সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (নবম পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি জানিয়েছে, তাদের কাজ প্রায় শেষ। মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনা কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠকে বেতন কমিশনের সুপারিশের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছে। আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে সুপারিশ চূড়ান্ত করে তা সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কার্যকরের বিষয়ে ঐকমত্য
পর্যালোচনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর হবে, নাকি আলাদা সময়ে কার্যকর হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
এ কারণে গেজেট আগস্টে প্রকাশিত হলেও নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে গণনা করার সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভাতা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা
বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভাতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করছে অর্থ বিভাগ ও পর্যালোচনা কমিটি। বিশেষ করে—
- চিকিৎসা ভাতা,
- বাড়িভাড়া ভাতা,
- যাতায়াত ভাতা,
- অন্যান্য সুবিধা পুনর্বিন্যাস
—এসব বিষয়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব
পর্যালোচনা কমিটিতে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বৃদ্ধি না করে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
এছাড়া নতুন বেতন কাঠামোর ফলে যাতে কোনো পর্যায়ের কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন বা কোনো ধরনের বৈষম্যের সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
সংশ্লিষ্ট এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময় যেসব জটিলতা ও অসংগতি দেখা দিয়েছিল, এবার সেগুলো এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ক্যাডার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা মাথায় রেখেই নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
বেতন কমিশনের পটভূমি
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়। পরে সেই সুপারিশ যাচাই-বাছাই ও বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়।
বর্তমানে সেই কমিটির সুপারিশই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের পরই গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কী প্রত্যাশা সরকারি চাকরিজীবীদের?
নতুন পে-স্কেলকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা আশা করছেন—
- ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে;
- ভাতা কাঠামো আরও যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত হবে;
- নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন;
- এবং কোনো শ্রেণির কর্মচারী নতুন কাঠামোতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
এখন সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আগস্টে সম্ভাব্য গেজেট প্রকাশের দিকে। গেজেট জারির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হবে।
