কার্যে ১২ লক্ষ টাকা।

বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা

নতুন বিধি-৯০(৬)(খ) অনুযায়ী, জাতীয় পতাকাবাহী বাহনের (যেমন: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বা বিআইডব্লিউটিসি) ক্ষেত্রে কেনাকাটার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ক্রয়ের মূল্যসীমা সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন বাজেট নিয়ে অস্পষ্টতা

পিপিআর-এর এই নতুন নির্দেশনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে: উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ কি উপজেলা পর্যায় হতে উত্তোলন বা ব্যয় করা যাবে? যদি এর উত্তর ইতিবাচক হয়, তবে সেক্ষেত্রে আর্থিক মূল্যসীমা কত হবে তা নিয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ‘ঘ’ শ্রেণির কর্মকর্তাদের (উপজেলা পর্যায়ের অফিস প্রধান) ক্ষেত্রে উন্নয়ন বাজেটের আওতার আর্থিক সীমাটি এখনো নীতিমালায় স্পষ্ট করার দাবি রাখে।

উপসংহার: পিপিআর, ২০২৫-এর এই নতুন আর্থিক সীমা নির্ধারণের ফলে সরকারি কেনাকাটায় দীর্ঘসূত্রিতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে উপজেলা স্তরে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা ও সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

উপজেলা অফিসের ক্ষেত্রে ক্রয়সীমা কত?

পিপিআর, ২০২৫-এর সার-সংক্ষেপ অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরের জন্য আরএফকিউ (RFQ) পদ্ধতিতে ক্রয়সীমা নিচে দেওয়া হলো:

১. পরিচালনা বাজেটের (Revenue Budget) আওতায়:

  • পণ্য ক্রয়: প্রতিটি ক্ষেত্রে অনধিক ৩ লক্ষ টাকা (বছরে সর্বমোট ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)।

  • কার্য ও ভৌতসেবা: প্রতিটি ক্ষেত্রে অনধিক ৬ লক্ষ টাকা (বছরে সর্বমোট ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)।

২. উন্নয়ন বাজেটের (Development Budget) আওতায়: আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ের অফিস প্রধানরা সাধারণত ‘ঘ’ শ্রেণির আওতাভুক্ত। তবে উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে ‘ঘ’ শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা এই চার্টে আলাদাভাবে উল্লেখ করা নেই। চার্টে ‘গ’ শ্রেণি (জেলা পর্যায়ের অফিস প্রধান) পর্যন্ত পণ্য ক্রয়ে ৮ লক্ষ এবং কার্যে ১২ লক্ষ টাকার সীমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ক্ষেত্রে উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিধিমালার আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।

সংক্ষেপে (পরিচালনা বাজেট):

  • পণ্য: ৩ লক্ষ টাকা।

  • কাজ: ৬ লক্ষ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *