প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন বণ্টন নীতিমালা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপজেলা বা থানাভিত্তিক মোট ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ের এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যার আনুপাতিক হিসাবের মাধ্যমে বৃত্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি উপজেলা বা থানায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য বৃত্তির কোটা হিসাব করা হবে।
যেভাবে নির্ধারণ হবে বৃত্তির সংখ্যা
নতুন নীতিমালায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য পৃথক গণনার সূত্র দেওয়া হয়েছে।
- সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে: উপজেলা বা থানার মোট সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যার তুলনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী বৃত্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
- বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে: একইভাবে উপজেলা বা থানার মোট বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্য বৃত্তির সংখ্যা হিসাব করা হবে।
অর্থাৎ, যে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেই বিদ্যালয় তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।
ভগ্নাংশ হলে কী হবে?
নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বৃত্তির সংখ্যা নির্ধারণে ভগ্নাংশ দেখা দিলে দশমিকের পরের অংশ বিবেচনা করে পূর্ণ সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানার মোট বরাদ্দকৃত বৃত্তির সংখ্যা যাতে অপরিবর্তিত থাকে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিতের উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীসংখ্যার ভিত্তিতে বৃত্তি বণ্টনের এ পদ্ধতি চালু হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৃত্তি বণ্টনে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত অনুপাত বজায় থাকায় বৃত্তি প্রদানে একটি অভিন্ন ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।
নতুন নির্দেশিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলা ও থানাভিত্তিক ট্যালেন্টপুল বৃত্তি বণ্টন আরও সুশৃঙ্খল, তথ্যভিত্তিক এবং শিক্ষার্থীসংখ্যা-অনুপাতে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।
